kalerkantho


পঞ্চগড়ে এক পরিবারের ১২ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পঞ্চগড়ে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা, চেতনানাশক মিশানো খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের হোলাসিজোত এলাকার পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে ভাত খাওয়ার পর থেকেই বাড়ির সদস্যদের মাথা ঘুরতে থাকে। একে একে ওই পরিবারের ১২ জন সদস্য অচেতন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত ১০টায় তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের খাবারে চেতনানাশক মিশানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে ওই পরিবারের সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অচেতন ওই ১২ জন হলো ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল (৫৫), তাঁর পরিবারের সদস্য আইনুল ইসলাম (২৮), ফেরদৌস (১৮), আঞ্জুমান আক্তার (১৫), শিমুলি আক্তার (২০), অনিমা আক্তার (৬), অরণ্য (৫), রাসেল (১০), অয়ন (৭), মনির হোসেন (২২), ময়না আক্তার (৫০) ও আসিয়া খাতুন (২৫)।

এদিকে ঘটনার পরপরই পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমদ ও সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইফুল ইসলাম হাসপাতালে অচেতন হওয়া পরিবারের সদস্যদের দেখতে যান। এ সময় তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অসুস্থ আঞ্জুমান আক্তার বলেন, ‘স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ভাত খাওয়ার পর থেকেই আমার মাথা ঘুরতে শুরু করে। পরে বিছানায় শুয়ে পড়ি। তারপর আর উঠতে পারছিলাম না।’ আসিয়া খাতুন বলেন, ‘দুপুরে খাওয়ার পর এত ঘুম আসে যে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে গিয়ে শুয়ে পড়ি।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি তাদের পরীক্ষা করে দেখেছি। বর্তমানে তারা সুস্থ আছে। হয়তো তাদের খাবারের সঙ্গে কেউ ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিল। এ কারণে তারা খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।’ পঞ্চগড় পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের ধারণা কোনো চক্র চুরি করার জন্য খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে থাকতে পারে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ কাজ করছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।’


মন্তব্য