kalerkantho


অখ্যাত দুই অভিনয় শিল্পী ঘিরে রহস্য

জন্মদিনে ডেকে নেওয়া তরুণী আটক, অন্যজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



অখ্যাত দুই অভিনয় শিল্পী ঘিরে রহস্য

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খানকে নারীঘটিত কোনো কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার আগে জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে বনানী চেয়ারম্যানবাড়ির একটি বাসায় ডেকে নেয় এক তরুণী। আফরিন নামের ওই তরুণী টেলিভিশন নাটকের অভিনেত্রী।

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জঙ্গল থেকে গত মঙ্গলবার মামুনের লাশ উদ্ধারের পর যশোর থেকে আফরিনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই দিন উত্তরা থেকে আটক করা হয় রহমত উল্লাহ নামের এক অভিনেতাকে। এ ঘটনায় বনানী থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল বুধবার আদালতের নির্দেশে তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামুন অপরাধবিষয়ক ডকু ফিকশনে (সত্য ঘটনা অবলম্বনে নাটক) আফরিন ও রহমত উল্লাহর সঙ্গে অভিনয় করতেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামুনকে বনানীতেই হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পেট্রল ঢেলে মুখমণ্ডল আগুনে পুড়িয়ে কালীগঞ্জের জঙ্গলে ফেলে আসা হয়। বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে এ খুনের ঘটনা ঘটে বলেও তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে প্রেম, অনৈতিক সম্পর্ক বা অন্য কোনো বিরোধে মামুনকে খুন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে মুখ খুলছেন না তদন্তকারীরা। একটি সূত্র জানায়, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে এই খুন হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ডিবির উপকমিশনার (ডিসি-পূর্ব) মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘এসবির কর্মকর্তা মামুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রহমত উল্লাহ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামুন নিখোঁজ হওয়ার দিন তাঁর সঙ্গে রহমতও ছিল। প্রাথমিক তদন্ত ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, রহমত উল্লাহর তথ্যের ভিত্তিতেই মামুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখন জানার বিষয় কিভাবে, কেন, কোথায় মামুনকে হত্যা করা হয়। হত্যার নেপথ্যে কারা রয়েছে। রহমত এরই মধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, এ খুনের পেছনে নারী, না অন্য কিছুর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। আফরিনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তিনি এ খুনের ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করছেন।

সূত্র জানায়, গত রবিবার ঢাকা থেকে মামুন নিখোঁজ হওয়ার পরই তাঁকে উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে ডিবি। মঙ্গলবার লাশ উদ্ধারের পর বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর ডিবি সে মামলায় রহমতকে গ্রেপ্তার দেখায়।

গাজীপুর এসবির পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মামুনকে রবিবার রাতে ঢাকায় হত্যা করা হয়। সোমবার লাশ বস্তায় ভরে গাড়িতে করে গাজীপুরে নিয়ে আসা হয়। বিকেলে শিমুলতলী থেকে পাঁচ লিটার পেট্রল কেনে ঘাতকরা। রাতে রায়েরদিয়ার জঙ্গলে গিয়ে পেট্রল ঢেলে লাশের মুখমণ্ডল পুড়িয়ে বিকৃত করে ফেলে রেখে যায়।’

মামুনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামুন বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অপরাধবিষয়ক নাটকে অভিনয় করতেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কোনো সমস্যার কথা স্বজনরা জানত না। তাঁর বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল।



মন্তব্য