kalerkantho


লন্ডনে বিয়ানীবাজারের পিএইচজি হাইস্কুলে শত বর্ষপূর্তি উৎসব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৫৪



লন্ডনে বিয়ানীবাজারের পিএইচজি হাইস্কুলে শত বর্ষপূর্তি উৎসব

পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সি ব্যাংকুইটিং হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ (পিএইচজি) উচ্চ বিদ্যালয়ে শত বর্ষপূর্তি উৎসব। অনুষ্ঠানটি বিপুল মুগ্ধতায় উপভোগ করেছেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানস্থলের সাত শতাধিক অতিথি আর এলবি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার দেখা দেশ-বিদেশের হাজারো দর্শক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জানিয়েছেন তাদের ভালো লাগার কথা। তাঁরা বলছেন, সাজানো-গোছানো, পরিকল্পিত এবং পরিচ্ছন্ন এই পুনর্মিলনী উৎসব বাঙালি কমিউনিটির অনুষ্ঠান আয়োজনের ড়্গেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।  

অনুষ্ঠান শুরু হলো যেভাবে : উদযাপন কমিটির আহবায়ক আসেক আহমদ আসুকের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সদস্য সচিব শিহাব উদ্দিন কাজল ও এম মাসুদ আহমদের প্রাণবন্তসঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরম্নতেই উদযাপক কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সাংস্কৃতিক উপ কমিটির সদস্য বিনায়ক দেব জয়ের নেতৃত্বে উদযাপন কমিটির ৭৫ সদস্যের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। উদযাপক কমিটির আহবায়ক আসেক আহমদ স্বাগত বক্তব্যে সাদর অভ্যর্থনা জানান সবাইকে।  

শতবর্ষে পা দেওয়া পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সুহূদ-শুভাকাঙ্খী ও সাবেক শিক্ষার্থী যারা আর বেঁচে নেই তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসময় বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় গত ৩০ অক্টোবর কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ত্রাণ সহায়তা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও বিয়ানীবাজারে ছয় তরুণকে।

পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে গৌরবের ১০০ বছর : পঞ্চখ- হরগোবিন্দ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষক একটি মূল্যবান ইতিহাসনিষ্ঠ স্মারকগ্রন্থ। আলী আহমদ বেবুলের সম্পাদনায় প্রকাশিত এই স্মারকের মোড়ক উন্মোচন ছিলো অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

স্মারক প্রকাশনা পর্ব শেষে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক স্মৃতিচারণ পর্ব। ১৯৪৫ থেকে ২০০৯। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী এই ছয় দশকের ৪৯টি ব্যাচের পরিচিতি ও স্মৃতিচারণের আবেগে আপস্নুত হয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।  

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন যারা : উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন  বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় পবিত্রনাথ দাসের নাতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডোমানী সিস্টেম ইনক শেলটন এর বোর্ড অব চেয়ারম্যান ড. শান্তুনু দাস ,বিশেষ অতিথি ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস এর মেয়র জন বিগস, ডেপুটি মেয়র সিরাজুল ইসলাম স্পীকার সাবিনা আক্তার, বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর, পিএইচজি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়েরর পরিচালনা পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি ও ক্রীড়া সংগঠক মো: আব্দুল জলিলসহ লন্ডনের কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

শিক্ষামন্ত্রী ও রুশনারা আলী এমপির ভিডিও বার্তা :  উৎসবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও স্কুলের সাবেক শিড়্গার্থী, বাংলাদেশের সফলতম শিক্ষামন্ত্রী নুরম্নল ইসলাম নাহিদ এমপি এক ভিডিও বার্তায় যুক্তরাজ্যে এমন আয়োজনের জন্য উদযাপক কমিটির সবাইকে আন্ত্মরিক ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি বলেন, স্কুলের শতবর্ষে একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে আমিও গৌরবের অংশীদার। শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে আমার পক্ষ থেকে উপহার হচ্ছে পিএইচজি স্কুলের সরকারিকরণ। অন্য এক ভিডিও বার্তায় প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি এমপি রুশনারা আলী অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন।  

কৃতজ্ঞতা স্মারক : উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা স্মারক তুলে দেয়া হয় ড. শান্তনু দাস এবং প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলী আহমদের হাতে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে বসবাসরত স্কুলের সাবেক শিক্ষক আব্দুল আহাদ, বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথি পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর, স্কুলের গভর্নিং বডির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষার্থী ডা. মতিন উদ্দিন আহমদ এবং সবচেয়ে জুনিয়র শিক্ষার্থী ফখরম্নল ইসলাম সিপু এবং রাসেল আহমদকে কমিটির পক্ষ থেকে ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরো যারা বক্তব্য রাখেন : অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলার খালিশ উদ্দিন, কাউন্সিলার পারভেজ আহমদ, কাউন্সিলার সামসুল আলম সেলিম, আপাসেন এর সিও মাহমুদ হাসান এমবিই, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের, জালালবাদ এসোসিয়েশন আমেরিকার সভাপতি বদরম্নল খান, যুক্তরাজ্যের আহবায়ক মুহিবুর রহমান মুহিব, শাহনুর খান, মুস্তাক আহমদ, শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, মাইনুল আলম বুলবুল, সাংবাদিক নজরম্নল ইসলাম বাসন। এছাড়া প্রতিটি ব্যাচের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব সামছ উদ্দিন খান, আজির উদ্দিন, ডা. নজরুল ইসলাম, আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব, প্রফেসর আব্দুল মালিক, নুরুল ইসলাম মছা, হাবিবুর রহমান, মুজিবুর রহমান, ময়নুল হক, ফারুক যোশী, মুস্তাফিজুর রহমান, খায়রুল মজুমদার বকুল, দেলোয়ার হোসেন, হাবিবুর রহমান ময়না, ইসলাম উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম, কয়েছুজ্জামান রুনু, আবুল কাশেম, সাহেদ আহমদ, আকবর হোসেন রবিন, আশফাক আহমদ, ব্যারিস্টার জহির, মুজাহিদুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, দেলওয়ার হোসেন দিলু, শাহ আলম, তৌফিক চৌধুরী,আব্দুল মানিক আলী, ফাজায়েল আহমদ তারেক, কামরুল হোসেন মুন্না, মুজিবুর রহমান, মানিক হোসেন, এমদাদুল হক কাজল, শফিকুল হক এবাদ, দেলওয়ার হোসেন, টিপু আহমদ, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম রাসেল, মারুফ আহমদ,আব্দুস সামাদ, ফারহান হোসেনসহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানের আরো আয়োজন : বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে আগত সব অতিথিকে ব্যাগভর্তি উপহারে বরণ করে নেওয়া হয়। এসব উপহারের মধ্যে ছিলো মগ, কলম, স্মারকগ্রন্থ এবং স্মারকব্যাজ। এছাড়া প্রত্যেক নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও উদযাপন কমিটির সদস্যদের জন্য ছিলো স্ব-স্ব নামের ফটোযুক্ত আইডি ব্যাজ। অনুষ্ঠানে ১০ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। ছিলো উত্সব সংগীতও। সাংস্কৃতিক উপকমিটি পিএইচজি হাইস্কুলকে নিয়ে চমত্কার এই উত্সব সংগীতটি তৈরী করে। এছাড়া অনুষ্ঠানের নান্দনিক মঞ্চ, পিএইচজি স্কুলের গেটের আদলে নির্মিত ফটো ফ্রেম,  চারম্নশিল্পী আব্দুস সামাদ এবাদের নিপুন হাতে তৈরী হয়েছে পঞ্চখ- হরগোবিন্দ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় পবিত্রনাথ দাস’র প্রতিকৃতি অনুষ্ঠানকে শৈল্পিক করে তোলায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। নৈশভোজের শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনা মন জয় করে দর্শকদের।

সফল আয়োজনের নেপথ্যে : নিবন্ধন উপকমিটির নৈপুন্যে পুনর্মিলনীতে নিবন্ধিত হন ৪০০জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। প্রচার এবং প্রকাশনা কমিটির উদ্যোগে উৎসবের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের জন্য এ সাংবাদিক সম্মেলনসহ চ্যানেলএস ও এনটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। পুনর্মিলনী সফলে এই প্রচারণা রাখে বিশেষ ভূমিকা। তাছাড়া এই কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত স্মারককে বিদ্যালয়ের অনন্য দলিল বলে আখ্যা দিয়েছেন অনুষ্ঠানে আগত বিশিষ্টজনেরা। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে। সাংস্কৃতিক উপকমিটির নির্মিত উত্সব সংগীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিলো মনোমুগ্ধকর। মঞ্চ উপ-কমিটির নান্দনিক মঞ্চ, পিএইচজি হাইস্কুলের গেটের আদলে নির্মিত ফটোফ্রেম, প্রথমবারের মতো স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পবিত্রনাথ দাসের রঙিন প্রতিকৃতি, উত্সব লোগো দিয়ে তৈরি ব্যাজ নজর কেড়েছে সবার।  
আপ্যায়ন উপ-কমিটিও অতিথিদের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন নিশ্চিতে রাখেন বিশেষ ভূমিকা।


মন্তব্য