kalerkantho


সরেজমিন পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে

ট্রেনের ছাদ ইঞ্জিনে ঝুঁকিতে ঈদ যাত্রা

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ট্রেনের ছাদ ইঞ্জিনে ঝুঁকিতে ঈদ যাত্রা

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে আন্ত নগর ট্রেন মেঘনা এক্সপ্রেস। মুহূর্তের মধ্যে হুমড়ি খেয়ে ট্রেনের বগিগুলোতে উঠতে শুরু করে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের লোকজন। ট্রেনের ১৯টি বগিতে এক হাজার ৪০টি আসন থাকলেও তা কিছুক্ষণের মধ্যে পূর্ণ হয়ে যায়। নির্ধারিত আসনের পাশাপাশি সব বগিতে ঠাসাঠাসি করে উঠে পড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ। কোনো বগিতেই পা রাখার তিল পরিমাণ জায়গা নেই। সেই সঙ্গে অনেকে হুড়োহুড়ি করে উঠে পড়ে ট্রেনের ছাদে।

বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে যখন ট্রেনটি চাঁদপুরের উদ্দেশে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ছেড়েছে তখন যাত্রী অন্তত তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষ ট্রেনের ছাদে চেপে বাড়ি ফিরছে।

গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গিয়ে এমন চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। এদিকে ছাদের ওপর ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের কারণে গতকাল ওই ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়। অন্য সময় আন্ত নগর এই ট্রেনটি ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করত।

শুধু মেঘনা নয়, গতকাল চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে বিরতিহীন সুবর্ণ ও সোনার বাংলা ছাড়া অন্যান্য ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এভাবে গতিবেগ কমানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এর ফলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে একেকটি ট্রেন গড়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরি করে।

আগাম টিকিটে এবার ঈদুল ফিতরে ট্রেনের যাত্রা শুরু হওয়ার পর গতকালই সবচেয়ে বেশি মানুষ চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে। দুপুরের পর থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে বানের স্রোতের মতো ঘরমুখো মানুষ আসতে শুরু করে। বিকেল ৪টায় স্টেশনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

ঝুঁকি নিয়ে শুধু ট্রেনের ছাদেই নয়, বগির পাশে ও চালকের সামনে খোলা স্থানেও অনেকে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে অবস্থান নেয়। ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে করে যখন হাজারো মানুষ বাড়ি ফিরছিল তখন দেখা গেছে, সেখানে কর্তব্যরত অনেক পুলিশ, আনসার, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে ওই দৃশ্য নিজেদের মোবাইল ফোনে ক্যামেরাবন্দি করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ছাদে ওঠা বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক কাজী নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ছাদে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনিতে সর্বোচ্চ গতি ৭২ কিলোমিটার। কম গতির কারণে দেড় ঘণ্টা দেরি হবে চাঁদপুর পৌঁছাতে।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৯ বগিতে মেঘনা এক্সপ্রেসে আসন ১০৪০টি। কিন্তু টিকিট ছাড়া অনেকে গেছে।

বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ওই ট্রেনের চালকের সামনে ইঞ্জিনের ওপর (খোলা জায়গা) বসে ও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় প্রায় ৩০ জনকে। তাদের একজন সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী কামাল হোসেন। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী লিজা, দুই শিশুসন্তান তাসপিয়া (১৪ মাস) ও নামিয়া (তিন বছর) এবং ছোট বোন তাহমিনা। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত প্রসঙ্গে কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০ রমজানে স্টেশনে এসেছিলাম টিকিটের জন্য। কিন্তু পাইনি। তাই আজ ঝুঁকি হলেও সবাইকে নিয়ে যেতে হচ্ছে।



মন্তব্য