kalerkantho


'বিশ্বে শান্তির সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ'

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি    

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:৪৬



'বিশ্বে শান্তির সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ'

ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই শান্তির সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে সামনের সারিতে থেকে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা এবং শান্তি বিনির্মাণ কর্মসূচিতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে ‘শান্তির সংস্কৃতি’র উপর সংস্থাটির সাধারণ বিতর্কে ভাষণ প্রদানকালে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

মোমেন তার ভাষণে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে শান্তির সংস্কৃতিকে প্রোথিত করেছিলেন। আজ থেকে ৪২ বছর আগে জাতিসংঘে প্রদত্ত প্রথম বাংলা ভাষণে জাতির পিতা সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পেশী শক্তির ব্যবহার বর্জন এর মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করেছিলেন।

শান্তির সংস্কৃতির অগ্রসরতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শকে তার সরকার ও তার রাজনৈতিক মতাদর্শের কেন্দ্রীয় নীতি হিসেবে ধারণ করেছেন। তার প্রথমবারের সরকারের সময় ১৯৯৭ সালে তিনিই প্রথম শান্তির সংস্কৃতি ধারণাটি প্রস্তাব করেন। সেই থেকে বাংলাদেশ স্বপ্নদর্শী ও সার্বজনীন এই শান্তির সংস্কৃতি ধারণার পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষে এর প্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রসমূহের উপর গৃহীত সকল ঘোষণা ও কর্ম-পরিকল্পনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।  

উল্লেখ্য ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে প্রতিবছরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘শান্তির সংস্কৃতি’র প্রস্তাবসমূহ পাশ হয়। এই সভায় রাষ্ট্রদূত মাসুদ আরও জানান, বাংলাদেশ শান্তি বিষয়ক শিক্ষার উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী স্কুলের পাঠ্যসূচিতে শান্তি সম্পর্কিত পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীগণ শৈশবকাল থেকেই এ বিষয়ে শিক্ষা পায়।  

তরুণদের মনে শান্তির সংস্কৃতির বীজ বপনের ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয়ের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে তিনি বলেন, স্কুলে যাওয়ার আগেই পরিবার থেকে শান্তির সংস্কৃতির শিক্ষা শুরু করা উচিত। পারিবারিক এই শিক্ষাই সমাজ থেকে দেশ, দেশ থেকে বিশ্বব্যাপী শান্তির সংস্কৃতি ও সহনশীলতার আন্দোলনকে বেগবান করতে পারে।

 

এই ‘শান্তির সংস্কৃতি’র সাধারণ বিতর্ক অংশে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পিটার থমসন। এ সভায় কী-নোট স্পীচ প্রদান করেন নোবেল লরিয়েট বেটি উইলিয়ামস। এছাড়া এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে মোডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও জাতিসংঘের সাবেক সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী।  

ইউনেস্কোর সাবেক মহাপরিচালক ও কালচার অফ পিস ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর ফেডারিকো মেয়ার, শিশুদের প্রতি সহিংসতা বিরোধী জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি মারতা স্যানতোজ পাইজ ও ইউনিসেফের প্রতিষ্ঠান আর্লি চাইল্ডহুড পিস কনসোর্টিয়াম এর চেয়ারপরসন রিমা সালাহসহ এনজিও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ এবং সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিবর্গ এই ইন্টারেক্টিভ প্যানেল আলোচনা পর্বে অংশ নেন।


মন্তব্য