kalerkantho


বহির্বিশ্বে গুরু-শিষ্যে অপরূপ দৃশ্যে

লুৎফর রহমান রিটন   

২৮ জুন, ২০১৮ ১৪:১৮



বহির্বিশ্বে গুরু-শিষ্যে অপরূপ দৃশ্যে

এ বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমির একুশের বইমেলায় যাইনি বলে যে কত কত প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যবঞ্চিত হয়েছি! লেখকদের সঙ্গে দেখা হয়নি। প্রকাশকদের সঙ্গে দেখা হয়নি। দেখা হয়নি বইমেলায় আসা আমার নানা বয়েসী পাঠক বন্ধুদের সঙ্গেও। জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য নিউ ইয়র্কের বইমেলায় কানাডা থেকে আমার যাবার কথা থাকলেও প্রবাস জীবনের নানা রকমের হ্যাপা ব্যাপারটাকে প্রায় অনিশ্চিত করে ফেলেছিল। তেমন একটা সময়ে টেলিফোনে কথা হচ্ছিল প্রিয় সায়ীদ স্যারের সঙ্গে। বাংলাদেশ থেকে তাঁরও আসবার কথা মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ২৭তম বইমেলায়। শরীর-মন-বয়েস ইত্যাদি নানান বিষয়ে বিস্তর কথাবার্তা চলছিল আমাদের মধ্যে। সারা জীবন বয়েসকে বুড়ো আঙুল দেখানো চিরসবুজ মানুষটা একপর্যায়ে বললেন, আজকাল কাউকে 'আবার দেখা হবে' বলতে গিয়ে কেমন অনিশ্চিত বোধ করি। আদৌ কি দেখা হবে আবার?...হাসান ফেরদৌস বলল, তুমিও নাকি আসছো ওদের বইমেলায়? আসবা নাকি? আসো আসো। ঢাকায় তো আসো নাই এইবার......

স্যারের কথায় বুকের ভেতরটায় কেমন একটা মোচড় অনুভব করেছিলাম। সত্যি সত্যি আর যদি দেখা না হয়! আবার যদি সুযোগ না ঘটে! আর তক্ষুণি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যাবই যাব নিউ ইয়র্কে। যত রকমের ঝামেলাই থাকুক না কেন, যেতে আমাকে হবেই। গুরুর গুরুত্ব আমার কাছে অসীম। আক্ষরিক অর্থেই তিনি আমার গুরু। ঢাকা কলেজের ক্লাসরুমে আমি তাঁর 'সেরা ফাঁকিবাজ' ছাত্র ছিলাম। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ছিলাম অন্যতম প্রিয় শিষ্য। আমার তুমুল যৌবনের সোনালি সময়টা কাটিয়েছি আমি বর্ণাঢ্য এই মানুষটার সান্নিধ্যেই। তারপর ছাত্র থেকে অনায়াসে হয়ে উঠেছি অসমবয়েসী বন্ধু। কত অজস্র উজ্জ্বল মুহূর্ত তিনি আমাকে উপহার দিয়েছেন! সায়ীদ স্যার তাঁর 'স্বপ্নের সমান বড়' নামের বইটা উৎসর্গ করেছেন আমাকে। উৎসর্গপত্রে লিখেছেন, অনুজপ্রতিম খ্যাতিমান ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন প্রীতিভাজনেষু। অর্থাৎ কি-না, ছাত্র থেকে বন্ধু এবং বন্ধু থেকে অনুজপ্রতিম।

২৪ জুন বইমেলার শেষ দিনের ঝকঝকে বিকেলে মুক্তধারার স্টলে আমরা দুজন মেতে উঠেছিলাম চিরাচরিত হাস্য আর খুনসুটিতে। নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত আলোকচিত্রশিল্পী নিহার সিদ্দিকী আমাদের সেই সজীব মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করেছে অপরূপ দক্ষতায়। ফেসবুকে 'আমার চোখে দেখা' শিরোনামে ১৭টি ছবির একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছে নিহার। এবং অ্যালবামের সাবটাইটেলে সে লিখেছে, ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন এবং অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের এইরকম অন্তরঙ্গ মুহূর্ত আগে কখনো চোখে পড়েনি।

অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রীতিভাজন নিহার সিদ্দিকীকে।

এবং প্রিয় সায়ীদ স্যারের জন্যে এক সমুদ্র ভালোবাসা। আমাদের মাথার ওপরে, ছায়া হয়ে আরো দীর্ঘকাল আপনি দীপ্যমান থাকুন, স্যার। আপনাকে খুব ভালোবাসি, হে আলোর ফেরিঅলা। 

 



মন্তব্য