kalerkantho

বাংলা ভালোবাসি

শুবাচ

শুদ্ধ বানানচর্চা বা শুবাচ ফেসবুকভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এক লাখ ১৪ হাজারের বেশি তার সদস্য। বাংলা বানানের সমস্যা মেটাতে কাজ করছে। খবর নিয়েছেন মাহবুবর রহমান সুমন

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শুবাচ

ফেসবুকে শুবাচের কাভার ফটো

আমিন, না আমীন; কোন বানানটি শুদ্ধ?

 

জানতে চেয়েছিলেন নূরজাহান নূরী। এক ঘণ্টার মধ্যেই সাতজনের উত্তর পেলেন। শুধু বানান বলেই ক্ষান্ত থাকলেন না কেউ কেউ; সূত্র দিলেন, ব্যাখ্যা দিলেন। যেমন—বন্যা খানের উত্তর ছিল, ‘আমিন ও আমীন দুয়েরই ব্যবহার আছে। কোথায় কিভাবে ব্যবহার করা হবে তার ওপর নির্ভর করে ই-কার না ঈ-কার হবে।’

আবার ম্যানুয়াল ত্রিপুরার উত্তর ছিল, অতৎসম শব্দে ই-কার হয়, সে ক্ষেত্রে আমিন শুদ্ধ, আমীন নয়।

ওদিকে সামাদ চৌধুরী মন্তব্য করলেন, ‘শব্দটা বাংলা নয়, বিধায় বাংলা ব্যাকরণ প্রযোজ্য নয়। যেহেতু এটি আরবি শব্দ, সে হিসেবে আমীন লেখাটাই সঠিক বিবেচনা করি।’

এভাবেই প্রতিদিন অনেক কথা হয় শুবাচে। ২০১৩ সালে এর যাত্রা শুরু। এর সোয়া লাখ সদস্যের প্রায় পঞ্চাশ হাজার প্রবাসী। শুধু বানান নয়, বাংলা ভাষা নিয়েও আলোচনা হয় এখানে। শব্দ বা বাক্য নিয়েও কথা হয়।

 

যেভাবে যাবেন শুবাচে

প্রথমে ফেসবুকে লগইন করুন। সার্চ বক্সে গিয়ে বাংলায় শুদ্ধ বানানচর্চা (শুবাচ) লিখুন। তারপর গ্রুপ বাটনে ক্লিক করুন। তারপর পাবেন জয়েন গ্রুপ নামের একটি বাটন। এতে ক্লিক করার অল্প সময়ের মধ্যেই শুবাচ অ্যাডমিনের নোটিফিকেশন পাবেন, যার অর্থ আপনি এর সদস্য হলেন। এরপর আপনি বাংলা ভাষা ও বানান নিয়ে জানতে চাইতে পারবেন বা মতামত দিতে পারবেন।

 

অফলাইনেও শুবাচ

শুধু ফেসবুকেই থেমে নেই শুবাচ। অফলাইনেও রয়েছে এর কার্যক্রম। ঢাকা ছাড়াও সিলেট ও চট্টগ্রামে শাখা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় গঠন করা হয়েছে কমিটি। এসবের মাধ্যমে শুবাচ দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে শুদ্ধ বানানচর্চা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড আর কানাডায়ও রয়েছে এর কমিটি। আমেরিকার কমিটি বেশি সক্রিয়। মাঝেমধ্যেই তারা বানানচর্চা প্রতিযোগিতা ও সেমিনারের আয়োজন করে। শুবাচ ২০১৫ সালে বাংলাকে আমেরিকার তৃতীয় বা চতুর্থ ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করেছিল।

 

শুবাচের বই

ফেসবুকে বাছাই করা পোস্টগুলো নিয়ে শুবাচ ২০১৬ সালে শুবাচ ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ নামে পাঁচটি বই প্রকাশ করেছে। শুবাচের পক্ষ থেকে এর প্রকাশক চয়নিকা জাহান চৌধুরী। বইগুলো পাওয়া যাচ্ছে বইমেলায় পুঁথিনিলয়ের স্টলে। এখন ‘শুবাচ ৬’ নামের বইটি রয়েছে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

 

একজন ড. মোহাম্মদ আমীন

জন্ম চন্দনাইশ উপজেলার চন্দনাইশ গ্রামে। পরিসংখ্যান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাংলায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। বাংলা বানান নিয়ে বই লিখেছেন ১৫টি। ইতিহাস বিষয়েও তাঁর বই রয়েছে। ২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল রিজিওনাল হিস্টরি অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে হেরোডটাস ফাদার অব দ্য হিস্টরি অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। আরো পেয়েছেন রাজা রামমোহন রায় পর্ষদের বঙ্গভূষণ পদক, নিউ ইয়র্ক থেকে পেয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ অ্যাওয়ার্ড। তিনি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব।

 

বানানের প্রতি প্রেম আছে

ড. মোহাম্মদ আমীন প্রতিষ্ঠাতা, শুবাচ

 

বানানের সঙ্গে বন্ধুতা কিভাবে?

নিজে নিয়মিত লেখালেখি করি। তাই বাংলা বানানের প্রতি প্রেম আছে বলতে পারেন। ২০১৩ সালের কথা। আমি তখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। খেয়াল করে দেখি অনেকেই বাংলা বানান ভুল লেখে। এ তালিকায় বড় বড় পদের লোকও আছেন। পেশাগত ব্যস্ততার দরুন আলাদা করে বেশি সময় দিতে পারব না বলে ফেসবুকে শুবাচ নাম দিয়ে একটি গ্রুপ খুললাম। সেটা ছিল ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ। ভাবলাম এর মাধ্যমে দ্রুতই অনেক বেশি লোকের সঙ্গে যুক্ত হতে পারব।

 

একাই সামলাচ্ছেন?

প্রথমে একাই শুরু করেছিলাম। তবে যত সদস্য বাড়ছিল ততই সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছিল। তাই বানানে দক্ষ এমন কয়েকজনকে যুক্ত করি। এখন গ্রুপের পাঁচজন অ্যাডমিন। এ ছাড়া অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকসহ কয়েকজন উপদেষ্টা আছেন।

 

শুবাচের স্লোগান কী?

শুদ্ধ বানান, শুদ্ধ ভাষা, বাংলা আমার ভালোবাসা—এটাই আমাদের স্লোগান। আমাদের লক্ষ্য বাংলা বানান নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। বাংলা ভাষার প্রসার ঘটানো। ভাষা সমৃদ্ধ করারও আগ্রহ আছে আমাদের। তাই আলোচনা সভার আয়োজন হয়। গবেষণা পুস্তক প্রকাশেরও চেষ্টা আছে। আগ্রহী বিদেশিদের বাংলা শেখায় সহযোগিতাও দিই আমরা।

 

গ্রুপে কী ধরনের পোস্ট বেশি পান?

দুইটা বানানের মধ্যে কোনটা সঠিক জাতীয় পোস্ট বেশি পাই। আবার অনেকে ভাষার বিবর্তন নিয়ে আগ্রহ দেখায়। ভাষার গঠন-প্রকৃতি নিয়ে আগ্রহী সদস্যও আছে আমাদের। মাঝেমধ্যে অ্যাডমিনরাই বিভিন্ন শব্দ নিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠে।

 

শুবাচ নিয়ে পরিকল্পনা।

চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর শুবাচকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র যেমন।


মন্তব্য