kalerkantho


ইমামকে বলবেন, এটা নারীদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি...

তামীম রায়হান   

৩০ মে, ২০১৮ ২০:৫১



ইমামকে বলবেন, এটা নারীদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি...

গত পরশু রাতে এশা ও তারাবিহ আদায়ের জন্য মসজিদে যাচ্ছি। মসজিদের সামনে বেশ অন্ধকার, জায়গাটুকু পেরিয়ে অজুখানার দিকে যেতেই পেছন থেকে এক মহিলার ডাক শুনতে পেলাম, ইয়া আখি! আমি তাতে কান না দিয়ে আরও দ্রুত পা বাড়ালাম। কারণ, কাতারে রমজান মাসে রাত-বিরাতে নারীদের ডাক বড় বিপদজনক। 

কাছে এসে এরা বলবে, আমি ফিলিস্তিনের, কিংবা সিরিয়া অথবা সোমালিয়ার, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে কিছু দাও বাপজান। 

কাতারে ভিক্ষাবৃত্তি নিষেধ। কারণ, অসহায় ও ফকির-মিসকিনদের জন্য বেশকিছু সেবাসংস্থা নিয়মিত সহায়তা করে থাকে। তাছাড়া ভিক্ষাবৃত্তির নামে প্রতারণার ঘটনাও ঘটে অনেক। চলতি রমজানে এ পর্যন্ত পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ৬৭ জন ভিখারী। 

তাছাড়া এখন নামাজ পড়তে এসেছি, তাই মানিব্যাগ আনিনি। ফলে মহিলার ডাক শুনে বিব্রত হওয়া কিংবা ভিক্ষা দিতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনা অর্থহীন। আমি দু কদম ফেলে সামনে যেতেই এক মধ্যবয়সী মহিলা দৌড়ে চলে এলেন আমার পাশে। তারপর বললেন, ইয়া আখি, আতিহ লিলইমাম, কুল লাহু- ইন্নাহা রিসালাহ মিনান নিসা। বাংলায় তর্জমা হতে পারে এভাবে, ভাই, ইমামকে আপনি এই কাগজটি পৌঁছে দিয়ে বলবেন, এটা নারীদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি। 

আমি কৌতুহল বশে কাগজটি খুলে দেখি, তাতে লেখা- ‘আল্লাহর কাছে এবং এরপর ইমামের কাছে আমাদের আর্জি, আপনি যেন একটু দীর্ঘ কেরাত পড়েন নামাজে, যাতে রমজানে এই তারাবিতে পুরো কুরআন শোনার সুযোগ হয় আমাদের। এর প্রতিদান অবশ্যই আল্লাহ আপনাকে দেবেন। 

কাতারে আমার আশেপাশে দেখা অনেক তরুণ যখন তারাবিহ নামাজে দু-চার রাকাত পড়ে ক্লান্ত হয়ে পালিয়ে যায়, তখন এমন মধ্যবয়সী নারী দিনভর স্বামী-সংসারের কাজ শেষে রাতে মসজিদে এসে ইমামের কাছে মিনতি করছেন, তিনি যেন বেশি করে কুরআন পড়েন, এতে পুরো কুরআন শোনার সৌভাগ্য হবে তাঁর! 

আমি টুকরো কাগজ থেকে চোখ ফেরাতে ফেরাতে তিনি নারীদের জন্য নির্ধারিত দরজা দিয়ে মসজিদে ঢুকে গেছেন। বেশ বিব্রত এবং লজ্জা বোধ করলাম। ভিখারী ভেবে সটকে পড়তে চেয়েছিলাম, ধারণা মিথ্যা হয়নি। তিনি ভিখারীই, তবে অর্থের নয়- বরং পূণ্যের। পূণ্যময় এই রমজানে এমন পূণ্যভিখারী-ই তো বেশি প্রিয় পরম করুণাময়ের।
লেখক: গণমাধ্যম গবেষক, মানবাধিকার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কাতার


মন্তব্য