kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুক থেকে পাওয়া

ক্রিকেট কেলেঙ্কারি

আমার বাল্যবন্ধু প্রিন্স। কৈশোরে সে এতটাই ক্রিকেটপ্রেমী ছিল যে সারা দিন সব কিছু ভুলে থাকত। স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসগুলোও সে ফাঁকি দিত। তেমনই একদিনের কথা, হাতে ছোট্ট একটি পকেট রেডিও নিয়ে সে স্কুলে এসেছে। ফার্স্ট ক্লাসের পর তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। বইগুলো বেঞ্চের ওপর রেখে সে হাওয়া! তার জন্য এটা নতুন বিষয় ছিল না। প্রিন্স প্রায়ই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চলে যেত ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে অথবা দেখতে। ইংলিশ ক্লাস শুরু হলো। ক্লাসে পিনপতন নীরবতা। হঠাৎ স্যারের নজর পড়ল প্রিন্সের ফেলে যাওয়া বইগুলোর ওপর। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ওই বইগুলো কার। তখন একজন বলে উঠল, বইগুলো প্রিন্সের কিন্তু তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না! ক্লাস শেষে স্যার প্রিন্সকে খোঁজার অভিযানে নামলেন। তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে এলেন। অবশেষে তিনি স্টুডেন্ট টয়লেটের দিকে পা বাড়ালেন। হয়তো ছুটির ঘণ্টা সিনেমার কথাটা স্যারের মনে পড়ে গিয়েছিল। স্যার টয়লেটের দরজায় হাত দিতেই খুলে গেল। তিনি দেখলেন টয়লেটে বসে রেডিও শুনছে প্রিন্স! স্যারকে দেখে বেচারা ভয়ে ও লজ্জায় চিৎকার দিয়ে উঠল। অন্যদিকে নিরীহ রেডিওটা হাত থেকে ছিটকে নিমজ্জিত হলো টয়লেটের অতল গহ্বরে!

আইরিন আক্তার

আমলা সদরপুর, মিরপুর, কুষ্টিয়া।

 

উঁচু-নিচু ভেদ থাকে না

এক সপ্তাহ ধরে বাবা রোজ সবার পছন্দের কিছু না কিছু আনছেন। একটা দিনও মিস যাচ্ছে না। সবার প্রথমে এক টুকরি কাঁচা আম, যা আমার আর আমার বোনের খুব পছন্দ। ভর্তা হোক বা লবণ-ঝালে মিশিয়ে হোক। প্রতিবার এই সিজনে মা আচার বানান। এবারও বানালেন, তবে আচারের লিস্টিটা বাবার কাছ থেকেই এলো। যেগুলো মার কাছে অজানা বা নতুন মনে হয়েছে বাবা নিজ দায়িত্বে ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করে দিয়েছেন। তারপর এনেছেন পাকা আম, আনারস আর লিচু, জাম, যা আমার খুব প্রিয়। মোট কথা, এই সিজনটাই আমার প্রিয়। চারদিকে কেমন ফলের গন্ধে থইথই করে। ছোটবোন খুব একটা ফল খায় না, তার প্রিয় ফাস্ট ফুড। তার জন্য বাবা ফাস্ট ফুডগুলোই এনেছেন। মার পছন্দের ছোট মাছ, ডিফারেন্ট ডিফারেন্ট সবজি, ছোট ভাইয়ের পছন্দের ফিরনি চালও বাদ যায়নি। হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেছেন, এই নাও, এগুলো শেষ করে রোজার প্রস্তুতি নাও। এতক্ষণে বাবার উদ্দেশ্য পরিষ্কার। আসলে আমার ছোট বোন আর ভাইটা অনেকই খাবারপ্রিয়। ক্ষুধার জ্বালা তাদের সহ্যই হয় না। খাবার দেখলেই লাফিয়ে ওঠে আর রোজা ভেঙে ফেলে। মা-বাবা কত করে বুঝিয়েছেন, তোমাদের জন্য নামাজ-রোজা ফরজ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাদের এই বিধান মানতে হবে। কিন্তু এবার বাবা স্ট্রিক্ট, রোজার সময় সারা দিন ঘরে কোনো বাড়তি খাবার আনা হবে না। যে একটা রোজা ভাঙবে তার জন্য কোনো শপিং হবে না। আর খাবার শুধু ইফতারির আগে বাবা আসার সময় নিয়ে আসবেন। রোজা যেভাবেই হোক রাখতে হবে। বাবা আরো বলেছেন, প্রতিবারের মতো এবারও গরিব-দুঃখীদের সঙ্গে ইফতারি করব সবাই। সে জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে রাখো। সত্যি বলতে রোজায় এই একটা জিনিস আমারও খুব পছন্দ—উঁচু-নিচু কোনো ভেদাভেদ থাকে না।

সোহানা পারভিন

 

ভালো থেকো তোমরা

ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাচ্ছি। এবারের ঈদটা কিছু আলাদাই হচ্ছে। গত সেমিস্টার ব্রেকে যখন বাড়ি গেলাম, ছুটির প্রথম দিকেই দাদি আমাদের সবার থেকে দূরে চলে গেলেন আর শেষের দিকে চাচাকে হারালাম। সরকারি চাকরির কারণে বাবা বাড়ি থাকতেন না। অভিভাবক বলতে চাচাই ছিলেন সব। স্কুলজীবনে যত সফলতা এসেছিল সবটার কারণই ওই মানুষটা। আর দাদি ছিলেন বাড়ির দুষ্টু ছেলেদের শেষ আশ্রয়স্থল। চেয়েছিলাম পড়াশোনা শেষ করে যদি বড় কিছু হতে পারি, তাহলে তাঁদের সালাম করে বলব, এই সফলতা আমার নয়, তোমাদেরই সব। কিন্তু স্বপ্নটা আর কোনো দিনই সত্যি হবে না। শুধু বলি ভালো থেকো তোমরা, যত দূরেই থাকো।

আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 



মন্তব্য