kalerkantho


সৌন্দর্যের লীলাভূমি ওমানের সালালাহর পাহাড়

এম আবদুল মন্নান, সংযুক্ত আরব আমিরাত    

৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:৫৫



সৌন্দর্যের লীলাভূমি ওমানের সালালাহর পাহাড়

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম নৈসর্গিক ও স্বাস্থ্যকর স্থান ওমানের সালালাহ। সবুজের সমারোহ সালালাহর সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে জেবলে ইতিন বা নবী হযরত আইয়ুব (আ.) এর পাহাড়।

পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে তাঁর মাজার শরিফ।

প্রতিদিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য বাংলাদেশিসহ হাজারো পর্যটক এখানে ভ্রমণ ও জিয়ারতের জন্য আসেন।

আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি থেকে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ও সালতানাত অব ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে প্রায় ১১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সালালাহ অবস্থিত। সালালাহ শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জেবলে ইতিন বা হযরত আইয়ুব আ. এর পাহাড় ও মাজার। আঁকাবাঁকা সড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঢালু স্থান পেরিয়ে গাড়িতে করে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে দেখা যায় সাদা মেঘ আর কুয়াশার চাদরে ঘেরা পাহাড়ে শত শত গাড়ি আর হাজারো প্রবাসী পর্যটক।

পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে যতদূর চোখ যায় সবুজের কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়। পাহাড়ের মাঝামাঝিতে এর কোল ঘেষে রয়েছে নবী আইয়ুব (আ.) কূপ বা ঝর্ণা। হাজার হাজার বছর ধরে একই গতিতে জলের ধারা বয়ে চলেছে এ কূপে। এর স্বচ্ছ জল পান করতে ও গোসল করতে অসংখ্য পযর্টক এখানে আসেন।

জেবলে ইতিন পাহাড়ের চূড়া বা নবী আইয়ুব (আ.) এর মাজার থেকে অনেকটা নিচে অবস্থিত এ কূপে আসতে ঢালু রাস্তা বা পাকা সিঁড়ি হয়ে আসতে হয়। বয়স্ক বা শিশু বা হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন পর্যটককে এ কূপের সৌন্দর্য দেখা থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে।

জুন, জুলাই আগস্ট মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে যখন প্রচণ্ড গরম তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি  কাছাকাছি তখন সালালাহর এ পাহাড়ে শীতের মতো কুয়াশা ঝরছে আর মৃদু শীতল হাওয়া বয়ে চলেছে। মনে হয় বাংলাদেশের মতো  কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল। দেশবিদেশের নানা পযর্টকের মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরাও। লক্ষ্য একটাই, অপরূপ সৌন্দর্য্যের আধার থেকে কিছুটা উপভোগ করা আর নবী হযরত আইয়ুব (আ.)-এর মাজার জিয়ারত করা।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা চট্টগ্রামের নুরুল আবছার তৈয়বী, মাহাবুব রানা, শাসমুল আলম, মোহাম্মদ ওসমান, পাকিস্তানি মোহাম্মদ আমজাদ ও তাঁর পরিবার, মিসরী সাবরী ফুয়াদ ও তার পরিবারের সদস্যসহ এখানে আগত প্রবাসী পর্যটকরা এ পাহাড়ের অনাবিল সৌন্দর্যে মুগ্ধ।

নবী হযরত আইয়ুব (আ.) পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে হযরত আইয়ুব (আ) মাজারসংলগ্ন বাইতুল মোকাদ্দাসের দিকে মেহরাব বিশিষ্ট ছোট্ট পুরানা মসজিদ যেখানে তিনি ইবাদত করতেন।  পাশেই রয়েছে হযরত আইয়ুব (আ.) এর পদচিহ্ন। মাজারের দক্ষিণে রয়েছে একটি সুন্দর মসজিদও।

আইয়ুব (আ.) এর পাহাড়ে আসা পযর্টকের জন্য রয়েছে হোটেলসহ নানা দোকানপাট। দোকানের অধিকাংশ কর্মচারী বা মালিক হলেন প্রবাসী বাংলাদেশি। এদের অধিকাংশই বৃহত্তর চট্টগ্রামের। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যবসা করে তাদের সন্তোষের কথা জানান।  


মন্তব্য