kalerkantho


বাংলাদেশ ভবন বন্ধ!

অনিতা চৌধুরী   

৪ জুন, ২০১৮ ১৬:১৮



বাংলাদেশ ভবন বন্ধ!

গরমে ঘামতে ঘামতে বিশ্বভারতীর ইতিহাস বিভাগের স্নাতকস্তরের ছাত্রী শিবানী মণ্ডল সাইকেল চালিয়ে এসে দাঁড়াল বাংলাদেশ ভবনের সামনে। সাথে বান্ধবী অরুন্ধুতি হাজরা।

মেইন গেটের পাশে সাইকেল দার করিয়ে ভিতরে যাবার সময় শিবানী আর অরুন্ধুতি অবাক। পাশে দাঁড়ানো দারওয়ান বললেন, বন্ধ আছে।

কবে খুলবে? - জানতে চাইল দুই তরুণী ।

দারওয়ান জানালেন, জানি না।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শান্তিনিকেতনে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ভবন, যা সারম্বর হলো ২৫ মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে।

কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে বাংলাদেশ ভবন বন্ধ। এদিকে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের খবর ছড়িয়ে যাওয়ার ফলে নানা যায়গা থেকে সাধারণ মানুষ পৌঁছে যাচ্ছেন শান্তি নিকেতনের এই ভবনের সামনে।

কিন্তু সদর দরজায় তালা দেখে তারা ফিরে যাচ্ছে মন খারাপ করে।

আমি এসেছিলাম জাদুঘরটি দেখতে। কিন্তু শুনলাম, বাংলাদেশ ভবন খুলতে আর কিছু সময় লাগবে, আমি না হই অপেক্ষা করবো, কিন্তু চাই আমার সেই অপেক্ষা যেন বেশি দীর্ঘতর না হয়- শিবানী জানালেন সাইকেল চালিয়ে চলে যাওয়ার আগে। 

ইতিহাসের এই ছাত্রী আর তার বান্ধবী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণা করতে চান। তাই তাদের আগ্রহ বাংলাদেশ ভবন নিয়ে।

যদিও এই ভবনটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে সরকারের টাকায়, এর নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন তদারকির দায়িত্ব থাকবে বিশ্বভারতীর উপরে।

২৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বাংলাদেশ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শেখ হাসিনা সরকার ইতিমধ্যে ১০ কোটি টাকা মঞ্জুরও করে দিয়েছেন।

আমরা চেষ্টা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এই ভবনের প্রশাসনিক কাজ শেষ করে সাধারন মানুষের  জুন্য খুলে দিতে ... এই কাজ আমরা মাস খানেকের মধ্যে করতে চাই- জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

আমরা জানি বাংলাদেশ ভবন নিয়ে মানুষের অনেক আগ্রহ ... কিন্তু কিছু প্রশাসনিক কাজ বাকি- তিনি আরো জানান।
 
প্রায় ৪৪২৬১ বর্গ ফুটের বাংলাদেশ ভবন এক অত্যাধুনিক অট্টালিকা, যাতে রয়েছে একটি মিউজিয়াম, লাইব্রেরি, দুটি সেমিনার কক্ষ এবং একটি অডিটোরিয়াম। বাংলাদেশ ভবন পুরটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

কি নেই এই বাংলাদেশ ভবনের জাদুঘরে? আছে কাঠের রবীন্দ্রনাথের হাউসবোট পদ্মার ছোট্ট সংস্করণ, ওয়ারী বটেশ্বর থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাচীন মুদ্রা, টেরেকোটার কাজ, হাতে তৈরি পুতুল, নানাবিধ বাদ্যযন্ত্র যেমন ডুগডুগি, একতারা। এছাড়া ছবির সারনিতে সাজানো আছে মুক্তিযুদ্ধর ইতিহাস আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অনেক ছবি।

লাইব্রেরিতে আছে ৬০০০ এর উপর বই, যা যেকোনো বই প্রেমির কাছে হতে পারে এক অনবদ্য আকর্ষণ। 

এই মাপের বড় একটি ভবন সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়ার আগে অনেক প্রশাসনিক কাজ থাকে। প্রথমে ব্যবস্থা করতে হবে নিরাপত্তার, তারপরে আমাদের লাগবে তত্ত্বাবধানের লোকজন ... জাদুঘর সংরক্ষণের জন্য চাই একজন প্রশাসক, লাইব্রেরির জন্য দরকার এক অফিসার। সব কাজ দেখাশোনার জন্য চাই একজন সুপারভাইসার, এই সব কাজ সম্পন্ন করার জন্য কিছু সময় তো লাগবেই- জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর এক কর্মকর্তা।
 
বিশ্বভারতীর এক সূত্র থেকে জানা গেছে,  যে  বাংলাদেশ সরকার নিজের এক প্রতিনিধি পাঠাতে চেয়েছিলেন এই ভবনটির সামগ্রিক দেখভাল করার জন্য, সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চীনা ভবন এবং নিপ্পন ভবন যেভাবে তাদের কর্মকর্তারা চালান, সেভাবেই চালানো হবে বাংলাদেশ ভবন।

প্রতিদিন চীনা ভবন এবং নিপ্পন ভবনে যত মানুষ আসেন, তার থেকে অনেক বেশি মানুষ আসবে বাংলাদেশ ভবনে, কারণ এই ভবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল অনেক বেশি, তাই আমরা পরিকল্পনা করেই এগতে চাইছি-” জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।


মন্তব্য