kalerkantho


যেখানে চোখ সেখানেই ব্যানার ফেস্টুন পোস্টার

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



উপায় নেই, চোখ যেখানেই ফেলুন না কেন ভোটপ্রার্থীর ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা পোস্টার দেখতেই হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী নগরের চারদিকে এমনই আয়োজন করে রেখেছেন প্রার্থীরা। ভোটের নগরী কেমন হয়, তা টের পাচ্ছে নগরবাসী। নগরের তেরোখাদিয়া স্টেডিয়ামের সামনে গোলচত্বর ঘিরে কমপক্ষে পাঁচ হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। ওই এলাকায় হেভিওয়েট দুই মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ছাড়াও রয়েছে ৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার। এই মোড়ের দক্ষিণ দিকে ৩ নম্বর আর উত্তর দিকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড। ফলে দুটি ওয়ার্ডের ১৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে একাকার মোড়টি। মোড়ের বিদ্যুতের পিলার, গাছের ডাল ও সড়ক ডিভাইডারও রেহাই পাচ্ছে না প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার যন্ত্রণা থেকে।

ওই মোড়ে চা পান করছিলেন নূরুল ইসলাম। নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের দিকে তাকিয়ে পাশের আরেক ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে তিনি বলছিলেন, ‘ভাই, এত যে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙ্গানো আছে তাতে টাকা খরচ হয়নি। প্রতিটির দাম যদি পাঁচ টাকা করি ধরি, তাহলেও তো ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটানো আছে। তাহলে নগরজুড়ে প্রচার করতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে?’

জবাবে পাশের ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, এখন প্রচারেই সব। তাই যত পারছে বেশি করে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারের মাধ্যমেও। বাড়ি বাড়ি যাওয়ার চেয়ে যত বেশি এগুলো টাঙ্গানো যাবে তত বেশি প্রচারণা হবে। সেটি মনে করেই হয়তো এগুলো বেশি করে টাঙ্গানো হচ্ছে।’

রাজশাহী নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকার ‘প্রজাপতি ডিজিটাল সাইন’ ল্যাবের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিটি তিন দশমিক তিন স্কয়ার ফিটের একটি করে ফেস্টুন তৈরি করতে খরচ হচ্ছে গড়ে ১৭১ টাকা। প্রতিটি পোস্টার লেমেনেটিংসহ তৈরি করতে খরচ হয় গড়ে সাত টাকা, একটি করে হ্যান্ডবিল বা লিফলেটের পেছনে খরচ হচ্ছে দেড় টাকা করে এবং একটি করে ব্যানার তৈরিতে খরচ হচ্ছে গড়ে ৫০০-১০০০ টাকা বা তার চেয়েও বেশি।’

এদিকে গত মঙ্গলবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচারণা শুরু হয়। এর পর থেকে নগরের সবখানে লাখ লাখ পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও তাঁদের নেতাকর্মীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে হ্যান্ডবিল বা লিফলেট বিতরণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী নগরে সব মিলিয়ে এসব নির্বাচনী প্রচারণায় এরই মধ্যে প্রার্থীরা ব্যয় করে ফেলেছেন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা।

ভোটাররা বলছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচ মেয়র ও ২১২ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার কিংবা হ্যান্ডবিল নয়, উড়াচ্ছেন টাকা। 

নগরজুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার লক্ষ করা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের। বাদ যাচ্ছেন না বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও। তবে লিটনের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার নগরজুড়ে এত বেশি টাঙানো হয়েছে যে জায়গাই পাচ্ছে না বুলবুলের নেতাকর্মীরা।

এ নিয়ে বুলবুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙানোর জায়গা দেওয়া হচ্ছে না। এতে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হচ্ছে না।’

তবে লিটন বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। এখানে কাউকে সুবিধা দেওয়ার বিষয় আসবে কেন। যারা যত বেশি প্রস্তুতি নিতে পারবে, তারা প্রচারণার দিক থেকে ততই এগিয়ে যাবে—এটিই নিয়ম।’

 

 



মন্তব্য