kalerkantho


কাতারে ইউএস-বাংলার উদ্বোধনী ফ্লাইট ও একটি ‘ছোটলোকি কাণ্ড’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:৪৩



কাতারে ইউএস-বাংলার উদ্বোধনী ফ্লাইট ও একটি ‘ছোটলোকি কাণ্ড’

কাতার-বাংলাদেশ রুটে চালু হওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইটের জন্য দোহা বিমানবন্দরে অপেক্ষমান প্লেন

১ অক্টোবর রাতে কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উদ্বোধনী ফ্লাইট স্বাগত জানানোর জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। প্রথম ফ্লাইটটি অবতরণের পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট, কেবিন ক্রু এবং একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (সঙ্গত কারণে তার নাম এবং পদবী বলছি না) প্লেন থেকে নেমে টার্মিনালে এলেন এবং কেক কাটার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন।

 

সেখানে উপস্থিত একজন কাতারপ্রবাসী ব্যবসায়ী ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পাশে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করলেন, আমি বছরে কয়েকবার দেশে যাই, কিন্তু কাতার এয়ারওয়েজে যাই। জবাবে খোশমেজাজে ওই কর্মকর্তা বললেন, এখন থেকে আমাদের ফ্লাইটে যাবেন আশা করছি।

তোয়াজ-তেলের গন্ধ পেয়ে এবার ওই ব্যবসায়ী একগাল হেসে বললেন, আমি তো বিজনেস ক্লাসে যাই।  

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই কর্মকর্তা তখন বিনয়ী ভঙ্গিতে বললেন, আমাদেরও বিজনেস ক্লাস আছে, আশা করি আপনার ভালো লাগবে।  

এবার নিজেকে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে আরও মরিয়া হলেন ব্যবসায়ী মহাশয়। ভ্রু কুঁচকে কিছু নাম্বার উচ্চারণ করে বললেন, আপনাদের প্লেনগুলো তো মনে হয় সেভেন সেভেন... কতো যেন! আমি তো থ্রি থ্রি... ছাড়া যাই না।  

তার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, দুনিয়ার সব এয়ারলাইন্সের যাবতীয় প্লেনের মডেল তার মুখস্ত। কোন মডেলের প্লেনে আসনগুলো কতো ইঞ্চি উচ্চতার- সব তিনি জানেন। অথচ তিনি কোনো প্লেনেরই পুরো মডেল নম্বর বলতে পারছিলেন না।

এই প্রবাসী ব্যবসায়ীর এমন মূর্খতাপূর্ণ আচরণ দেখে সদ্য বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মকর্তা যেন সব প্রবাসী ব্যবসায়ী সম্পর্কে বিরূপ ধারণা না নেন, সেজন্য আমি অন্য প্রসঙ্গ তুলে কথার মোড় ঘুরিয়ে দিলাম।  

বিদেশের মাটিতে সদ্য চালু হওয়া একটি বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দেওয়া এবং এমন উদ্যোগের প্রশংসা করার যে সাধারণ ভদ্রতা- এটি না করে নিজেকে উৎকটভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত ছিলেন ওই ব্যবসায়ী।  

প্রবাসে এমন আরও অনেক ব্যবসায়ী দেখেছি, যারা দেশ থেকে খালি হাতে এসে এখানে দিনে দিনে রিয়ালের পাহাড় গড়ে অর্থে-বিত্তে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, কিন্তু সেই আগের মতো এখনও ‘গ্রাম্য অশিক্ষিত’ এবং অভদ্র রয়ে গেছেন। তবে শহুরে ছোঁয়ায় নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে বাড়িয়ে কথা বলা বা চাপাবাজিতে এরা বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বকবকানি করতে গিয়ে ভুল তথ্য, অশুদ্ধ উচ্চারণ আর তাদের মুখভঙ্গিতে যে সব ছোটোলোকি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে- এই বোধ তাদের থাকে না।  

গত কয়েকবছরের সাংবাদিকতা জীবনে এই প্রজাতির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমার (রসাত্মক এবং বিব্রতকর) বৈচিত্রময় নানা অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেসব এখনও বলবার সময় হয়নি বলে লেখার লোভ সামলে রাখছি।
লেখক:  তামীম রায়হান, গণমাধ্যম গবেষক, মানবাধিকার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কাতার
 


মন্তব্য