kalerkantho


দেশে প্রথম

সোলার নৌকা

চুয়াডাঙ্গায় তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুত্চালিত নৌকা। সূর্যের আলোতে চলবে সারা দিন, এমনকি রাতেও। তৈরি করেছেন আহমেদুল কবির। নৌকায় চড়ে এসেছেন মানিক আকবর

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সোলার নৌকা

নিজের সোলার নৌকায় আহমেদুল কবির

২০১৫ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সোলার নৌকা তৈরির পরিকল্পনা আহ্বান করে। সেখানে প্রস্তাবনা জমা দেন চুয়াডাঙ্গার আহমেদুল কবির। কেনা নৌকা নয়, নিজেদের তৈরি নৌকা ভাসাতে হবে পানিতে। এমনই ছিল শর্ত। গত মার্চে দুটি নৌকা তৈরি করে চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীতে নামানো হয়। দেখার জন্য এলেন স্রেডার পরিচালক শেখ রিয়াজ আহমেদ, বুয়েট ও ইউএনডিপির একটি প্রতিনিধিদল। পরিদর্শনে আসা দলের সদস্যরা জানান, শব্দ বেশি হচ্ছে। নৌকা দুটিকে আবার নদী থেকে তুলতে হয়। নিয়ে যেতে হয় এক কিলোমিটার দূরের কারখানায়। সেখানে নতুন করে আবারও শব্দ কমানোর জন্য কাজ করা হয়। পরে আবারও ইউএনডিপি, স্রেডার প্রতিনিধিদল এসে সন্তোষ প্রকাশ করে।

যে দুটি নৌকার কাজ শেষ হয়েছে, তাতে সোলার ছাড়াও আলাদাভাবে ডিজেলে চালানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাত নেমে এলে বা জরুরি প্রয়োজনে যেন না থেমে যায় সে জন্য এই ব্যবস্থা। হাতিকাটা গ্রামের কারখানায় আরো তিনটি নৌকার কাজ এখনো চলছে। সেগুলোতে ডিজেল বা অন্য কোনো তেলে চালানোর ব্যবস্থা থাকবে না। সেগুলো পুরোপুরি সোলারে চলবে। রাত নেমে এলেও ধারণ করে রাখা শক্তির মাধ্যমে চলবে নৌকা।

নির্মাণ শেষ হওয়া দুটি নৌকা রাখা হয়েছে আলোকদিয়া গ্রামের পাশে মাথাভাঙ্গা নদীতে। সোলার নৌকা তৈরির কারখানাটি আলোকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে। আলোকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি হওয়া সৌরবিদ্যুতের এ নৌকায় একাধিকবার চড়েছি। ভালো লেগেছে। বাণিজ্যিকভাবে এ নৌকা ব্যবহার করা যাবে বলে আমার মনে হয়েছে। বেশ আরামদায়ক। গতিও একেবারে কম নয়।’

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সোলার-ই-টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইমুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশের সুরক্ষা ও জ্বালানি ঘাটতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে এ প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

আহমেদুল কবির বলেন, ‘দুটি নৌকার কাজ পুরোপুরি শেষ। নৌকা দুটি নদীতেই রাখা হয়েছে। মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, কোনো অসুবিধা আছে কিনা। সোলার নৌকা তৈরির জন্য আমাদের নিজস্ব কারখানা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রামে। ওখানে চলছে আরো তিনটির কাজ। পাঁচটি নৌকা একই রকম হবে না। বলা যায়, পাঁচটি পাঁচ রকম। তৈরি শেষ হলে ব্যবহার করার পর বোঝা যাবে পাঁচটির মধ্যে কোনটির ব্যবহার সুবিধাজনক।’

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুর রাজ্জাক সোলার নৌকায় চড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চড়ে দেখেছি। ভালো মনে হয়েছে। প্রকৌশলীরা কিভাবে আরো ভালো করা যায় সেই চেষ্টা করছেন। এজাতীয় নৌকা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে নদীদূষণ কমবে।’                                                                    

তৈরি করা হচ্ছে কয়েক রকমের সোলার নৌকা

ছবি : লেখক



মন্তব্য