kalerkantho

যোগসূত্র

ইনতি

২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ইনতি

সূর্য উৎসব ইনতি রেইমি

এখন ঢাকার আকাশেও উড়ছে ইনকার সূর্য। যাঁরা আর্জেন্টিনার সমর্থক, তাঁরা অনেকবারই দেখেছেন; যাঁরা নন, তাঁরাও হয়তো বাদ যাননি। আর্জেন্টিনার পতাকায় আছেন সূর্যদেব। ইনতি নামের এই দেবতার সঙ্গে পরিচিত হতে চেয়েছিলেন আহনাফ সালেহীন

 

যদিও ১০০ বছর মাত্র টিকে ছিল, তবু ইনকা সভ্যতা দাগ রেখে গেছে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর থেকে দক্ষিণের শেষ সীমা পর্যন্ত, মানে কলম্বিয়া থেকে চিলি পর্যন্ত। জ্যোতির্বিদ্যায় যেমন শিল্পকলায়ও অগ্রসর ছিল ইনকা। লেক টিটিকাকা থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। মূলত একটি নৃগোষ্ঠীই এ সভ্যতার ধারক ছিল। পরে তারা আশপাশ জয় করেছে এবং দূরের জনগোষ্ঠীগুলোকেও একত্র করেছে। ১৫৩৩ সালে স্প্যানিশরা ইনকা সাম্রাজ্য দখল করে নেয়।

 

সূর্যদেব ইনতি

ইনকাদের প্রধান দেবতা। যেহেতু আলো দেয়, তাই চাষিদের কাছে তার আদর ছিল বেশি। ইনতি পুরুষ দেবতা। চাঁদ তার স্ত্রী। ইনকা রাজপরিবার বিশ্বাস করত তারা ইনতির বংশধর। এ বিশ্বাস ধরে রেখেছিলেন শেষ ইনকা সম্রাট আতাহুয়ালপাও। ইনকা রাজধানী কুজকোর সবচেয়ে বড় মন্দিরটা ইনতিরই ছিল। ইনকাদের অনেক স্বর্ণ ছিল। ইনতির মন্দিরটিকে তারা ডাকত করিকানকা (সূর্যের বাড়ি) নামে। বিরাট ছিল ইনতির মন্দির। পুরোহিত ও চাকরদের থাকার জন্য আলাদা কলোনি ছিল। ইনকারা পাথরের স্থাপনায় দারুণ দক্ষতা অর্জন করেছিল। মন্দিরটি আজও তার সাক্ষী হয়ে আছে। ইনকারা বিশ্বাস করত স্রষ্টা ভিরাকোচা ও তাঁর স্ত্রী মামাকোচার পুত্র ইনতি। ভিরাকোচার আরো দুই সন্তানের নাম পাচামামা ও মামা কিলা। পাচামামা মাটির দেবতা, আর মামা কিলা চাঁদের। এই মামা কিলা ইনতির বোন ও স্ত্রী। ইনতির আর মামার দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলের নাম মানকো চাপাক, আর মেয়ের নাম মাম ওকলো। ইনকারা বলত, আমরা ছিলাম বর্বর। আমাদের খুব অভাব ছিল। ইনতি আমাদের সভ্যতা দিয়েছে। ইনতি ভালো দেবতা। আমাদের অভাব দেখে ছেলে আর মেয়েকে ডেকে বলল, ওদের সম্পদ দাও, সমৃদ্ধি দাও। তবে ইনতির কিন্তু রাগও অনেক। সে কারণেই তাকে আমরা অনেক দিয়েথুয়ে চলি।

 

ইনতি রেইমি 

সূর্য উৎসব ইনকাদের খুব বড় উৎসব। ইনকা বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাসে এ উৎসব হতো। সে অর্থে জুনের ২০ অথবা ২১ তারিখে। পুরো রাজত্বেই এ উৎসব হতো, তবে বড়টি হতো কুজকোতে। উৎসব হতো কয়েক দিন ধরেই এবং অনেক পশু উৎসর্গ করা হতো। ইনতি ও আরো দেবতার মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা হতো। মূর্তিগুলোকে বিশেষ পোশাকও পরানো হতো। খুব নাচ-গান হতো উৎসবের দিনগুলোতে। কাঠ দিয়েও কিছু নকল মূর্তি তৈরি করা হতো, যেগুলো শেষ দিনে পুড়িয়ে ফেলা হতো। 

 

ইনকাদের ইনতি আরাধনা

ইনতির আরো কিছু কথা

এমনিতে ইনতি উদার, দিলখোলা। শুধু গ্রহণকালে রেগে যায়। তখন পুরোহিতরা তাকে খুশি করতে পশু তো বটেই, মানুষও বলি দিত। স্প্যানিশরা ইনতি পূজাকে খারাপ চোখে দেখেছিল। তারা মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, মূর্তি পুড়িয়েছিল, আর উৎসবও নিষিদ্ধ করেছিল। স্প্যানিশদের দমন-পীড়নে দ্রুতই ইনকা আচার-প্রথা বিলুপ্ত হয়েছিল। তারা অগণিত সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক ইনকা উপকরণ ধ্বংস করেছে। শেষ ইনকা রাজা আতাহুয়ালপার মুক্তিপণ হিসেবে স্প্যানিশরা নিয়ে নিয়েছিল ইনতির মন্দিরের প্রায় সব সোনার মূর্তি। ইদানীংকালে আবার ইনতি রেইমি উৎসবের আয়োজন হচ্ছে মূলত পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য।

সূত্র : থটকোডট এবং অ্যানশিয়েন্টঅরিজিনসডটনেট



মন্তব্য