kalerkantho

Probasher kanna

প্রবাসী ছাড়া আর কারও বোঝার সাধ্য নেই

তামীম রায়হান   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:২৬



প্রবাসী ছাড়া আর কারও বোঝার সাধ্য নেই

কেউ দেশে যাওয়ার সময় নিজের পরিবারের জন্য কিছু পাঠানো বা দেশ থেকে আসার সময় নিজের জন্য কিছু আনানোর রেওয়াজ আছে প্রবাসীদের। এই আনানো বা পাঠানোর জিনিসপত্র বোঝাতে ‘চালানি’ শব্দটি অনেকের কাছে বেশ পরিচিত। 

কাতার থেকে দেশে যাওয়ার কালে আমি একান্ত আপনজন না হলে কারও চালানি নিই না। কিন্তু দেশ থেকে আসবার কালে কেউ তার আপনজনের জন্য কিছু দিতে চাইলে নিয়ে আসি। 

আরো পড়ুন  কাতারে ইউএস-বাংলার উদ্বোধনী ফ্লাইট ও একটি ‘ছোটলোকি কাণ্ড’

গত সাত বছরের প্রবাসজীবনে দেশ থেকে আসার সময় কতো রকম চালানি যে এনেছি, তা লিখলে দীর্ঘতালিকা হয়ে যাবে। মাছ-মাংস থেকে শুরু করে তেল, বালিশ, নারকেল- সব রকমের চালানি আনার অভিজ্ঞতা আছে আমার। 

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক সময় একাধিক মানুষের চালানি থাকার পরও বিমানবন্দরে লাগেজের ওজন নিয়ে সমস্যা হয়নি, আবার কখনো কখনো কারও কিছু না থাকার পরও নিজের লাগেজের ওজন কয়েক কেজি বেশি হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছি। ফলে মানুষের ভালোবাসায় মোড়ানো কিছু চালানি আনতে পারলে বরং আমারই ভালো লাগে। 

আরো পড়ুন  প্রবাসের কান্না: শুনলে হাসতেও পারেন আবার কষ্টও পাইতে পারেন!

গতকাল দেশ থেকে কাতারে ফিরেছি। নিজের মালপত্রের সঙ্গে মোট ছয়জনের চালানি এনেছি। আজ রুমে চালানিগুলো আলাদা করবার সময় একটি প্যাকেটে চোখে পড়ল- প্রেরকের জায়গায় লেখা রয়েছে ‘মা’। এক প্রবাসী সন্তানের জন্য পাঠানো সামান্য চালানিতে মিশে আছে চার হাজার মাইল দূরে থাকা এক মায়ের কী অসীম অপূর্ব মমতা! প্রিয়জনদের পাঠানো এই ছোট ছোট চালানিগুলো একেকজন প্রবাসীর কাছে কতো অমূল্য ধন- তা প্রবাসী ছাড়া আর কারও বোঝার সাধ্য নেই।

লেখক: গণমাধ্যম গবেষক, মানবাধিকার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কাতার


মন্তব্য