kalerkantho


‘রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুতির ব্যাখ্যা তলব’

আইসিসির এখতিয়ার মানবে না মিয়ানমার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট-আইসিসি) বিচারিক এখতিয়ার না মানার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার। আইসিসি গত বৃহস্পতিবার এক আদেশে কোন প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার থেকে ছয় লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হলো তার ব্যাখ্যা এবং আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার প্রসঙ্গেও অভিমত জানাতে নেপিডোকে আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। তবে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের মহাপরিচালক য তে গতকাল শনিবার নেপিডোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। তাই তার কাছে কোনো অভিমত ও ব্যাখ্যা চাওয়ার অধিকার আইসিসির নেই। আইসিসি চাইলেও মিয়ানমার তা মেনে নেবে না।’

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন এনএলডি সরকারের দ্বিতীয় বছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে য তে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী জাতিসংঘ পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর প্রভাব সদস্য দেশগুলোর ওপর পড়ে। কোনো দেশের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসরণ করতে হলে তাকে প্রথমে নিবন্ধন এবং পরে চুক্তি সই করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। মিয়ানমারের মতো সিরিয়া ও কেনিয়ায়ও এমন ঘটনা (গণবাস্তুচ্যুতি) ঘটেছে। সিরিয়া ও কেনিয়ার ক্ষেত্রে এমন মামলা আইসিসিতে হয়েছে? না, হয়নি।’

য তে বলেন, ‘এমনকি আইসিসি তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়নি। মিয়ানমার এটি মেনে নিতে পারে না। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রও নয়। এ কারণে মিয়ানমারের ওপর আইসিসির কোনো প্রভাব নেই।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে আইসিসি বিচারিক এখতিয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে আইসিসির প্রসিকিউটর গত ৯ এপ্রিল আইসিসি বিধির ১৯(৩) ধারা অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন। বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হওয়ায় দেশটির ওপর আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে মিয়ানমারের কাছে আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুতির প্রেক্ষাপটের ব্যাখ্যা চাওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।

আইসিসির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এ মাসের প্রথমার্ধে প্রসিকিউটরের অনুরোধ বিষয়ে গোপনীয় অভিমত আদালতে উপস্থাপন করেছে। আইসিসি যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে তার একজন সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সদস্য নয় এমন দেশের ওপরও তার বিচারিক এখতিয়ার আছে, তবে তা বিশ্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত হতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও আদালতের সদস্য না হওয়ার যুক্তিতে বিচার এড়িয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর আইসিসি বিচারিক এখতিয়ার পাবে।



মন্তব্য