kalerkantho


দুই জেলায় নদীর পানি বিপত্সীমার ওপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দুই জেলায় নদীর পানি বিপত্সীমার ওপরে

বন্যার শঙ্কা : খোয়াই নদের পানি বিপত্সীমার ২৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবিটি হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরীবাজার এলাকা থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে দুই জেলার শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খোয়াই নদীর পানি বিপত্সীমার ২৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার থেকে খোয়াই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি ছিল ১১.৪৫ মিটার, যা বিপত্সীমার ১৮৫ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বেড়ে বিপত্সীমার ২৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। দ্রুত পানি বৃদ্ধিতে হবিগঞ্জ শহরের প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে আছে। তবে বাঁধে যাতে কোনো সমস্যা না হয় এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন সতর্ক রয়েছে। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোয়াই নদীর পানি বাড়ার বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে মনু নদের চারটি স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি গ্রামে প্রবেশ করে। এতে শরীফপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, মনুর চাতলা সেতু এলাকায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ১৭৩ সেমি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

খবর পেয়ে বুধবার দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী গোলাম রাব্বি শরীফপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, এ ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষদের জন্য জরুরিভিত্তিতে ত্রাণ প্রদানসহ আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য