kalerkantho


কুয়েতে হলুদ সাংবাদিকতার ছড়াছড়ি।

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০২:৫৩



কুয়েতে হলুদ সাংবাদিকতার ছড়াছড়ি।

দেশে-বিদেশে সর্বত্র এখন হলুদ সাংবাদিকদের জয়জয়কার। হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ করতে সমাজের সচেতন মহল ও সৎ সিনিয়র সাংবাদিকগণ সর্বত্র এগিয়ে আশা উচিত। নতুবা সমাজ তথা গরিব নিরিহ মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা দুটি মহৎ পেশা আজ গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ মানুষের জন্য সমাজে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকগণকে বলা হতো মানুষ গড়ার কারিগর এবং সাংবাদিকগণকে বলা হতো সমাজের দর্পন ও জাতীর বিবেক কিন্তু আজকাল আর এসব পেশায় বইয়ের কতিথ কথার কোনো মিল পাওয়া যায় না। সবই যেন এখন বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে পাটদান বাদ দিয়ে কোচিং নিয়ে ব্যস্ত। এতে দেখা যায় নিজ ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় পাশ করানোর জন্য পরীক্ষা হলে গিয়ে নকল সরবরাহ এমনকি প্রশ্নপত্র ফাঁস করার মতো বেআইনি কাজ করতে ও পিচপা হচ্ছেন না। এতে করে পাশের হার বৃদ্ধি পেলে ও শিক্ষার মান উন্নতি হচ্ছে না। আমি দীর্ঘ ৩০ বছর দেশে পর্যায়ক্রমে ৫০টি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছি ও কলাম লিখেছি। আমাদের সময় কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা সংবাদ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রেরণ করেছি। টাকা মোদের মুখ্য ছিল না। সংবাদ প্রেরণই ছিল আমাদের মুখ্য বিষয়। আমাদের সন্ত্রাসীরা যত বড় প্রভাবশালী হউক না কেন কিংবা দুর্নীতিপরায়ণ প্রশাসন কর্মকর্তারা ভয় পেত। এ জন্য সমাজে আমাদের অনেক সম্মান ছিল। আজকাল এসব হলুদ সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিপরায়ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্করেখে চলে টাকা কামাই করে থাকে।

এখন সাংবাদিকতার কার্ড পাওয়া মানে একটি রুটি রিজেকের একটি ট্রামকার্ড পেয়ে যাওয়া। এখন পত্রিকা টিভি চ্যানেল অনলাইন পত্রিকা এতো বেশি হচ্ছে যে যোগ্য প্রতিনিধি পাওয়া দুষ্কর এ জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো প্রতিনিধি যাচাই-বাচাই না করে কোনোরকম এসএসসি পাশ করা ছেলেদের প্রতিনিধি করে দিয়ে দিচ্ছে। এতে করে এরা এ মহৎ গুরুত্বপূর্ণ পেশায় এসে পেশাটিকে বাণিজ্যে রূপান্তরিত করে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

গুটিকয়েক এসব হলুদ সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্রটি দেখিয়ে অবৈধ উপায়ে টাকা কামাই করা। কয়েকজন আছে দেখবেন সারাদিন তারা থানা ও ভূমি অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দালালি কাজে ব্যস্ত রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতিপরায়ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূয়শী প্রশংসা গেয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এদের কাছ থেকে দুর্নীতির টাকার কমিশন আদায় করাই হচ্ছে তাদের সাংবাদিকতা। অনেককে দেখেছি নিজেকে সম্পাদক সাংবাদিক প্রভৃতি পরিচয় দিয়ে বেড়ায় অথচ একটি লাইন লিখতে কলম ভাঙে ৫টি বানান ভুল লিখে ১০টি। কথায় আছে সা লিখতে সাতপাক খায় সাংগ করে খেলা। সাংবাদিক কার্ড গলায় ঝুঁলিয়ে সর্বত্র ঘোরায় সারা বেলা। কেউ কেউ নিজেকে অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সমাজে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে থাকে। অথচ দেখবেন একটি লাইন লিখতে ৫টি বানান ভুল লিখে। অনলাইন পত্রিকা বেরুতে কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। ইহার কোনো জবাবদিহিতাও নেই এ জন্য ইহা যে কেউ বের করতে পারে। এসব পত্রিকার কোনো গুরুত্বও নেই। এসব পত্রিকায় বেশিরভাগ মিথ্যা ও ভুয়া সংবাদ প্রচার করা হয়ে থাকে। এ জন্য ইহা কেহ পড়ে না। সাংবাদিক সাহেব খবর প্রকাশ করে ফেসবুকে দিয়ে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকেন।

পত্রিকায় সংবাদ ছাপিয়ে যদি যার সংবাদ ছাপা হলো তার ঘরে নিয়ে সংবাদ পড়ে শুনিয়ে আসতে হয় তবে কি ইহা পত্রিকা হলো। তবে তো অনলাইন পত্রিকার নাম না করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দিলেই তো ভালো হতো। এতে সাংবাদিক নামটি লাগানো যাবে না তাই একবার অনলাইন এরপর ফেসবুকে জানান দিয়ে জনগণকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে হচ্ছে। আর সাংবাদিকতার এই পরিচয় দিয়ে কত লম্পজম্প। এসব ভুয়া ব্যক্তি কিন্তু সমাজে সমাদৃত। কিন্তু সত্যিকার সাংবাদিক যারা তারা লোক অন্তরালে। তারা প্রচারভিমুখ। অসৎ ভুয়া লোকদের আজ জয়জয়কার। জনগণ সোচ্চার হলে এসব দুর্নীতিবাদ হলুদ সাংবাদিকরা বাজার ছেড়ে ঘরের কোনায় গিয়ে লুকাবে। এতে করে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নেয়ার দিন শেষ হয়ে যাবে। কুয়েতে দেখা যায় কেউ কেউ নিজেকে অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ঘটনার খবর বা সমস্যার খবর বা জনকল্যাণ কোনো খবর বা অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো খবর প্রচার করতে দেখিনি। শুধু সংগঠনের খবর ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার করে লোকজনের কাছে নিজেকে সম্পাদক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকে। এই হচ্ছে তাদের সাংবাদিকতা। যে কেউ এখন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই মহৎ পেশাটিকে সমাজে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

কুয়েতে দু'তিনজন লোককে দেখা যায় ভিডিও ক্যামেরা একটি নিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিকাল হলেই বাঙালি কমিউনিটি এলাকায় ঘোরাফেরা করা ও কোথাও কোনো সংগঠনের অনুষ্ঠানের খবর পেলেই বিনা দাওয়াতে উপস্থিত হয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে ফটো তুলা ও অনুষ্ঠানটি ভিভিও করাই হচ্ছে তাদের সাংবাদিকতা। এরপর শুরু করবে দরকষাকষি। ২০ থেকে ৪০ দিনার না দিলে খবর পাটাবে না। এরপর যে টাকা দিবে তাকে হাইলাইট করবে অন্যদেরকে কাটছাঁট করে বাদ দিয়ে যেনতেন করে একটি সংবাদ প্রচার করবে। এ ছাড়া সবসময় ধান্দায় থাকে একটি সংগঠনকে কীভাবে কয়েক টুকরা করা যায়। যত টুকরা হবে ততবেশি সভা-সমাবেশ হবে। এতে তাদের রুটি-রিজেকের ব্যবস্থা হবে। ভিডিও ক্যামেরাই হচ্ছে তাদের পুঁজি। কারণ ক্যামেরা ও একটি ল্যাবটব থাকলে সহজে যেকোনো টিভি থেকে চ্যানেলের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার সময় কুয়েত সিটিতে রাজধানী হোটেলে আমাদের একটি অনুষ্ঠান হয়। গত ১ অক্টোবর কুয়েতের টাইম রাত ১০টায় আরটিবিতে অনুষ্ঠানটির খবর প্রচার করে। খবরে দেখা যায় অনুষ্ঠানের সভাপতিসহ অতিথিদের কোনো ফটো না দেখিয়ে দর্শকদের ফটো দেখানো হয়।

এ ছাড়া বক্তব্যে প্রধান অতিথি সভাপতিসহ অনেক বক্তার বক্তব্য সংবাদে দেখায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে জিজ্ঞাসা করলাম সভাপতি প্রধান অতিথির ফটো ও বক্তব্য দেখালেনা এরকম সংবাদ কি হলো। উত্তরে সে বলল আমি না ইহা অমুকে করেছে। সে হচ্ছে প্রতিনিধি আরেকজনের কথা বলে সে দায় এড়াতে পারে না। নিউজ প্রচার করা না করা তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু সংবাদ প্রচারে কাউকে বাদ দেয়া বা ছোটবড় করে হেয় করার তার কোনো অধিকার নেই। ইহা সম্পূর্ণ সাংবাদিকতার নীতি-আদর্শ বহির্ভুত কাজ। এরকম অখন্ডীয় সংবাদ প্রচার শুধু অন্যায় নয় ইহা হচ্ছে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সে নিউজ এডিট করতে পারে না। দোকানে গিয়ে এডিট করাতে হলে তিন দিনার দেয়া লাগবে এ জন্য সে তার কথিত বন্ধু দিয়ে এডিট করেছে। বন্ধু তার যেভাবে ক্ষতি হয় সেভাবে তাকে এডিট করে দিয়েছে। এডিট করার পরও তো সে দেখে ছাড়তে পারতো।

কিন্তু আর সে না দেখেই নিউজ ছেড়ে দিয়েছে। এতে বুঝা যায় সে একটি অপদার্থ অযোগ্য ব্যক্তি। তার সাংবাদিকতা করার কোনো যোগ্যতা নেই। হলুদ সাংবাদিকতা করাই তার ব্যবসা। কুয়েতে বাংলাদেশি লোকজন কত সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা এসব হলুদ সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে তুলে ধরে না। এসবে টাকা পাওয়া যাবে না।

এজন্য এসব সংবাদ প্রচার করে না। শুধু টাকা আদায় করে সংগঠনের সংবাদ প্রচার করাই হচ্ছে তাদের সাংবাদিকতা। ফয়জুল হক কুঠি হচ্ছে একজন সহজসরল যুবক। সে টাকার জন্য নয়। তার নেশা হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে অনুষ্ঠান লাইভ করে প্রচার করা। এতে সে লাইভ সাংবাদিক হিসাবে দেশে-বিদেশে সবখানে পরিচিতি লাভ করেছে। সে শুধু সংগঠনের খবর লাইভ করছে না। সে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার খবরসহ মানুষের নানা কল্যাণমূলক খবরও লাইভ করে প্রচার করে চলেছে। তাকে বলা যায় সত্যিকার একজন সাংবাদিক ও নিঃস্বার্থবান সমাজসেবী। তার লাইভ করার কারণে নাকি এসব হলুদ সাংবাদিকদের পেটে লাথি পড়ে গেছে। তাকে ডেকে নিয়ে বলেছেন তার লাইভ তাদের সংবাদপ্রচারের পরে প্রচার করতে হবে। সে এ অবৈধ আবদার না শুনার কারণে প্রথমে তার মোবাইলের আইডি হ্যাগ করা হয়। এখন নানাভাবে হুমকি-দমকি দেয়া হচ্ছে। ইহা হচ্ছে একজন লোকের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষপের সামিল।
গণমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা। আজ সাংবাদিকরা রাজনীতিতে বিভক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথযাত্রাকে রুদ্ধ করে ফেলেছেন। আমি মনে করি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ও গণতন্ত্রের পথ প্রশস্থের জন্য সাংবাদিকগণ ও সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে আইনজীবীগণ রাজনী তীর বাহিরে থাকা উচিত।


মন্তব্য