kalerkantho


প্রতিবন্ধীদের জন্য খেলার মাঠ

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে মাঠ প্রস্তুত কাজ

নিখিল ভদ্র   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর সাত বছরেও চালু হয়নি প্রতিবন্ধীদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ। দেড় বছর আগে সাইনবোর্ড ঝোলানো হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে মাঠ প্রস্তুতের কাজ। ফলে সংসদ ভবনসংলগ্ন খেলার মাঠটি প্রতিবন্ধীদের জন্য আর কত দিনে খুলে দেওয়া যাবে তা কেউ বলতে পারছে না।

বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য রাজধানীতে একটি উন্মুক্ত খেলার মাঠ করার ঘোষণা দেন। এর জন্য আসাদ গেটসংলগ্ন মিরপুর রোডের পাশে জাতীয় সংসদ ভবনের সীমানাপ্রাচীরের ভেতর চার একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ওই মাঠ তৈরির কাজ শুরু করে। আগাছা পরিষ্কারের পর একটি গেট করে সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়। কিন্তু এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। সম্প্রতি ওই গেটও ইটের গাঁথুনি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন কাজ শুরু করলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অনুমতি না পাওয়ায় কাজের অগ্রগতি হয়নি। এ ক্ষেত্রে স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশার কোনো ব্যত্যয় হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এরপর মন্ত্রণালয়, সংসদ সচিবালয় ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের মধ্যে ফাইল চালাচালিতে আটকে যায় মাঠ প্রস্তুতের কাজ। রাশেদ খান মেনন চলতি বছর সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠটির বিষয়ে নজর দেন। তিনি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন। স্পিকারও দ্রুত মাঠটি চালুর বিষয়ে তাঁর আগ্রহের কথা জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর মাঠটি চালু করতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। আর মাঠ করা হলেও সেখানে বিশেষ কোনো স্থাপনা হচ্ছে না। ফলে সংসদ ভবনের মূল নকশার পরিপন্থী হবে, এমনটি ভাবার কারণ নেই। এ ক্ষেত্রে সংসদ সচিবালয়কে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোমিনুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতির পর মাঠটির জন্য একটি নকশা প্রণয়নে স্থাপত্য অধিদপ্তরকে বলা হয়। কিন্তু স্থাপত্য অধিদপ্তর জানায়, বরাদ্দ করা জায়গাটি সংসদ ভবনের। সংরক্ষিত ওই এলাকায় কিছু করার জন্য স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠানোর পর উত্তর না পাওয়ায় কাজটি আটকে আছে। তবে দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে মাঠের চারপাশ ঘুরে দেখা গেছে, সংসদ ভবনের সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে ৪ দশমিক ১৬ একর জায়গাজুড়ে মাঠটির বিভিন্ন স্থান এখনো উঁচু-নিচু আর ঝোপ-জঙ্গলে ভরে আছে। প্রাচীরের মধ্যে সাইনবোর্ড ছাড়া মাঠের কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। কালো সাইনবোর্ডে সাদা রঙে বড় করে লেখা রয়েছে, ‘শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ’। কবে নাগাদ মাঠটি প্রস্তুত হবে তা বলতে পারছে না কেউ। এমনকি মাঠটি ব্যবহারে এখনো কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। তবে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে মাঠে প্রতিবন্ধীদের জন্য টয়লেট নির্মাণ, মাঠের পাশে হুইলচেয়ার বসানো, অভিভাবকদের বসার জায়গা, মাঠে প্রবেশের নিরাপদ দরজাসহ পরিবেশবান্ধব অন্য আধুনিক বিষয়াদি যুক্ত করা হবে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য মাঠের কার্যক্রম শুরু করায় এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মানববন্ধন করেছিল ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, হিউম্যান রাইটস ডিস-এবিলিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, সুর ও সংগীত চক্র, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদ, ডিস-এবিলিটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব অটিস্টিক চিলড্রেনসহ বেশ কটি সংগঠন। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মাঠ প্রস্তুতের কাজ আটকে যায়। জায়গাটিতে বিশেষ কোনো স্থাপনা হবে না। শুধু মাঠটিকে প্রতিবন্ধীদের উপযোগী করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংসদ ভবনের মূল নকশার ব্যত্যয় ঘটবে না।



মন্তব্য