kalerkantho


পুলিশে ছুঁলে কি সত্যিই ১৮ ঘা হয়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৮:৩৩



পুলিশে ছুঁলে কি সত্যিই ১৮ ঘা হয়!

প্রায় মাস খানেক আগের একটি ঘটনা। আমাদের অফিসের এক সহকর্মী বাড়ি থেকে রংপুরে এসে বাস থেকে নেমে রিকশা নিয়ে বাসায় আসার পর ভুলে তার একটি ব্যাগ রিকশায় ফেলে যায়।

আর রিকশাওয়ালা সেই ব্যাগটি পেয়ে যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে বসে। কারণ ব্যাগে নগদ ২৩ হাজার ৫০০ টাকাসহ হাতের সোনার বালা, নাক ফুল, কানের দুল, মোবাইলসহ প্রায় ৮০ হাজার টাকার মালামাল ছিল।

আমাদের ওই সহকর্মী তার রুমে পৌঁছে মাত্র এক -দুই মিনিটের মধ্যে যখন বুঝতে পারে তার ব্যাগটি রিকশায় ফেলে গেছে ততক্ষণে এই রিকশা চালক উধাও।

বিষয়টি আমলে নিয়ে ইনভেস্টিগেশন শুরু করলাম। ১৫ দিনের মাথায় রিকশাওয়ালাকে শনাক্ত করা হল।

মালামাল উদ্ধার করার জন্য তার বাড়িতে দুজনকে পাঠালাম। এলাকার কিছু মাতাব্বরদের মাতাব্বরি শুরু হল।

তারা ছেলেটিকে শিখিয়ে দিল, সে যেন মালামালের কথা অস্বীকার করে। মানে সেগুলো বিক্রি করে যা পাবে তার একটা ভাগ তারাও পাবে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নাটক চলতে লাগল। তারপর বাধ্য হয়ে অফিসের গাড়ি নিয়ে কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে রংপুর থেকে নীলফামারী গেলাম।

এতোক্ষণ যারা এত করে বুঝালো কোনো কিছুই করতে পারল না। আমরা গিয়ে যেই ওকে গাড়িতে তুলতে চাইলাম সে একটু সময় নিয়ে স্যার, স্যার বলে পায়ে পড়ে গেলো আর একটু আড়ালে গিয়ে সব বলে দিল। কোথায় কি আছে সব বেরও করে দিল।

আর আসার আগে আস্তে করে ওদের নামও বলল যারা ওকে এসব শিখিয়ে দিয়েছিল।

এরপর শুনলাম ওর লোভ সংবরণ না করার পেছনের কথাগুলো। বলল, এই ঘটনার কিছুদিন আগে ওর একটি ব্যাটারি চালিত রিকশা যার মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকার উপরে সেটা ছিনতাই হয়ে গেছে।

সেই থেকে পরের রিকশা ভাড়ায় চালিয়ে সংসার এবং দেনা শোধ করছে সে। অভাবের কারণে লোভে পড়ে এই কাজটি করেছে বলেও ভুল স্বীকার করেছে।

এলাকায় ওর কোনো খারাপ রেকর্ড না থাকার কারণে আর ভুল স্বীকার কারণে হাত খরচের জন্য আরো কিছু টাকা দিয়ে এসে আমাদের জিনিস নিয়ে আসলাম।

এখন সে মাঝে মাঝেই রংপুরে রিকশা চালাতে আসে। আর সময় পেলে অফিসে এসে দেখাও করে।

পুলিশ ছুইলে ১৮ ঘা যেন না হয়, পুলিশ যেন জনগণের প্রকৃত বন্ধু হয়ে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করে এই কথাটি কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন।

আমরা সেই কাজটিই করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনয়ত।

সাব ইন্সপেক্টর সালেহ ইমরানের ফেসবুক থেকে


মন্তব্য