kalerkantho


নয়া পৃথিবী

এসো বাগান করি

‘ভাবনায় সবুজ, ভালোবাসায় সবুজ’ স্লোগান নিয়ে মাঠে নেমেছে ‘এসো বাগান করি’। ফেসবুকভিত্তিক এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা দুই লাখের বেশি। আরো খবর আছে মাহবুবর রহমান সুমনের কাছে

১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এসো বাগান করি

আমিলা আজহারের বারান্দা-বাগান। ছবিটি পোস্ট দিয়ে আরো লিখেছেন, আমাদের দুইটি বারান্দা। এই বারন্দাটা ফুলের, অন্যটিতে সবজি ও ফলের গাছ লাগিয়েছি।

মুনিম সিদ্দিকী

প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাডমিন, এসো বাগান করি

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে পড়েন আরেফিন তামান্না। বাগান করা তাঁর শখ। বাসার বারান্দায় ফুলের বাগান করেছেন। সবই ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎ একদিন খেয়াল করলেন কয়েকটি গাছ নেতিয়ে পড়েছে। ভাবনায় পড়লেন, কিন্তু সমাধান বের করতে পারলেন না। কী মনে করে ফেসবুকে ‘বাগান’ লিখে সার্চ দিলেন। একটি ফেসবুক গ্রুপের সন্ধান পেয়েও গেলেন। গ্রুপে যুক্ত হওয়ার আবেদন করলেন। সদস্য হওয়ার পর যে গাছগুলো নেতিয়ে পড়েছে, সেগুলোর ছবি তুলে আপ করলেন। জানতে চাইলেন, কেন এটা হচ্ছে? সমাধান কী?

গ্রুপটির নাম ‘এসো বাগান করি’ (Eso Bagan Kori)। বাগানবিষয়ক নানা কথা আলোচনা হয় এ গ্রুপে। বলা যায় সমস্যার কথা। পাওয়া যায় সমাধান।

 

যেভাবে সদস্য হবেন

প্রথমে ফেসবুকে লগইন করুন। সার্চ বক্সে গিয়ে লিখুন ‘এসো বাগান করি’ ((Eso Bagan Kori) Let's garden। তারপর গ্রুপ বাটনে ক্লিক করুন। এরপর পাবেন জয়েন গ্রুপের আরেকটি বাটন। তাতে ক্লিক করার পর কিছু প্রশ্ন পাবেন। সেগুলোর যথাযথ উত্তর দেওয়ার পর সেন্ড বাটনে ক্লিক করুন। অল্প সময়ের মধ্যেই নোটিফিকেশন পাবেন, যার অর্থ আপনি সদস্য হলেন। এখন থেকে আপনি গ্রুপে পোস্ট করে পরামর্শ চাইতে পারবেন।

 

বাগান নিয়ে আগ্রহী হলেন কবে থেকে?

১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদেশে ছিলাম। তখন সেখানে চ্যানেল আই দেখার সুযোগ পেতাম, বিশেষ করে শাইখ সিরাজের অনুষ্ঠান দেখতাম। ভাবতাম, বিদেশে এত কষ্ট করি অথচ দেশে বাগান করেই তো অনেকে লাভবান হচ্ছে। তখনই সিদ্ধান্ত নিই দেশে ফিরব। চাকরি করব না আর, বাগান করব। ২০০৬ সালে দেশে ফিরে সোজা মৌলভীবাজারে নিজের বাড়ি চলে যাই। বাগান করা শুরু করি।

 

ফেসবুকে গ্রুপ খোলার ভাবনা এলো কিভাবে?

আসলে কিন্তু বাগান নিয়ে আমার বিশদ ধারণা ছিল না। সে কারণে সরকারি অফিসগুলোতে গিয়ে নানা পরামর্শ নিতাম। কিন্তু সমাধান সে রকম পাচ্ছিলাম না। কারণ মাঠের সমস্যা আর তাদের পরামর্শে ফারাক থেকে যাচ্ছিল। ভাবছিলাম, কী করি। হঠাৎ মনে হলো, বিদেশে যখন থাকতাম তখন দেখতাম বন্ধুরা কম্পিউটারের কোনো সমস্যা হলে সমাধান চেয়ে পোস্ট দিত। আর সমাধানও পেয়ে যেত। আমিও তাই একটি গ্রুপ খোলার কথা ভাবলাম। আর ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ ফেসবুকে গ্রুপটি খুলি।

 

কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

বাগান নিয়ে একটি গ্রুপ খুলে এত সাড়া পাব ভাবিনি। আমাদের দুই লাখ সদস্যের মধ্যে এক লাখ ৮১ হাজার বাংলাদেশের। তার মধ্যে শুধু ঢাকারই এক লাখ ছয় হাজার। আর ভারতের আছে ৯ হাজার। সৌদি আরবের আছে তিন হাজারের মতো। প্রতি মাসে এই গ্রুপে ৯ হাজার পোস্ট পাই। আর সেগুলোতে কমেন্ট পড়ে এক লাখ দুই হাজারের মতো।

 

গ্রুপটি কিভাবে সাহায্য করে?

সত্যি বলতে আমাদের সঙ্গে সে রকম বিশেষজ্ঞ নেই। যাঁরা সমস্যায় পড়েছেন আগে এবং সমাধান খুঁজে পেয়েছেন, তাঁরাই অন্যদের সেসব বিষয়ে পরামর্শ দেন। মানে আমরা নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকি।

 

কী ধরনের পোস্ট পান?

বেশি পোস্ট পাই ঢাকার সদস্যদের কাছ থেকে। তাঁরা ছাদে বা ব্যালকনিতে করা বাগানের ছবি পোস্ট করে থাকেন। গাছের রোগ হলে যেসব চিহ্ন ফুটে ওঠে সেগুলোর ছবি তুলে পোস্ট দেন।

 

গ্রুপ কিভাবে পরিচালিত হয়?

আমিসহ মোট ২০ জন সক্রিয় সদস্য আছেন গ্রুপে। ২৪ ঘণ্টাই কাউকে না কাউকে পাবেন।

 

আপনাদের লক্ষ্য কী?

আমরা চাই আমাদের দেশ সবুজ হয়ে উঠুক। বাসার ছাদে বা যেকোনো ফাঁকা জায়গায় মানুষ বাগান করুক। সপ্তাহের অন্তত দুদিন নিজের বাগানের সবজি রান্না করুক।



মন্তব্য