kalerkantho


দুই দিনের ভরতনাট্যম উৎসব শুরু

নাটমণ্ডলে ধ্রুপদী নৃত্যের ঝংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



নাটমণ্ডলে ধ্রুপদী নৃত্যের ঝংকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডল মিলনায়তনে বিপুল মানুষের উপস্থিতি। বাইরে মেঘমেদুর হাওয়া, ভেতরে ধ্রুপদী নৃত্যের অপূর্ব লহরী। শাস্ত্রীয় নৃত্যের ঝংকার আর নূপুরের ছন্দের সঙ্গে অভিব্যক্তির মিশেলে নৃত্যশিল্পীরা পরিবেশন করলেন ভরতনাট্যম। ভারতের তামিলনাড়ু থেকে উৎপত্তি হওয়া এই নৃত্যের যে এ দেশেও প্রচুর দর্শক রয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল মিলনায়তনভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে। এমন চমৎকার আবহের মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার নৃত্য সংগঠন কল্পতরুর আয়োজনে শুরু হয়েছে দুই দিনের ‘রঙ্গশ্রী’ শিরোনামের ভরতনাট্যম উৎসব।

নাটমণ্ডলে উদ্বোধনী সন্ধ্যায় গতকাল ছিল শুধুই নৃত্য পরিবেশনা। আলাপন ছাড়াই মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য নাসরীন আহমেদ, নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহমেদুল কবীর, ভারতের নৃত্য সমালোচক সুনীল কোঠারি, লীলা ভেনকারটরামান, মনিপুরী নৃত্যগুরু কলাবতী দেবী ও কল্পতরুর আর্টিস্টিক ডিরেক্টর লুবনা মরিয়ম।

প্রথমেই নিজের পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন কল্পতরুর নৃত্যশিক্ষক অমিত চৌধুরী। শুরুতেই তিনি পরিবেশন করেন আল্লারিপু। এটি ভরতনাট্যম পরিবেশনার প্রথম ধাপ। তেলেগু শব্দ আল্লারিপু অর্থ প্রস্ফুটিত হওয়া। শিল্পী নমস্কারের ভঙ্গিতে মাথার ওপরে দুই হাত তুলে ছন্দের সঙ্গে দৃষ্টি ও গ্রীবার কাজ করেন। এরপর তিনি রঙ্গদেবতা, দর্শক, সংগীতশিল্পী সবার কাছ থেকে আশীর্বাদ নেন। রূপকতালে সাত মাত্রার তালের সঙ্গে নিজের পরিবেশনা শেষ করেন তিনি। এরপর তিনি পরিবেশন করেন নারাসিমহা কৌতুভাম। অনন্য নৃত্যাভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক-হৃদয় স্পর্শ করেন শিল্পী। তাঁর মূখাভিনয়, মুদ্রাবিন্যাস ও দ্রুত পায়ের কাজের সঙ্গে ছিল কল্যাণী ও নবরত্নমালিকার মতো অল্প প্রচলিত রাগের ব্যবহার। এরপর তিনি পরিবেশন করেন শিবাপাদাম। তিল্লানা দিয়ে নিজের পরিবেশনা শেষ করেন অমিত চৌধুরী। এই নৃত্যাংশে যতির অংশগুলো বিলম্বিত, মধ্য ও দ্রুতলয়ে পরিবেশন করা হয়। তার সঙ্গে ছিল নানা ধরনের মুদ্রা, পাদকর্ম, শিরকর্ম, দৃষ্টিকর্ম, নাসকর্ম ও ভ্রূকর্ম।

দিনের দ্বিতীয় ও শেষ পরিবেশনা ছিল অর্থি আহমেদের। কল্পতরুর এই নৃত্য শিক্ষক উপস্থাপন করেন দেবনামা। নৃত্যের নানা ছন্দে দেবতার প্রতি নিজের অর্ঘ্য পরিবেশন করেন শিল্পী। দুই শিল্পীর নৃত্যের কারিশমা উপভোগ করেন দর্শক-শ্রোতারা। আজ সোমবার উৎসবের শেষ দিনে থাকছে কল্পতরুর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা।



মন্তব্য