kalerkantho


মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে খোলা চিঠি

সিএনজির এই ভৌতিক ভাড়ার আদৌ কি কোনো সুরাহা আছে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:৩৬



সিএনজির এই ভৌতিক ভাড়ার আদৌ কি কোনো সুরাহা আছে?

প্রসঙ্গ : সিএনজি মিটার জালিয়াতি 

কোনো ভূমিকা না করে প্রথমে আমার তিনটা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করি।

প্রথম অভিজ্ঞতা :  ২০১৬ সালের কোনো একদিন আমি পান্থপথ সিগন্যাল থেকে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড যাবার জন্য ভোর ৬টায় কন্ট্রাক্টে সিএনজি ভাড়া করি।

সিএনজি চালক কন্ট্রাক্টে যাবার কথা থাকলেও ট্রাফিক চেকিংয়ের জন্য স্বভাবসিদ্ধভাবে মিটার চালু করে। যেহেতু নিয়মিত যাওয়া আসা ছিল, এবং গুগল ম্যাপের সাথে পরিচয় ছিল তাই জানতাম দূরত্ব ৫ কিমির কম হতে পারে, বেশি নয়। কিন্তু শ্যামলী আসার আগেই দেখি ৫ কিমি দূরত্ব পার হয়ে যাচ্ছে। তখন চালককে জিজ্ঞাসা করলাম এমন কেন হচ্ছে? তখন সে জানালো তার মিটারে কারসাজি করা আছে, তবে আমার ভাড়া বেশি আসলেও আমাকে কন্ট্রাক্টে যে ভাড়া ঠিক হয়েছে সেটা দিলেই তাকে চলবে। কথা প্রসঙ্গে জানলাম সিএনজি কামরাঙ্গীর চর এলাকা থেকে এসেছে।

দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা : এটা গত কোরবানির ঈদের পরের ঘটনা। ৫ অক্টোবর ২০১৭ রাত আনুমানিক ৮টা-সাড়ে ৮টা হবে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নেমে সিএনজি খুঁজছি ধানমন্ডি ১৯ নম্বর যাব। কম ভাড়ার জন্য বেশ কয়েকটা সিএনজিকে জিজ্ঞাসা করলাম।

ভাড়া পছন্দ হচ্ছিলো না দেখে দেরি হচ্ছিলো। তখন এক সিএনজি চালক বললো সে মিটারে যাবে তবে ৩০ টাকা বেশি নিবে। আমি রাজি হলাম, এবং বলেও নিলাম মিটারে যদি কোনো কারসাজি থাকে তবে পুলিশে খবর দিব। সে কনফিডেন্টলি বললো তার মিটারে কোনো সমস্যা নাই। আমিও সিএনজিতে উঠেই গুগল ম্যাপ খুললাম। দূরত্ব ১৬.৬ কিমি দেখাচ্ছে। কিন্তু মহাখালী যেতে যেতেই ১২ কিমির বেশি হয়ে গেল দেখে আমি তাকে বললাম তার মিটারে সমস্যা আছে। সে কোনোভাবেই স্বীকার করে না।  

তখন আমি চেষ্টা করলাম জ্যামে আটকে থাকা অবস্থায় কোনো সিএনজির পিছনে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের যে তিনটি নাম্বার লেখা থাকে সেগুলোতে ফোন দিতে (০১১৯৯৮০৬১১১, ২২২, ৮৮৮)। সবগুলোই বন্ধ। তখন সিএনজি চালককে জানালাম ধানমন্ডি ১০-এ এর মোড়ে যদি ট্রাফিক পুলিশ থাকে তবে সেখানে থামাতে। এতে সে কিছুটা ভয় পেয়ে আমাকে জানায় ভাড়া আমার হিসেবে যা আসে সেটাই তাকে দিতে। (গন্তব্যে পৌঁছার পর অবশ্য সে তার কথা রাখেনি। আমার সাথে ঝগড়া করে তার আদায় সে বুঝে নিয়েছে। ) আমার হিসেবে ভাড়া আসে ২১৫ টাকা+ওয়েটিং চার্জ ৮ মিনিট = ২৩১ টাকা। গন্তব্যে পৌঁছার পর তার হিসাব মতে ভাড়া আসে ১৯.৭ কিমি+৮ মিনিট ওয়েটিং চার্জ = ২৬৮ টাকা (আর উপরের ২টা হিসেবের সাথে তো “মিটারে ৩০ টাকা বাড়ায় দিয়েন” যোগ হবেই) । অর্থাৎ মিটারের হিসেবে ৩.১ কিমি বেশি। সে হিসেব করলে প্রতি ৪ কিমি যাবার পর তারা ১ কিমি ঈদ বোনাস পায়। মানে ২০% বেশি ভাড়া উঠে মিটারে।

এই ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর আমি দুপুর ১১টা থেকে ১টার ভেতর বিআরটিএ এর হটলাইন (ক) ৯১১৩১৩৩,(খ) ৫৮১৫৪৭০১,(গ) ৯১১৫৫৪৪,(ঘ) ৯০০৭৫৭৪ এই নম্বরগুলোতে চেষ্টা করি এবং গ নম্বর থেকে আমাকে জানানো হয় এ সংক্রান্ত অভিযোগ আমাকে খ নাম্বারে জানাতে। কিন্তু বারবার ফোন দেবার পরও কেউ ফোন ধরেনি।

তৃতীয় অভিজ্ঞতা : ২৫ অক্টোবর ২০১৭। উত্তরা জসীমউদ্দীনের মোড় থেকে দুপুর ২টার সময় একটি সিএনজি চালক পান্থপথ সিগন্যাল পর্যন্ত “মিটারের চেয়ে ৩০ টাকা বাড়ায় দিয়েন” চুক্তিতে মিটারে যেতে রাজি হয়। এক্ষেত্রেও দৃশ্যপট একই। সে কনফিডেন্ট যে তার মিটারে কোনো গোলমাল নেই। কিন্তু আবারো দেখা যায় তার সিএনজি অনুসারে ভাড়া এসেছে ১৯ কিমি+২৩ মিনিট ওয়েটিং চার্জ= ২৯০ টাকা। যেটা প্রকৃতপক্ষে হবার কথা ছিল ১৫.৫ কিমি+ ২৩ মিনিট ওয়েটিং চার্জ= ২৪৮ টাকা।   অর্থাৎ এখানেও প্রতি ৪ কিমি যাবার পর ১ কিমি ফাউ ভাড়া। অর্থাৎ ২০% বেশি ভাড়া (সঠিক হিসেব করলে ২২% বেশি)।  

এবার আমি আর ভুল করিনি। সরাসরি পান্থপথ সিগন্যালের ট্রাফিক পুলিশের কাছে গিয়েছি। ঘটনা জানানোর পর উনি জানালেন অফিসার ইনচার্জ রাসেল স্বয়ারের দিকে টহলে গিয়েছেন, তিনি ফিরলেই আমি এ বিষয়ে অভিযোগ দাখিলসহ মামলা দায়ের করতে পারি। এ বিষয়ে সিএনজি চালকের বক্তব্য শোনার জন্য উনি চালককে জিজ্ঞাসা করলেন। চালক উনাকে প্রথম যে কথাটা বললো সেটা হল- 'স্যার দেখেন তো, জসীমউদ্দিনের মোড়ে ট্রাফিকরে ২০ টাকা দিয়েই এই খ্যাপ ধরছি মিটারে, আর এই লোক (আমি) বলে কি না আমার মিটারে সমস্যা। ' ট্রাফিক পুলিশ বিব্রতকর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালে আমিও যা বোঝার বুঝে গেলাম। তবে তিনি সিএনজি চালককে ধমক দিয়ে সঠিক ভাড়া রাখতে বললেন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘটনার ক্ষেত্রে সিএনজি চালকদের বক্তব্য মিটার তো বিআরটিএ থেকে পরীক্ষা করা, সুতারাং মিটারে কোনো ভুল নেই। এ কথা তারা জেনে বলছে বা না জেনে বলছে সে বিতর্কে গেলাম না। আমার কথা হচ্ছে যদি মিটারে ভুল থাকে তবে সেটা কি সিএনজি চালকের কারসাজি, মালিকের কারসাজি, নাকি মিটার যাদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে তাদের কারসাজি।  

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আপনি কয়েক বছর আগে সিএনজি মিটারে যাবার বিষয়ে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছিলেন যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছিল বলেই লেখাটা আপনাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। যদিও এ বিষয়টি যদি সমাধান করতেই হয় তবে সরকারের বেশ কয়েকটি বিভাগের এক সাথে কাজ করতে হবে।

মাননীয় মন্ত্রীর নিকট আমার আকুল আবেদন রইলো সিএনজি মিটারের এই ভৌতিক ভাড়া আদায়ের একটি সুরাহা যদি সম্ভব হয় তবে করার জন্য। আর যদি একান্তই সমাধান করা সম্ভব না হয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই, আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে এভাবে চলতে চলতে।

- ডা. আল মোনতাছির বিল্লাহ   
সহকারী সার্জন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


মন্তব্য