kalerkantho


জামালপুরে সাদা পোশাকে হানা, ভাঙচুর মারধর টাকা লুট

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জামালপুর পৌর এলাকার রশিদপুর গ্রামের জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে ওয়্যারলেস সেট হাতে সাদা পোশাকে অজ্ঞাতপরিচয় একদল লোক হানা দিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় তারা ওই নেতার বৃদ্ধ মাকে মারধর করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জামালপুর সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কোনো টিম ওই রাতে রশিদপুর গ্রামে অভিযানে যায়নি। তাই ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পৌর এলাকার রশিদপুর গ্রামের জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে আমরা ঘুমিয়েছিলাম। রাত আড়াইটার দিকে সাদা পোশাকের ছয়জন লোক দরজায় ধাক্কা দিয়ে আমাদের উঠতে বলেন। এ সময় আমার বৃদ্ধ মা দরজা খুলে দেন। আমি তখনো খাটে শুয়েছিলাম। ঘরে তখন বাতি জ্বালানো ছিল না। লোকগুলো টর্চ লাইট দিয়ে সার্চ করতে থাকে। প্রত্যেকে গায়ে গেঞ্জি ও প্যান্ট পরে এসেছিল। একজনের হাতে ওয়্যারলেস সেট ও বাকিদের হাতে লাঠি ছিল। তারা আমার মাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মেরে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে তারা টাকা-পয়সা দাবি করে। না পেয়ে তারা আমাদের ২২ ইঞ্চি এলইডি টিভি ও ৫২ হাজার টাকার একটি আইফোন সেট ভাঙচুর করে। পরে টিভি সেটের নিচে রাখা ১৫ হাজার টাকা লুট করে। যাওয়ার সময় তারা এ ঘটনা কাউকে না বলতে শাসিয়ে যায়। তারা একটি মাইক্রোবাস ও দুটি মোটরসাইকেলে দ্রুত সটকে পড়ে। তারা চলে গেলে আমাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।’

এদিকে জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, কৃষক দলের নেতার বাড়িতে সাদা পোশাকে হানা দিয়ে ভাঙচুর ও টাকা লুট করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে জামালপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের ডিবির কোনো টিম রশিদপুরের ওই বাড়িতে অভিযানে যায়নি। হয়তো দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’ 

জামালপুর সদর থানার ওসি মো. নাছিমুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে রশিদপুরে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অভিযানে যায়নি। আমাদের কাছে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’


মন্তব্য