kalerkantho


বয়স ৩০ হওয়ার আগেই নারীদের যে স্বাস্থ্যপরীক্ষাগুলো করানো জরুরি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:৫৪



বয়স ৩০ হওয়ার আগেই নারীদের যে স্বাস্থ্যপরীক্ষাগুলো করানো জরুরি

জীবনের প্রতিটি স্তরেই নারীদেরকে তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আধুনিক নারীদের সুপার ওমেন হিসেবে ভাবা হয় এবং ঘরকন্না থেকে শুরু করে সবকিছুতেই নিখুঁত হতে হবে বলেই ধরে নেওয়া হয়।

ফলে ঘরে হোক কি বাইরে, সব জায়গাতেই নারীদের ওপর ক্রমাগত বেড়ে চলা কাজের চাপ তাদের স্বাস্থ্য ধ্বংস করছে। সুতরাং নিয়মিত তাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো জরুরি। বিশেষ করে ৩০ বছর বয়সের আগেই তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কারানো উচিত। কারণ এ সময়টাতেই তারা সবচেয়ে মারাত্মক সব রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। আগেভাগেই যদি সতর্ক হওয়া যায় তাহলে অর্থ, সময় ও শক্তির অপচয় হবে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো করাতে হবে নারীদের।

১. প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট
সার্ভিক্যাল ক্যান্সার বা জরায়ু মুখের ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য এই টেস্টটি করানো হয়। জননাঙ্গের একটু ওপরে গর্ভের নিম্নাংশকে বলে সার্ভিক্স। মূলত ২১ বছর হওয়ার পর এই পরীক্ষাটি করানো দরকার।

আর প্রতি তিন বছর পরপর এই পরীক্ষাটি করাতে হবে। নারীদের অকাল মৃত্যুর অন্যতম একটি কারণ এই ক্যান্সার।

২. ম্যামোগ্রাম
এই পরীক্ষাটি করানো হয় স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য। স্তনের শুধু এক্সরে করার মাধ্যমেই এই পরীক্ষাটি করানো হয়। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের প্রতি দুই থেকে তিনি বছর পরপর এই পরীক্ষাটি করানো উচিত।

৩. রক্তচাপ
পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি হার্টের রোগ এবং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন। ২০ বছর হওয়ার পরপরই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক থেকে বাঁচার জন্য এই পরীক্ষাটা করানো জরুরি।

৪. কোলেস্টেরল স্ক্রিনিং
নারী বা পুরুষ যে কারো জন্যই এই পরীক্ষাটি জরুরি। আর যে নারীদের বয়স ২৫ অতিক্রম করেছে তাদের জন্য এই পরীক্ষাটি অতি আবশ্যক। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না থাকলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষয়, কিডনি বিকল, ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো রোগ হতে পারে।

৫. রক্তের গ্লুকোজ
ডায়াবেটিস শনাক্ত করার জন্য রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। ডায়াবেটিস হলো একটি নীরব ঘাতক। এর ফলে চোখের দৃষ্টি হারানো, কিডনি বিকল হওয়া এবং পায়ে জখম হলে পচে যাওয়ার মতো মারাত্মক সব সমস্যা হতে পারে। বয়স ৩০ হওয়ার আগেই এই স্বাস্থ্য পরীক্ষাটি করাতে হবে।

৬. থাইরয়েড টেস্ট
এই পরীক্ষা করালে থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (টিএসএইচ) নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। টিএসএইচ বেশি হওয়াটা হাইপোথাইরয়েডিজম আর কম হওয়াটা হাইপারথাইরয়েডিজম এর লক্ষণ। টিএসএইচ এর মাত্রা কম হলে ওজন বাড়া, ক্লান্তি ও অবসাদ, ত্বকের শুষ্কতা এবং নখের ভঙ্গুরতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। আর কম হলে অনিদ্রা এবং ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। প্রতি পাঁচ বছর পরপর এই টেস্টটি করানো উচিত।
সূত্র : বোল্ডস্কাই


মন্তব্য