kalerkantho


বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা শুরু আজ

কাশিয়ানির এই উৎসবে যোগ দিচ্ছে লাখ লাখ ভক্ত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কাশিয়ানি উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে আজ বুধবার শুরু হবে লাখ লাখ মতুয়াভক্তের সমাগমে শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০৭তম জন্মতিথিতে বারুণী মহাস্নানোৎসব ও মেলা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় স্নানোৎসব ও মেলা এটি।

আজ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরি শচিপতি ঠাকুর ও হেমাংশুপতি ঠাকুর স্নানোৎসবের উদ্বোধন করবেন। এ সময় পদ্মনাভ ঠাকুর, অমিতাভ ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর, সুপতি ঠাকুর শিবুসহ ঠাকুর পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবে। স্নান চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্নানোৎসব ও মেলা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ি এলাকায় উচ্চ পর্যবেক্ষণ চৌকি ও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি মতুয়া সংঘের তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে।

মতুয়াভক্ত ও হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের ভক্তরা এখানে স্নান করেন পাপ মোচনের জন্য। ভক্তরা প্রথমে কামনা ও পরে শান্তিসাগরে (বড় পুকুর) স্নান করে প্রার্থনা করে থাকে। স্নানোৎসব উপলক্ষে বসে মহাবারুণী মেলা। মেলা চলবে আগামী শনিবার বিকেল পর্যন্ত। মেলায় কুটির শিল্পসামগ্রী, খেলনা, মাটি ও বাঁশের জিনিস, তালপাখা, চিনির তৈরি (সাজ) পশুপাখি, খেলনা ইত্যাদি খাদ্য, নাগরদোলাসহ শিশুদের বিনোদনের নানা আয়োজন থাকছে।

হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরি কাশিয়ানি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ নানা দেশের মতুয়াভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দিয়ে থাকে। হাতে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান এবং ডাংখা (বড় ঢোল) বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে তারা ছুটে আসে তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে। বর্তমানে বাস, ট্রাক, নসিমন, করিমন, ইজি বাইক, থ্রি-হুইলার এবং নৌকা-ট্রলারে করেও মতুয়াভক্তরা আসে।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান থান জানান, অনুষ্ঠানটি নিরবচ্ছিন্ন করতে ২০০ পুলিশ সদস্য পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। অনুষ্ঠানস্থলে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। আগত লোকদের নিরাপত্তা দিতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য পুলিশ সর্বদা কাজ করবে। কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে বড় ধরনের সমাবেশ হয়; তাই ঠাকুরবাড়ির প্রবেশপথে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি টিভি ক্যামেরা, পর্যবেক্ষণ চৌকি (ওয়াচ টাওয়ার) বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।



মন্তব্য