kalerkantho


দেশে কারফিউ গণতন্ত্র চালু করেছিলেন জিয়া : শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি    

৩ আগস্ট, ২০১৭ ০১:০১



দেশে কারফিউ গণতন্ত্র চালু করেছিলেন জিয়া : শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ

ছবি : কালের কণ্ঠ

বহুদলীয় গণতন্ত্রের বদলে বাংলাদেশে কারফিউ গণতন্ত্র চালু করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাঁর কর্মকাণ্ড থেকেই সেটা বোঝা গিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী কর্ণেল ফারুক-রশীদও তাদের সাক্ষাতকারে সে কথাই বলেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্ক সিটির উডসাইডের একটি মিলনায়তনে শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত শহীদ শেখ কামালের ৪৩ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি ড. গোলাপ বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী, আবদুল আলীমকে মন্ত্রী বানানো, একাত্তরের কুখ্যাত ঘাতক গোলাম আজমকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার মধ্য দিয়েই জিয়াউর রহমান যে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন, তার প্রমাণ রেখে গেছেন।  

তিনি বলেন, জিয়াই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর হত্যার বেনিফিসারী। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি আর পদোন্নতি দিয়ে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করল। জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না করে তাদের ইনডেমনিটি দিয়ে দেয়। খুনিদের পুরষ্কৃত করে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে এবং যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো তাকে ভুলুন্ঠিত করার জন্যই ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটনো হয়।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াউর রহমান ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে হাজার হাজার সৈনিক-সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে। যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের পুনর্বাসিত করে। রক্তের মধ্যে দিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ আবার চলে যায় পরাজিত শক্তির হাতে। এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের মানুষ হারিয়েছিল তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সম্ভাবনা, সব আশা-ভরসা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন করার পর যুদ্ধবিদ্ধস্ত নতুন দেশটিকে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য কাজ শুরু করেন।  

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জেনারেল এরশাদও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। তিনিও বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের পুনর্বাসিত করার পাশাপশি রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়েছেন। জিয়া-এরশাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বেগম জিয়াও যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করেছেন।  

এখন লন্ডনে বসে আইএস’র সাথে মিটিং করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা ২১ বছর দেশের মানুষকে শোষন করে দেশকে পিছনে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন,  যদি বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকতেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ সারাদিশ্বের একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত পেত।

ড. গোলাপ বলেন, ভাগ্যক্রমে ঐদিন বঙ্গবন্ধু’র দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে গেলেও এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাসহ মোট ২১ বার চেষ্টা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার। আল্লাহর রহমতে আওয়ামী লীগসহ দেশবাসীর দোয়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা বেঁচে রয়েছেন।  

তিনি আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা উল্লেখ করে এবিষয়ে প্রবাসীদের চোখ কান খোলা রাখার পরামর্শ দেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রবাসীরা অসাধারণ অবদান রাখছে উল্লেখ করে তাদের অবদানকেও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারে দণ্ডিত এবং যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে বিদেশে অবস্থানকারীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আইনের কাছে সোপর্দ করার দাবি জানান। প্রবাসীদের প্রতিনিধি হিসেবে ড. আব্দুস সোবহান গোলাপকে তার নিজ এলাকা মাদারীপুর থেকে সংসদে মনোনয়ন দেয়ারও দাবি জানান হয় সমাবেশ থেকে।

এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুবকর সিদ্দিক এমডি ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ফারুক আহমেদের যৌথ সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সহ-সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হাজি এনাম (দুলাল মিয়া), প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী হিন্দাল কাদির বাপ্পা, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন আজমল ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরী।


মন্তব্য