kalerkantho


বৈঠকখানা

আজ তবে মাছের কথা হোক

বহু রকমের মাছ আছে পৃথিবীতে। প্রতিটিকে আলাদা করে জানতে অনেক সময় লাগে। এ কারণে একই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাছগুলো নিয়ে একেকটি শ্রেণি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৎস্য জাদুঘরে প্রায় সব প্রজাতির মাছ দেখার সুযোগ আছে বাঙালির। গত সোমবার আবার দেখে এসেছেন আবুল বাশার মিরাজ

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আজ তবে মাছের কথা হোক

মৎস্য জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. মোস্তফা আলী রেজা হোসেন। শিক্ষার্থীদের জন্যই করা। তবে দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ দেখতে আসে। আর প্রতিদিনই রেজা হোসেন দর্শনার্থীদের জাদুঘরটি ঘুরিয়ে দেখান। বললেন, পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই এটি অনন্য। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান বা মিয়ানমারেও মৎস্য জাদুঘর আছে। তবে এখানেই আপনি প্রায় সব প্রজাতির মাছ পাবেন। জাদুঘরটির পুরো নাম ফিশ মিউজিয়াম অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি সেন্টার।

 

১০ বছর আগে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়

আমাদের দেশে পাওয়া যায়—এমন ২৯৩ প্রজাতির মধ্যে এখানে আছে ২৩০ প্রজাতির মাছ। বাকিগুলো সংরক্ষণের কাজও চলছে। রেজা হোসেন বললেন, বিলুপ্তপ্রায় সব দেশি প্রজাতি আমরা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ ছাড়া সামুদ্রিক জলজ প্রাণী সংরক্ষণের চেষ্টাও করা হয়েছে। ১০ বছর আগে আমরা নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিলাম। যুক্তরাজ্যের স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ডি শিন এ কাজে সহায়তা দিয়েছেন।  ২০০৯ সালের জুনে জাদুঘরটির অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়। আর ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম বার্ষিকীতে এটি উদ্বোধন করা হয়। মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের মাঠ গবেষণা কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি ঘর নিয়ে সাজানো হয়েছে এ জাদুঘর।

 

এক চক্কর

সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠার আগেই দেখা যায় মাছ ধরার গ্রামীণ সব যন্ত্রপাতি। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে দেখা যাবে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত মাছের তালিকা। চেনা-অচেনা মাছের অনেক কিছু জানা হয়ে যায় এ থেকে। গ্যালারিগুলোর মধ্যে চার নম্বর গ্যালারি সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে সংরক্ষিত আছে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছগুলোর নমুনা। সংরক্ষিত আছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য। আছে অনেক ছবি আর কঙ্কাল।  নমুনাগুলো কাচের জারে অ্যালকোহলের মধ্যে রাখা। প্রতিটি কাচের ওপর ওই মাছ বা প্রাণীটির ছবি রয়েছে। বলা হয়েছে মাছের বৈজ্ঞানিক নাম আর বৈশিষ্ট্য। দেখতে পাবেন হাঙর, ডলফিন আর কুমিরের কঙ্কাল। আছে  কচ্ছপ ও বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়ার নমুনা। পাবেন ঘোড়ামুখো, কুমিরের খিল, টাকচান্দা, রানিমাছ,  গুতুম, কাঞ্চনপুঁটিসহ আরো কিছু বিলুপ্তপ্রায় মাছ। জাদুঘরের একটি কক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে অডিও-ভিজ্যুয়াল সুবিধা। তাতে প্রাগৈতিহাসিককালের বিলুপ্ত মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবাশ্মের ছবি প্রদর্শিত হয়। অন্য আরেকটি গ্যালারিতে ৪০টি প্রাণীর জীবাশ্ম ও কঙ্কাল সংরক্ষিত আছে। দেখার সুযোগ হয় ৩৫ কোটি বছর আগে বিলুপ্ত কোরাল, ৫৪ মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত জলজ প্রাণী গারপাইক বা  ১৫ মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হাঙরের চোয়াল ও দাঁতের প্রতিরূপ।

 

সবার জন্য উন্মুক্ত

রেজা হোসেন জানান, জাদুঘরটিতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে লন্ডনের ব্রিটিশ ন্যাচারাল মিউজিয়াম, যুক্তরাজ্যের স্টারলিং বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা থেকে। আরো জানান, জাদুঘরটি পূর্ণাঙ্গ করার ভাবনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। একটি নকশা তৈরি করা হয়েছে। একটি বড় জলাধারের মধ্যে হবে পাঁচতলাবিশিষ্ট একটি ভবন। প্রথমতলার অ্যাকোয়ারিয়ামে অনেক রকম দেশি মাছ জীবন্ত দেখার সুযোগ হবে। দ্বিতীয় তলায় সব ধরনের মিঠা পানির মাছের নমুনা থাকবে। তৃতীয় তলায় সামুদ্রিক প্রাণী থাকবে। চতুর্থ তলায় থাকবে মাছ ধরা ও চাষবাসের যন্ত্রপাতি। পঞ্চম তলায় হবে সম্মেলন কক্ষ। এখানে গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেবেন। জাদুঘরটি সপ্তাহে দুই দিন—শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং প্রবেশের জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না।

ছবি : লেখক


মন্তব্য