kalerkantho


বার্লিনে সুন্দরবন রক্ষা এবং বিকল্প জ্বালানি সম্ভাবনা শীর্ষক সম্মেলন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ আগস্ট, ২০১৭ ১৯:৪১



বার্লিনে সুন্দরবন রক্ষা এবং বিকল্প জ্বালানি সম্ভাবনা শীর্ষক সম্মেলন

আগামী ১৯ ও ২০ আগস্ট ২০১৭ জার্মানির বার্লিন শহরে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বার্লিনে সুন্দরবন রক্ষা এবং বাংলাদেশের বিকল্প জ্বালানি সম্ভাবনা শীর্ষক ইউরোপীয় সম্মেলন।  

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম চলছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সিডর, আইলার মত প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলের একমাত্র রক্ষাকবচ এবং সেই সঙ্গে লাখো বনজীবি মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখে।  

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে সুন্দরবনের পাশাপাশি মানুষের জীবন ও জীবিকা সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। তাই শুধু দেশেই নয় বরং ইউরোপসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি পেশাজীবী, ছাত্র-শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, পরিবেশবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন এবং রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে নানাভাবে উদ্যোগী হয়েছেন। বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্বলিত বিশ্লেষণের পাশাপাশি সভা-সমাবেশের মাধ্যমে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি দেশে-বিদেশে দিন দিন আরো জোরালো হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির নেতিবাচক দিকগুলো বিবেচনা করে ইতোমধ্যে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ নির্বিশেষে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা থেকে সরে এসে পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ ও ২০ আগস্ট, ২০১৭ বার্লিনে "সুন্দরবন রক্ষা এবং বাংলাদেশে বিকল্প জ্বালানি নীতির সম্ভাবনা" বিষয়ক এক ইউরোপীয় কনফারেন্স আয়োজিত হবে।  

এতে জার্মানীর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিবেন। কনফারেন্সে সুন্দরবনের উপর কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নেতিবাচক প্রভাব এবং বাংলাদেশে বিকল্প জ্বালানির বাস্তবতা ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষক এবং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি পরিবেশ আন্দোলনকারীরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।

 

কনফারেন্সে বাংলাদেশ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্রীনপিসের বার্লিনের সমন্বয়কারী মিসেস কেসটিন ডোরেনব্রুক, বার্লিন হুমবল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভীলফ্রেড এন্ডলিশার, জার্মান পরিবেশ ফোরামের প্রধান ইয়ুরগুন মায়ার, সাংবাদিক-লেখক ক্যাথারিনা ফীঙ্কেসহ আরো অনেকে আলোচনা করবেন।  


মন্তব্য