kalerkantho


ঠাকুরগাঁও

আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বিপাকে চাষিরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বিপাকে চাষিরা

আলুর বাজারে ধস নামার পাশাপাশি ক্রেতা না থাকায় হতাশ চাষিরা। ছবি দুটি গতকাল ঠাকুরগাঁও সদরের আকচা ইউনিয়নের বলদিয়া ধাম গ্রাম থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ে এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বিপাকে পড়েছে চাষিরা। লাভ দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছে তারা। সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা, বাজারমূল্য বাড়ানো ও বিদেশে রপ্তানির পরামর্শ দিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ। আর অন্যান্য ফসলের মতো সরকারিভাবে আলুর বাজারমূল্য নির্ধারণ করলে ও হিমাগারের ভাড়া কমালে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাবে বলে দাবি চাষিদের।

ঠাকুরগাঁও জেলার মাটি তুলনামূলক উঁচু ও আলু উৎপাদনের উপযুক্ত। সারা বছর চাহিদা থাকায় চাষিরা আলু আবাদ করে থাকে। সদর উপজেলার আকচা, নারগুন, আখানগর, বেগুনবাড়ী, কহরপাড়া, চিলারং ইউনিয়ন, পীরগঞ্জ, হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রতিবছর ব্যাপকভাবে আলু চাষ করা হয়।

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার চাষিরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ফলন ভালো হয়েছে। তবে নারগুন এলাকার মিজানুর রহমান জানান, তিনি প্রায় তিন একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা চাষে সার, বীজ, কীটনাশকসহ প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ বাজারে আলুর যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচই উঠবে না।

আকচা ইউনিয়নের বলদিয়া ধাম গ্রামের আমির উদ্দিন জানান, তাঁর প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ৯ থেকে ১০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে সাত-আট টাকা কেজি।

একই এলাকার মাজেদুর রহমান জানান, গতবার তিনি ক্ষেত থেকে উঠিয়ে ৫৪০ বস্তা আলু হিমাগারে রাখেন। প্রতি বস্তার (৮৪ কেজি) ভাড়া ৩৬০ টাকা। এ ছাড়া আছে পরিবহন খরচ অন্তত ২৫ টাকা ও প্রতিটি চটের বস্তা ১০০ টাকা। ছয় মাস পর আলু হিমাগার থেকে বের করে বাজারে বিক্রির সময় প্রতি কেজি সাত-আট টাকা থেকে তিন-চার টাকায় নেমে আসে। এতে প্রতি বস্তায় ২০০-৩০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত বাজারে দাম না বাড়ায় তাঁর মতো অনেকেই আর হিমাগার থেকে আলু তুলতে পারেনি।

চিলারং ইউনিয়নের নীপেন চন্দ্র বর্মণের আশঙ্কা, আলুর যে দাম তাতে এ বছরও তাঁর উৎপাদন খরচ উঠবে না। দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতি কেজি আলু ১২-১৩ টাকায় বেচতে না পারলে তাঁকে বড় লোকসান গুনতে হবে। একই এলাকার অখিল চন্দ্র রায় জানান, এভাবে লোকসান হতে থাকলে চাষিরা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের নুরুজ্জামান বলেন, সরকারিভাবে প্রতিবছর ধান, চাল ও গমের মতো আলুর বাজারদর নির্ধারণ হলে কৃষকদের আলু চাষে আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৩৬০ থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা করলে চাষিরা আলুতে কিছুটা লাভের মুখ দেখত। ইউনিয়নের অন্য আলু চাষিরাও একই কথা বলে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফতাব হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, জেলায় ১৫টি হিমাগার রয়েছে। বর্তমানে জেলায় যে পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয়, সে তুলনায় হিমাগারের ধারণক্ষমতা অনেক কম। সংরক্ষণের সুব্যবস্থা না থাকায় কেউ কেউ মাঠেই ব্যাপারীর কাছে কম দামে আলু বেচে দেয়। এতে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। হিমাগারের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপশি সরকারি ও বেসরকারিভাবে আলু বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করলে চাষিরা লাভবান হবে এবং আরো বেশি আলু চাষ করবে।

চলতি বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ২৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও চাষ হয়েছে ২৩ হাজার ৭৪২ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় চার লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন।


মন্তব্য