kalerkantho


রাজবাড়ীতে স্বীকারোক্তি

খুনের পর লাশদেখতে গিয়েছিল হত্যাকারী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রাতে খুন করেছিল। পরদিন উত্সুক জনতার সঙ্গে লাশ দেখতে গিয়েছিল। আঞ্জু বেগম (৪৬) হত্যা মামলায় আটক আসামি নুর আলম শেখ (২৫) গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ীর বিচারিক হাকিম আদালতে এ কথা স্বীকার করেছে।

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পেছনে থাকা চেয়ারম্যানের মেহগনি বাগান থেকে আঞ্জুর লাশ গত সোমবার দুপুরে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর পুলিশ গতকাল সকালে নুরকে আটক করে। সে আলাদীপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ সেখের ছেলে।

রাজবাড়ী থানার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর পর তাঁরা আসামি গ্রেপ্তার করতে তৎপর হন। স্থানীয় আলাদীপুর বাজারে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আঞ্জু ঘোরাফেরা করেন। এ সময় নুর তাঁকে ইশারায় ডেকে নিয়ে যায়। পুলিশ গতকাল ভোরে নুরকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, আঞ্জু মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। অনেকে রাতে তাঁর সঙ্গে যৌনকর্ম করত। ফলে আঞ্জুর কাছে সব সময় টাকা থাকত। সে টাকা থাকার বিষয়টি জানত। আঞ্জুকে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে থাকা চেয়ারম্যান শওকত হাসানের মেহগনি বাগানে নিয়ে আসে। সে তাঁকে নিয়ে আসার পর একটি মোবাইল ফোনসেট কেনার জন্য ৫০০ টাকা হাওলাত চায়। এতে আঞ্জু তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। এ কারণে রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরদিন সকালে সে উত্সুক জনতার মতো লাশ উদ্ধারের স্থলে আসে এবং লাশ দেখে বাড়ি ফিরে যায়।

লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক তারেক বলেন, ‘শ্বাসরোধে হত্যা করার বিষয়টি পরিষ্কার হতে পেরেছি। সেই সঙ্গে শারীরিক আলামত দেখে বুঝতে পেরেছি, তাঁকে ধর্ষণ করা হতে পারে।’



মন্তব্য