kalerkantho


বিএনপি নেতাদের বৈঠক

‘খুলনার মতো গাজীপুরে হস্তক্ষেপ হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপি নেতারা মনে করছেন, খুলনার মতো গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তাঁদের ধারণা, খুলনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে নির্বাচন করেছেন। তাই তাঁকে জেতানোর দায় ছিল। গাজীপুরের বিষয়টি অন্য রকম। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে দলের তৃণমূলের নেতারা কাজ করবেন না—বিএনপি নেতাদের কাছে এমন তথ্য আছে। তাই সেখানে দলের প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে নেতারা মনে করছেন।

এসব বিষয় মাথায় রেখে গাজীপুরে আগামী ১৮ জুন আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই দলীয় প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাঠে নামতে বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুর ২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় ও গাজীপুর নগর শাখার নেতারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ওই মনোভাবের কথা জানা গেছে।

দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, গাজীপুরে ১৮ জুন থেকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। প্রচারণায় স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয় করে কাজ করবেন।

দলটির আরেক নেতা বলেন, খুলনায় প্রার্থী হতে রাজি ছিলেন না সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে পছন্দ করার কারণে সংসদ থেকে পদত্যাগ করিয়ে মেয়র প্রার্থী করেছেন। তাই তাঁকে জিতিয়ে আনা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব ছিল। এ কারণে প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনপিকে চাপে রেখে তালুকদার খালেকের জয় নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বিভক্ত। প্রার্থী হিসেবেও জাহাঙ্গীরের তেমন জনপ্রিয়তা নেই। তাই গাজীপুরে বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে দলীয় প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। উল্লেখ্য, খুলনায় কেন্দ্র দখল, কারসাজিসহ নানা অভিযোগ এনে বিএনপি শতাধিক কেন্দ্রের ফল বাতিলের দাবি জানিয়েছিল।

বিএনপির ওই নেতা আরো বলেন, আগামী ১৯ অথবা ২০ জুন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করবে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। তারা লিখিতভাবে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদকে নির্বাচনের আগে প্রত্যাহার, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়ন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার বন্ধ করা, স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানাবে। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাবেন দলের প্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দিন ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, ছাত্রদলকে গতিশীল করতে নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলছে। এ নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনায় হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লা বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও গাজীপুরের স্থানীয় নেতারা।



মন্তব্য