kalerkantho


বিকেলবাড়ি

ওজ ক্যাফে

পরিবেশবান্ধব ক্যাফেটি ধানমণ্ডিতে। এর অঙ্গসজ্জায় জাদুকর ওজের প্রভাব আছে। এক সন্ধ্যায় ঢু মেরে এসেছেন মাহবুবর রহমান সুমন

৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ওজ ক্যাফে

রোড নম্বর-৯/এ। বাড়ি নম্বর-১৩৩। সহজে চিনবেন ধানমণ্ডি শংকরের স্টেট ইউনিভার্সিটির পরের গলি বললে। রিকশা থেকে নামার পরই দেখবেন মরা গাছের ডাল দিয়ে বানানো দুটি খুঁটির ওপর লাগানো তক্তায় লেখা ওজ ক্যাফে, দ্য ম্যাজিশিয়ান অব ফুড। তক্তার মাথায় একটি হারিকেন ঝুলছে।

 

ঢুকে পড়ি চলুন

প্রবেশদ্বারটিই গুহামতো। পানিতে রাখা কয়েকটি পাথর ডিঙিয়ে ঢুকতে হয়। ঢোকার পর দেখবেন জাদুকর ওজকে। পুরো রেস্তোরাঁকে যেন সে কাঁধের ওপর ধরে রেখেছে। পরিপাটি করে সাজানো এই ক্যাফে। আলোকসজ্জায় ছায়ার খেলা দেখবেন। প্রথম কিছু সময় যে কারোরই মনে হবে আদিম যুগে চলে এসেছেন। নিচতলার বাঁ দিকে রয়েছে কাঠের সিঁড়ি। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে পানি ঝরার শব্দ শুনতে পাবেন। নিচের চেয়ে ওপরের পরিবেশ আলাদা। খোলা আকাশের নিচে এ জায়গা বাঁশ আর কাঠ দিয়ে বানানো। ঠিক মাঝখানে বাথটাবে জাদুকরের প্রিয়তমা জিজিলকে দেখতে পাবেন। এক ধারের দেয়াল থেকে দুটি ছেলে-মেয়েকে দেখবেন দৌড়ে বের হচ্ছে।

 

বসবেন কোথায়

এবার কিন্তু সত্যি দ্বিধায় পড়তে হবে। কোথায় বসবেন, এ নিয়ে দ্বিধা। কারণ সব কর্নারই সুন্দর আর আলাদা। দ্বিতীয় তলায় দোলনাও আছে। তৃতীয় তলাও আছে। দ্বিতীয় তলার মতোই সেখানেও দোলনা আছে। খেতে এসেছেন উম্মে তামান্না দিহা। বললেন, ‘আমি খুবই খাদ্য-রসিক। অনেক রেস্তোরাঁয় খেয়েছি, তবে এটা আমার কাছে আলাদাই লাগে। খাবারও ভালো।’

 

প্রকৃতিবান্ধব

ওজ ক্যাফের প্রায় সব আসবাবই বাঁশ, কাঠ ও বেত দিয়ে তৈরি। যেমন দুটি সিঁড়ির সব কয়টিই বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি। চেয়ারগুলো তৈরি বাঁশ, কাঠ, বেত দিয়ে। টেবিলের মাথায় অবশ্য কাচ বসানো। টিস্যু রাখার জন্যও এখানে ব্যবহৃত হয় বাঁশের তৈরি মগ।

 

যেভাবে ওজ ক্যাফে

এম কে রাজু ক্যাফেটির কর্ণধার। বললেন, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু করেছি। ভাবনাটি এমন ছিল—আদিকালে একজন রান্না করতে খুব ভালোবাসতেন। তাঁর নাম ওজ। প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা উপকরণ নিয়ে যে খাবারই সে তৈরি করত তা সুস্বাদু হতো। তার এই গুণের কথা অবশ্য শুধু তাঁর পরিবারের লোকেরাই জানতেন। ওজ অবশ্য চাইত তাঁর খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক। তাই নিজের মতো করে একটি খাবারের আস্তানা বানালেন। আস্তানাটি দেখতে অনেকটা গুহার মতো। কাঠের টেবিল বসালেন, হারিকেনের আলো দিলেন ইত্যাদি। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু হঠাৎই একদিন ভূমিকম্প হলো। ভেঙে পড়ছিল আস্তানা। উপায় না দেখে সব কিছু ফেলে নিজেই আস্তানার ছাদ ঘাড়ে তুলে নিল ওজ। এই গল্পে ওজের স্ত্রীর নাম জিজেল। তাদের ছেলে-মেয়ে দুটি। ওজ ক্যাফেতে প্রধান শেফ তিনজন। ১০৫ জনের একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় খেতে পারে। চালু হয় সকাল ১১টায় আর বন্ধ হয় রাত ১১টায়।

 

খাবার ও দামদর

থাই, চায়নিজ, আমেরিকান, ইতালিয়ান ও কনটিনেন্টাল—মোট পাঁচ ধরনের খাবার পাওয়া যায়। এখানে পেরি পেরি কম্বো প্যাকেজ ৩৪৫ টাকা। শেফ স্পেশাল কম্বোর দাম ৩৬০ টাকা, চিকেন ফ্রায়েড রাইস কম্বো ২৯৫ টাকা আর বিফ ফ্রায়েড রাইস কম্বো ৩২৫ টাকা। চারজন খেতে পারে এমন টার্কিশ প্লাটারের দাম হাজার পঁচাত্তর টাকা। এ ছাড়া আছে স্ন্যাকস আইটেম, কয়েক রকমের স্যুপ ও সালাদা। পাস্তা, ডেজার্ট, আইসক্রিমও পাবেন।

 

আছে লাইব্রেরিও

ক্যাফের তৃতীয় তলায় রয়েছে ছোট একটি লাইব্রেরি। প্রায় ৩০০টি বই আছে লাইব্রেরিতে। ধারেই একটি পাখির খাঁচা পাবেন। দুটি কবুতর আছে খাঁচায়।

ছবি : ওমর ফারুক বাবু


মন্তব্য