kalerkantho


বিশাল বাংলা

কামরুলের চুইঝাল গোশত

৭ জানুয়ারির খুলনা। তাপমাত্রা নেমে গেছে ৯ ডিগ্রির নিচে। দুপুরেও শরীরে কাঁপুনি। কাঁপতে কাঁপতেই কৌশিক দে কামরুলের হোটেলে গিয়েছিল—যদি চুইঝালের মাংস খেয়ে শরীরটা গরম হয়

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কামরুলের চুইঝাল গোশত

শহর থেকে আড়াই-তিন কিলোমিটার দূরে জিরো পয়েন্ট। কামরুল হোটেল জিরো পয়েন্টের কাছেই। ওই শীতের দুপুরেও ভিড় ছিল। কোনো আসন খালি ছিল না। দোকানের সামনে গাড়ি আর মোটরসাইকেল ছিল অনেক। কামরুল ভাইয়ের হোটেলে দূর-দূরান্তের লোকও খেতে আসে। দোকানটির বয়স বড়জোড় আট বছর। কিন্তু নাম করেছে জবর।

 

গোড়ার কথা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সরদার। ১৯৮৯ সালে খর্নিয়া বাজারে ছোট একটি হোটেল করেছিলেন। পরে কৈয়াবাজারে গিয়ে আরেকটি হোটেল দেন। খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় আসেন ২০০০ সালে। সে সময় চুকনগরের আব্বাস হোটেলের নাম ছিল। শহরের ভোজনরসিকরাও ভিড় জমাত। কামরুল ভাবেন, কী আছে আব্বাসে? একসময় নিজেই তথ্য-উপাত্ত জোগাড়ে নেমে গেলেন। কামরুল বললেন, ‘এত পথ ঠেলি কী কারণে মানুষ শুধু আব্বাসে যাতিছে, বুঝতি পারতি ছিলাম না। পরে খোঁজ-খবর কইরে নিজেই এই চুইঝাল মাংস রান্না শুরু করলাম।’

 

পুরো পরিবার লেগে গেছে

স্ত্রী, ভাই, শ্যালক, পুত্র, পুত্রবধূ সবাই মিলে চালায় কামরুলের হোটেল। এখন কামরুলের প্রধান কারিগর তাঁরই ভাই আলী আকবর সরদার। হোটেলের প্রধান ব্যবস্থাপক বড় ছেলে হাফিজুর রহমান। ছোট ছেলে শরিফুল হোটেলে সময় দেওয়ার পাশাপাশি বিএল কলেজে গণিতে অনার্স পড়ে। কামরুল বললেন, ‘আমাদের সব কিছুই নির্ভর করে ভাইয়ের ওপর। সে যা যা করতে বলে আমরা তা তা জোগান দিই। তাঁকে ঠিকমতো সাহায্য করতে পারলে রান্না ভালো হয়।’

 

চুইঝালের টান

ঢাকার এক মোবাইল ফোন কম্পানিতে কাজ করেন এ কে এম আশিকুল হক। সেদিন পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে এসেছিলেন কামরুল ভাইয়ের হোটেলে। খাওয়ার পরে একগাদা প্যাকেট করেও নিয়ে চললেন।  বলছিলেন, ‘কামরুল ভাইয়ের চুইঝাল মাংস মিস করতে চাই না। ঢাকায়ও এখন চুইঝাল মাংস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু  স্বাদ পাই না। কামরুল ভাই ভেজাল দেন না। দামও তুলনামূলক কম।’ ঢাকার এক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান বলেন, ‘কামরুল ভাইয়ের চুইঝাল গোশত না খেয়ে খুলনা ছাড়ার কথা ভাবতে পারি না।’ প্রধান কারিগর আলী আকবর সরদার বলেন, ‘আমরা  ডুমুরিয়া থেকে বাছ-বিচার করে খাসি, গরু কিনি। টাটকা মাংসের সঙ্গে  চুইঝাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা ও  অন্যান্য মসলা আমরা সঠিক মাপে মেশাই, আর রান্নাটা করি মন দিয়ে। আর কোনো রহস্য নেই।’

 

দামদর

কামরুল হোটেলে গরু ও খাসির চুইঝাল মাংস রান্না হয়। প্রতিদিন প্রায় দেড় মণ মাংস। গরুর মাংসের পিস ১০০ টাকা, খাসির মাংস ১১০ টাকা। আর এখানে ভাত প্রতি প্লেট ১৫ টাকা, সবজি ২০ টাকা, আর ডাল ১০ টাকা।


মন্তব্য