kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুক থেকে পাওয়া

প্রত্যেক বাবা সব মেয়ের বাবা হোক

১৪ জানুয়ারি হোম ইকোনমিক কলেজে অ্যাডমিশনের জন্য ভাইবা ছিল। আর সেদিন ছিল ইজতেমার মোনাজাত। আমার বাসা যেহেতু উত্তরায়, তাই শাহবাগ পৌঁছানোটা আমার জন্য খুব কষ্টকর ছিল। আমি ভোরে রওনা দিই। বাসা থেকে রিকশা করে রাজলক্ষ্মী পৌঁছার পর দেখলাম রাস্তায় কোনো বাস নেই, মানুষের ঢল। সবাই মোনাজাতে অংশ নিতে টঙ্গীর দিকে হাঁটছে। রাস্তার কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করার পর নিশ্চিত হলাম যে তিন-চারটার আগে এই রোডে বাস পাব না। আমাকে একজন বললেন আপনি হেঁটে বা রিকশায় এয়ারপোর্ট চলে যান, সেখান থেকে সিএনজি পাবেন। আমার তখন মিরপুর পৌঁছতে পারলেই হয়, ভাইয়া মিরপুর থাকেন এবং তিনি বলেছেন, মিরপুর থেকে আমাকে নিয়ে যাবেন। আমি সময় নিয়েই বেরিয়েছিলাম, কাজেই হেঁটে হেঁটে এয়ারপোর্ট পৌঁছাই। সেখানে বেশ কয়েকটি সিএনজি ছিল, মিরপুর যাওয়ার জন্য সিএনজি দেখছিলাম, একেকটি ৮০০-৯০০ টাকা করে চাচ্ছিল। সত্যি বলতে আমার কাছে তখন সব মিলিয়েও এত টাকা ছিল না। তাই ভাবছিলাম, কারো সঙ্গে শেয়ার করে যেতে পারলে হতো। তখনই দেখলাম মিরপুর যাওয়ার জন্য একজন আংকেল সিএনজি দেখছেন। আমার বাবার বয়সী, বেশ ভদ্র ও শিক্ষিত বলে মনে হলো। আমি তখন বললাম যে আমিও মিরপুর যাব। ততক্ষণে তিনি একটি সিএনজি ঠিক করেন ৩০০ টাকায়। আমি তখন কিছু না ভেবেই উঠে বসি। যাওয়ার পথে আংকেল আমাকে অনেক প্রশ্ন করছিলেন—নাম কী, কোথায় যাচ্ছি, বাবা কী করেন ইত্যাদি। আমিও খুব সহজভাবে উত্তর দিচ্ছিলাম। কিছুটা পথ যাওয়ার পর দেখলাম, রাস্তা বেশ ফাঁকা এবং নীরব। আমি এই রাস্তা ভালোভাবে চিনিও না। কারণ দু-তিনবারের বেশি এ দিকে যাওয়া হয়নি আমার। আমার খুব ভয় লাগছিল কোনো কারণ ছাড়াই। এর মধ্যে ভাইয়া কল দিয়ে জানতে চাইলেন বের হয়েছি কি না। যখন বললাম সিএনজিতে, তখন খুব রেগে গেলেন যে কার সঙ্গে, কখন বের হলাম, কল দিয়ে বের হলাম না কেন। ফোনে টাকা ছিল না আর বাইরে এসে একটাও দোকান খোলা পাইনি লোড দেওয়ার জন্য। ভাইয়ার সঙ্গে কথা বলা শেষে আমি ড্রাইভারকে দুবার ডেকেছি এটা কোন জায়গা জানার জন্য; কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। তখন আমার ভয় আরো বাড়ছিল, মনে হচ্ছিল আমার সঙ্গে খারাপ কিছু হতে চলছে। কারণ আমিও তো রুপার বোন। মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করছিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর আংকেল বলাতে সিএনজি থামল এবং তিনি আমাকে বললেন, তুমি রিকশা নিলেই সামনে যেতে পারবে। আমি অন্য রাস্তায় যাব। আমি যখন ভাড়া দিতে গেলাম আংকেল বললেন, না, তোমাকে দিতে হবে না। আমি তোমাকে এটুকু সাহায্য করতে পারি, ভালোভাবে ভাইবা দিয়ো। এসব বলতে বলতেই সিএনজি আমার পাশ কাটিয়ে চলে গেল। আমি ধন্যবাদও দিতে পারিনি। তখন আমার মনে হচ্ছিল, এই লোকটা আমার বাবা। একবার পা ছুঁয়ে সালাম করতে ইচ্ছা হচ্ছিল। আমি জানি না, তিনি এই লেখাটা পড়বেন কি না। তবে এটুকুই বলব, এই মানুষগুলো আছে বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর, এখনো আমরা ভরসা রাখার জায়গা খুঁজে পাই। প্রত্যেক বাবা পৃথিবীর সব মেয়ের বাবা হোক। প্রত্যেক ছেলে সব মেয়ের ভাই হোক।

সেতু মজুমদার

উত্তরা, ঢাকা।

 

সময় বদলে গেছে

একটা সময় ছিল, যখন ঈদ মানে বুঝতাম উৎসব, আনন্দ, নতুন জামা ইত্যাদি। ঈদের দিন খুব সকালে আব্বুর ডাকে ঘুম ভাঙত। তারপর গোসল করতাম। নামাজের জন্য রেডি করে দিত আব্বু। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে আম্মুর বানানো সেমাই-পায়েস খেয়ে যেতাম। আব্বুর হাত ধরে সেই ছোট্ট পায়ে হেঁটে হেঁটে নামাজে যেতাম। খুব ভালো লাগত এভাবে আব্বুর আঙুল ধরে হাঁটতে। নামাজ শেষে আব্বু বুকে জড়িয়ে নিত। কোলাকুলি করত। সালামি দিত। শৈশবের ঈদগুলো এমনই মধুর ছিল। আর এখন, ঈদ মানে আর পাঁচটি দিনের মতোই একটি দিন। এখন আর কেউ ঘুম থেকে ডেকে দেয় না। এখন আর কেউ সকাল-সকাল ‘ঈদ মোবারক বাবা’ বলে না। এখনো ঈদের নামাজে যাই ঠিকই; কিন্তু সেই ছোট্টবেলার মতো এখন আর কেউ হাত ধরে নিয়ে যায় না। এখন আর কেউ নামাজ শেষে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কোলাকুলি করে না। এখনো সালামি পাই ঠিকই। তবে আগের মতো বাঁধভাঙা আনন্দটা এখন আর কাজ করে না। আজ আব্বুও আছে। আমিও আছি। কিন্তু দিনগুলো পাল্টে গেছে। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। তবে আজও আব্বুর হাত ধরে নামাজে যেতে ইচ্ছা করে। আজও আব্বুকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করতে ইচ্ছা করে।

হয়তো বড় হয়ে গেছি। কিন্তু অনুভূতিগুলো তো সেই আগের মতোই আছে।

রোজিন খান

 

ট্রেনে দেখা সেই মেয়েটি!

কয়েক বছর আগের কথা। সেবার ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার এক দিন পরেই রাবিতে পরীক্ষার তারিখ পড়েছিল। তাই ঢাবিতে পরীক্ষা দেওয়ার পর ট্রেনে রাজশাহীর উদ্দেশে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে হাজির হলাম। একদিকে লম্বা লাইন, অন্যদিকে ট্রেন আসার সময় হয়ে আসছিল, তাই সামনের একটি বড় আপুকে টাকাটা দিলাম টিকিট কেটে দেওয়ার জন্য। তারপর টিকিট নিয়ে খুশি মনে ওয়েটিং রুমে বসে আছি। হঠাৎ ওই আপু সঙ্গে আরেকটি মেয়ে নিয়ে হাজির। মেয়েটি ওই আপুর ছোট বোন। সেও রাজশাহী যাবে পরীক্ষা দিতে, কিন্তু কিছুই চেনে না। তাই আপু আমাকে রাজশাহী আত্মীয়ের বাসায় বোনকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে চলে গেলেন। মনে মনে খুশিই হলাম এই ভেবে যে যাক দীর্ঘ যাত্রাটা গল্প করেই কাটিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু সমস্যা হলো টিকিটে কারোরই সিট নম্বর নেই। যাহোক পরে অবশ্য ট্রেন যাত্রাটা এতটা সুখকর হয়নি। ভদ্রতাবশত মেয়েটিকে একটি সিট ম্যানেজ করে দিতে পারলেও নিজেকে দাঁড়িয়েই কাটাতে হলো। আর দীর্ঘ যাত্রাপথে মেয়েটির নাম আর রেজাল্ট ছাড়া কিছুই জানা হয়নি। ট্রেন থেকে নেমে মেয়েটি বলল, সে কাজলায় যাবে। কাজলার অটোতে তুলে দিলাম। আমিও আরেকটি অটোতে উঠলাম। হঠাৎ অটোতে একটা গান বেজে উঠল—তুই যদি আমার হইতিরে...। কয়েক ঘণ্টার যাত্রা শেষ হয়ে গেল, কিন্তু এত বছরেও মেয়েটিকে মন থেকে মুছতে পারিনি।

আল সানি

সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

সুখের কাছে চিঠি

প্রিয় সুখ, তুমি কোটি কোটি চিঠির উত্তর না দিয়ে বেজায় খুশি আছ! তুমি কি ভেবেছ তোমার পানে ছুটতে ছুটতে সবাই ক্লান্ত হয়ে যাবে, আর তুমি আরাম কেদারায় বসে থাকবে? এই শোনো, তোমাকে একপলক দেখার জন্য কত মানুষের রাতের ঘুম হারাম, সেটা কি তুমি দেখেছ? তুমি নাকি অধরা, তোমায় নাকি খুঁজে পাওয়া ভার? আমার কেন জানি মনে হয়, তুমি আছ সবখানে। কেউ তোমায় বোঝে না, তুমি ধরা দাও সংগোপনে। খুব ছোট্ট কারণে মানুষ তোমায় পর করে দেয়, আর দুঃখকে আলিঙ্গন করে। তারা কি জানে না, তুমি থাক নীড়হারা পথের কোনো এক কিশোরের দুরন্তপনায়, তুমি থাক মুমূর্ষু রোগীর বেঁচে থাকার আর্তনাদের মাঝে! তোমাকে কেউ বিশ্বাস করে না! তুমি নাকি বিজলির মতো, তুমি নাকি প্রতারণা করো, তুমি নাকি হাসি কেড়ে নাও! তোমার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে সেদিনের যুবক আজ বৃদ্ধ, তবু কেন তুমি করো এ খেলা? একেকজনের কাছে তুমি একেক রকম; কুঁড়েঘরে থেকেও তোমায় খুঁজে পাওয়া যায়, আবার অট্টালিকার শহরে তোমায় খুঁজে পাওয়া ভার! তুমি কি আদৌ দেখা দেবে? নাকি তুমি দেখা দেও রোজই? নাকি সন্তুষ্টির অভাবে আমরা তোমায় পাই না খুঁজে? তুমি থাকো সুখ হয়ে সর্বহারাদের মাঝে। যাদের কাছে সুখ শব্দের অর্থভাণ্ডার অনেক বড়, তারা কখনো তোমায় খুঁজে পাবে না! তোমায় খুঁজে পাগলপারা না হয়ে তোমায় অনুভব করলে হতাশায় থাকা মানুষগুলো সত্যি অনেক ভালো থাকত, তারা সুখ বিলিয়ে দিত সবার মাঝে।

ইতি

সানজিদা জাহিন প্রিমা



মন্তব্য