kalerkantho


নাঙ্গলকোট

‘সাজানো’ মামলায় ধর্ষিতার বাবা গ্রেপ্তার

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রীর পরিবারকে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার আদালতে মামলাটি করেছেন ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী। এ মামলায় নির্যাতিত ছাত্রীর বাবাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ছাত্রীর বাবা একজন অটোরিকশাচালক। ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে ওই ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলার বিরুলী গ্রামের আ. সাত্তার কোম্পানির ছেলে কাজী আবুল কালাম ওরফে মামুন জেলহাজতে আছে। মামুন তিন সন্তানের জনক। সে উপজেলার শীর্ষ মাদক কারবারি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। মামুনের স্ত্রীর নাম নুরুন নাহার আক্তার ওরফে নূপুর।

নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মা-বাবা কুমিল্লা শহরে ডাক্তার দেখাতে যান। এ সুযোগে কাজী আবুল কালাম মামুন সন্ধ্যার পর ওই ছাত্রীদের বাড়িতে যায়। এরপর ছাত্রীটিকে মুখ চেপে জোর করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে মামুন। এতে ছাত্রীটি অচেতন হয়ে পড়লে মামুন পালিয়ে যায়।

ছাত্রীটির মা বলেন, ‘ওই দিন রাতে কুমিল্লা থেকে বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে ঘরে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। জ্ঞান ফিরলে সে আমাদের ঘটনাটি জানায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে আমরা যাতে মামলা করতে না পারি সে জন্য টানা ছয় দিন বাড়িতে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে মামুনের পরিবার। পরে ১২ মার্চ রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে পালিয়ে আদালতে যাই। আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমার নির্যাতিত মেয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করে।’

ছাত্রীর মা বলেন, ‘গত রমজানের আগে মামলার আসামি মামুন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে আমাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে ১৩ জুন কুমিল্লার আদালতে মামুন হাজিরা দিতে যায়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামুনের স্ত্রী নুরুন নাহার কুমিল্লার আদালতে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি সাজানো নারী নির্যাতনের মামলা করে।’

গতকাল শনিবার ওই ছাত্রী বলে, ‘আবুল কালাম মামুন আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। এখন আমাদের করা মামলাটি তুলে নিতে তার স্ত্রীকে দিয়ে আমার বাবার মতো একজন নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে। মাদক ব্যবসায়ী মামুনের সহযোগীরাও আমাদের হুমকি দিচ্ছে মামলা প্রত্যাহারের জন্য। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এ ঘটনায় আমরা বিচার চাই।’

মামুনের স্ত্রী নুরুন নাহার আক্তার বলেন, ‘আমি মিথ্যা মামলা দেইনি। ওই মেয়ের বাবা আমাকে নির্যাতনের চেষ্টা করেছে। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে তারাই মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমার স্বামী মাদক কারবারে জড়িত না।’

নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় ওই ছাত্রীর বাবাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া পুলিশের তদন্তে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দেবে পুলিশ। এ জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।



মন্তব্য