kalerkantho


পাঠক রম্য

পুলিশ দেখলেই কুকুর কেন 'ঘেউ ঘেউ' করে ওঠে!

জিসান আবেদীন   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:৪৭



পুলিশ দেখলেই কুকুর কেন 'ঘেউ ঘেউ' করে ওঠে!

প্রতীকি ফাইল ফটো

আজ সকালে অফিসে আসার সময় রাস্তায় দেখা হলো আমার খুব কাছের এক বড় ভাইয়ের সাথে যে কিনা পুলিশ বিভাগে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অনেক দিন পর দেখা বলে ছাড়তেই চাচ্ছিলেন না।

তারপরও 'অফিস আছে' বলে আমাকে সেই বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিতে হলো।

তিনি অনেক রসিক একজন মানুষ। সব সময় মজা করেন কিন্তু মজার ছলে একেবারে সত্যি কথাগুলো অবলীলায় বলে দেন। এই জন্য আমরা অনেক আগে থেকেই তার সামনে গেলে সেই সব কথাগুলোর জন্য অপ্রস্তুত হয়ে যেতাম। আজ এতদিন পর অফিসে আসার সময় তার সাথে দেখা হয়ে যাওয়ায় সেই সব দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল।

যাই হোক, আজ আমি তার সামনে আবারও অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলাম। তিনি আজ হঠাৎ এক প্রশ্ন করে বসেন। যার উত্তর আমার কাছে ছিল না। তিনি আমার কাছে জানতে চান পুলিশ দেখলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করে কেন?

এর জবাব আমি তাকেই দিতে বলি।

তিনি আমাকে সম্পূর্ণ এই বিষয়টি বর্ণনা করলেন। আর তার বর্ণনায় যা পেলাম তাতে আমার মনে হয় এটা সত্যি হলেও হতে পারে।

তিনি বলেন, অনেক অনেক দিন আগে যখন পুলিশ বাহিনীর পত্তন হয়নি তখনকার দিনে রাজা-বাদশা থেকে শুরু করে সবখানে পাহারার জন্য রাখা হতো কুকুর। আর এই কুকুরদের করতে হতো লালন-পালন। এভাবেই চলছিল বেশ। এর মাঝেই রাজাদের মাথায় আসল বুদ্ধি- তারা তৈরি করলেন একটি মানুষের বাহিনী যারা কিনা এই রাজা-বাদশাদের সহায়-সম্পত্তি পাহারা দেবে। এরপর রাজা-বাদশারা এই পাহারায় ভালো ফল পাওয়াতে তারা এই বাহিনীকে আরো বড় করলেন।

তারা তাদের পুরো রাজ্যের পাহারায় রাখতে আরম্ভ করলেন এই বাহিনীকে। এর ফলে পুরো রাজ্যের কারোই আর কুকুর রাখার প্রয়োজন থাকল না। এতে করে রাজ্য থেকে বিতাড়িত হলো কুকুর। আর এই বাহিনীর নামকরণ করা হলো পুলিশ। এভাবেই কুকুররা মানুষের আদর-আপ্যায়ন থেকে বঞ্চিত হতে থাকল।

আর এই কারণেই কুকুরদের চক্ষুশূলে পরিণত হলো পুলিশ। এরপর থেকে যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেছে। এসেছে অনেক পরিবর্তন। আজ পুলিশরা সুনামের সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্ব পালন করছে। আর তাই আমরা নাগরিকরা রাতে আরাম করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি।

তবে একটা জিনিস কিন্তু অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। সেটা আর কিছুই নয়- কুকুররা কিন্তু আজও পুলিশ দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে উঠে।
জিসান আবেদীন, সংবাদকর্মী

 

 


মন্তব্য