kalerkantho


তখনকার ক্লাস ক্যাপ্টেন আর এখনকার ক্লাস ক্যাপ্টেন

মো. এফ এ ফুয়াদ   

১ মার্চ, ২০১৭ ১৭:৩৭



তখনকার ক্লাস ক্যাপ্টেন আর এখনকার ক্লাস ক্যাপ্টেন

আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে, একটা সময় ছিলো যখন আমি আমার ক্লাশের ক্যাপ্টেন ছিলাম। বার্ষিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়ে রোল নং ১ নিয়ে ক্যাপ্টেন হতাম। আমাকে টেক্কা দিয়ে ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য আমার বন্ধুরা পরের বছর আমার চেয়ে ভালো পড়া লেখা করে ভালো ফলাফল করে ক্যাপ্টেন হওয়ার চেষ্টা করতো। এখানে কোনো হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি ছিল না। প্রতিযোগিতা ছিলো শুধু পড়া লেখার। কে কার চেয়ে ভালো ফলাফল করবে এটাই ছিলোে আসল প্রতিযোগিতা। তখন ভালো ফলাফল করার জন্য কেউ কারো সাথে ঝগড়া কিংবা মারামারি করত না।

এখন ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য ভালো ফলাফল করে রোল নম্বর এক হওয়ার কোনো প্রয়োজন হয় না। এখন প্রতি বছর স্কুলে ক্যাপ্টেন নির্বাচন হয়। যে বেশি ভোট পায় সে ক্যাপ্টেন। এক্ষেত্রে সে যদি পড়া লেখায় খারাপ ও হয় তাতে কোনো সমস্যা নাই।

কোনো ছাত্রের মাথায় আর এটা ঘুরে না যে ক্যাপ্টেন হতে হলে তাকে ভালো ফলাফল করতে হবে। তার মাথায় ঘুরে তাকে বেশি ভোট পেতে হবে। ভোট পেতে তো আর পড়া লেখা করতে হয় না। তাই ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য কেউ প্রতিযোগিতা করে পড়া লেখা ও করে না।

এখন সবাই চেষ্টা করে ভোট পেতে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে ছাত্রটা “রাজনীতি” বানান করতে পারে না সে কিনা রাজনীতি করতে হয়। কোনো বন্ধু ভোট দিবে বলে পরে যদি ভোট না দেয় তাহলে তার সাথে ঝগড়া, মারামারি শুরু করে দেয়। আজকের এই ছোট বাচ্চার ভোট নিয়ে মারামারি আমার আপনার হয়তো চোখে বাঁধ সাধে না। কিন্তু এখান থেকেই যে তার মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বীজ রোপন হচ্ছে সেটা কি আমি আর আপনি অস্বীকার করতে পারবো? আজকে যে বাচ্চাটা নতুন বই হাতে পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে পড়া শুরু করার কথা সে আজ ভোট পাওয়া নিয়ে ভাবছে। নতুন বইয়ের আনন্দে তার মন আর মেতে উঠে না। এটা কি আমাদের সমাজ ব্যবস্থার জন্য খারাপ প্রভাব নয়?

এই ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর মাথায় রাজনীতির ভুত এত সকাল চাপিয়ে দেওয়াটা কি বাড়াবাড়ি নয়? যে বাচ্চাগুলো পেন্সিল আর কলম নিয়ে ঝগড়া করার কথা তাদের মধ্যে ভোটের ঝগড়া বাধানো কি খুব বেশি জরুরি? কেউ কেউ তো আবার ভোটের জন্য পোষ্টার ও ছাপায়। আর আমাদের বিবেকবান সমাজগোষ্ঠি আশা করছে এই নেতৃত্ব সংসদ পর্যন্ত পৌছাবে। আরে ভাই আগে তো ছেলেটাকে বড় হতে দিন, তার পর তাকে সংসদে পাঠানোর কথা ভাবুন।

লেখক, চাকরিজীবী


মন্তব্য