kalerkantho


কুমিল্লায় শ্বশুরবাড়িতে যুবক নিহত

ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ড পুলিশের দাবি দুর্ঘটনা!

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি   

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সুজাতপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের আঙ্গলখোঁড় গ্রামের রাজমিস্ত্রি মো. শাহীনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বলছে, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, শাহীন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। অন্যদিকে শাহীনের মায়ের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করেছে।

এ ঘটনায় শাহীনের স্ত্রী শাহেনা আক্তার গত ২২ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ির চালককে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা করেন। অন্যদিকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১৪ মে নিহতের মা মনকির বেগম পুত্রবধূ শাহেনা আক্তার, তাঁর বাবা সুজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, মা সাজেদা বেগম, ভাই বাবলু মিয়া, আলমগীরসহ অজ্ঞাতপরিচয় ছয়-সাতজনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা করেন। আদালত চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকে মামলাটি ফের তদন্তের নির্দেশ দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশ অনুসারে পুলিশ মামলাটিকে এফআইআর হিসেবে রুজু করেনি। উল্টো ওই মামলায় আদালতের ফের নির্দেশনা চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবুল ফয়সল। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, শাহীন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী শাহেনা আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ির চালককে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। 

শাহীনের মা মনকির বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ঝামেলা চলছিল। তাই তারা আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। নৃশংসভাবে খুনের পর তার লাশ চিওড়া ইউনিয়নের সুজাতপুর গ্রামের মহাসড়কে ফেলে দুর্ঘটনার নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় থানা পুলিশের তদন্তে সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

এ প্রসঙ্গে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবুল ফয়সল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সত্য নয়। ঘটনার পর শাহীনের মা থানায় এসেছিলেন। আমরা বারবার বলার পরও তিনি মামলা করেননি। যার কারণে তাঁর স্ত্রী মামলা করার সুযোগ পেয়েছেন।’

 



মন্তব্য