kalerkantho


মানসিক সমস্যার থেরাপিতে ৯ বিষয় খেয়াল রাখুন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:১৩



মানসিক সমস্যার থেরাপিতে ৯ বিষয় খেয়াল রাখুন

ছবি অনলাইন

শরীরের অসুখের মতো আমাদের মানসিক অসুখও হতে পারে। আর মানসিক সমস্যাও সঠিকভাবে থেরাপির মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়।

তবে আপনি যদি মানসিক সমস্যায় থেরাপি নিতে চান তাহলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন। এগুলো তুলে ধরা হলো এ লেখায়-

প্রত্যেক থেরাপিস্ট আলাদা
আপনার মানসিক সমস্যা একটি বিশেষ ধরনের হতে পারে। তবে এজন্য সব থেরাপিস্টের চিকিৎসা এক নয়। প্রত্যেকে নিজস্ব অভ্যাস অনুযায়ী থেরাপি দেন। আর তাই থেরাপিস্ট পাল্টানোর আগে একটু চিন্তা করে নিন। এ ছাড়া থেরাপিস্ট বাছাই করার ক্ষেত্রেও আপনি আগে থেকে খোঁজ নিয়ে নিতে পারেন।

নিজের থেরাপি নিজেই নয়
আপনি যদি মনে করেন থেরাপিস্ট যা করতে পারছে, আপনিও তাই পারবেন তাহলে ভুল করবেন। কারণ থেরাপিস্ট এ কাজে দক্ষ। আপনি একই রকম কাজ করতে পারবেন না।

এতে ভালোর চেয়ে মন্দ হবে। আপনার রোগ বেড়ে যেতে পারে।

সমস্যা প্রকাশ করা কঠিন
আপনি যদি থেরাপি শুরু করার পরে দেখেন যে, মনোবিদের কাছে সঠিকভাবে সমস্যা তুলে ধরা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে তাহলে হতাশ হবেন না। কারণ এটি স্বাভাবিক বিষয়। অধিকাংশ মানুষই থেরাপিস্টের কাছে নিজের সমস্যা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন না। থেরাপিস্ট এ বিষয়টিতে অভ্যস্ত। আশা করা যায় তিনি ঠিকই সমস্যাটি নির্ণয় করে থেরাপি দিতে পারবেন।

সঠিক তথ্য দিন
চিকিৎসকের কাছে ভুল তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপন করা হলে আপনার সঠিক চিকিৎসা হবে না। তাই নিজের মনে যা আছে, ঠিক তাই প্রকাশ করুন। বেশি কিংবা কম প্রকাশে আপনার ক্ষতি হবে।

ভালো থেরাপিস্ট কর্তৃত্বপরায়ণ নয়
একজন ভালো থেরাপিস্ট আপনাকে জোর করে কোনো কিছু করতে বাধ্য করবেন না। এ কারণে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, থেরাপিস্ট তার কাজ এমনভাবে করবেন তাতে আপনার অস্বস্তি হবে না। আর যদি অস্বস্তি হয় তাহলে বুঝতে হবে কোনো একটি সমস্যা হয়েছে। এক্ষেত্রে থেরাপিস্ট পাল্টানোর কথাও ভাবতে পারেন।

নিরাপত্তা ও পছন্দ আলাদা বিষয়
আপনার থেরাপিস্ট ব্যক্তিগত বন্ধু নন। তাই উভয়ের মাঝে একটি পার্থক্য থাকবেই। এক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসার জন্য তিনি হয়ত বহু বিষয় বন্ধুর মতোই আনবেন। কিন্তু তার পরেও সীমারেখার কথা ভুলে গেলে  চলবে না।

প্রাইভেসি থাকবেই
থেরাপিস্ট হয়ত সবার থেকেই বহু ব্যক্তিগত বিষয় জেনে নেন। কিন্তু যেসব বিষয় আপনার প্রাইভেসি নষ্ট করতে পারে, তা এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম। একইভাবে আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে যোগ করা উচিত নয়।

প্রস্তুতি নিতে হয়
সাধারণত থেরাপি শুরু হয় আপনার সপ্তাহের বর্ণনা বা আগের সিটিংয়ের পরের ঘটনাবলী স্মরণের মাধ্যমে। এসব বিষয় আপনি যতই বর্ণনা করবেন ততই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আপনি আপনার মনের আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করবেন থেরাপিস্টের কাছে। এতে আপনার মানসিক কোনো ব্লক থাকলে তা নির্ণয় করতে পারবেন থেরাপিস্ট।

সপ্তাহ ভিত্তিতে আলোচনা
প্রতি সেশনে আপনি সপ্তাহের ভিত্তিতে আলোচনা করতে পারেন। বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যা আপনার মনে দাগ কেটেছে, তা বর্ণনা করতে পারেন। কোন বিষয়টি আপনার ভালো লেগেছে, কোন বিষয়টি মন্দ লেগেছে, এটাও আপনি বর্ণনা করতে পারেন। এতে আপনার মানসিক সমস্যা সমাধানের দুয়ার খুলে যাবে।
সূত্র : ডন।


মন্তব্য