kalerkantho


কুড়িগ্রামে প্রধান শিক্ষকদের পদায়ন

ডিপিইওর ঘুষ বাণিজ্য

কুদ্দুস বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) স্বপন কুমার রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ যে তিনি পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পদায়ন করতে ঘুষ নিচ্ছেন। নীতিমালা না মেনে শিক্ষকপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৪ মে কুড়িগ্রাম জেলায় সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি পাওয়া ২০৮ জন প্রধান শিক্ষকের নাম প্রকাশ করে। একই সঙ্গে নির্দেশনা দেওয়া হয়, শিক্ষকদের নিজস্ব ইউনিয়নের মধ্যে রেখে সবচেয়ে নিকটবর্তী স্কুলের শূন্য পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭ জুন প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন স্কুলে যোগদানের নির্দেশনা দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। রৌমারী উপজেলার হামিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ম অনুসারে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় আবু হাফিজকে। দুই দিন পর অন্যজনের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে হাফিজকে যোগদানের আদেশ দেন পূর্বপাখি উড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একইভাবে আব্দুল হাইকে কোনো কারণ ছাড়াই সংশোধনী আকারে খেওয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলি করে পশ্চিম পাখি উড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠান। সিনিয়র শিক্ষক মতিউর রহমানকে ঝাউবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানপত্র দেওয়ার এক দিন পর তা পাল্টান। তাঁকে খেওয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠান। মতিউর রহমানের বাড়ি যাদুরচর ইউনিয়নের বাইমমারী গ্রামে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্য শিক্ষকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের প্রতিষ্ঠানে পাঠান মতিউরকে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে আবু বক্করের যোগদানপত্র পাওয়ার কথা গয়টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঘুষ খেয়ে এই পদে বসান নফরু নেওয়াজকে। আর আবু বক্করকে পাঠান সাত কিলোমিটার দূরের শহীদুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গাজীবরকে তাঁর নিজস্ব শৌলমারী ইউনিয়নের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়নি। তাঁকে অন্যায়ভাবে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরের প্রতিষ্ঠান চর টাপুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রৌমারীর সিনিয়র শিক্ষক (ক্রমিক ১) শাহজাহান মিয়া ও চান মিয়াকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে পদায়ন দেওয়ার কথা। সেখানে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে শাহজাহান মিয়াকে ২০ কিলোমিটার দূরের বকবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠান। আর চান মিয়াকে ২২ কিলোমিটার দূরের চর পাহাড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠান।

অন্যদিকে শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা না মেনে নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কনিষ্ঠ শিক্ষক পদায়ন পেয়েছেন। এ অনিয়মের কারণে রৌমারী উপজেলার দক্ষিণ টাপুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুল খালেক প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁর বদলে কনিষ্ঠ শিক্ষক শহীদুর রহমানকে চলতি চায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বড়কর্তা আদেশ দিলে আমরা তো কিছু করতে পারি না। আবার অনিয়মের বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারি না। স্থানীয় এমপির ভাই আতাউর রহমান এবং ছেলে খালেকুজ্জামান দুজনই চুলিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। কিন্তু তাঁরা চার বছর ধরে স্কুলে হাজিরা দেন না। বেতন-ভাতা ঠিকই উত্তোলন করেন। এ বিষয়ে আমি প্রতিবেদন দিয়েছি; কিন্তু জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কিছুই করেন না।’

কুড়িগ্রাম ডিপিইও স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘দুর্নীতি প্রমাণ হলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।’



মন্তব্য