kalerkantho


সাকিব-তামিম কি ভিক্ষা করেই পড়বে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:২৭



সাকিব-তামিম কি ভিক্ষা করেই পড়বে?

ছয় বছর আগে মারা গেছে বাবা। মাও অসুস্থ। উপায় নেই-তাই ভিক্ষা করেই চলতে হচ্ছে সাকিব-তামিমদের। খেয়ে না খেয়ে কখনো ফুট ওভারব্রিজ কখনো খোলা আকশের নিচেই চলে তাদের লেখাপড়া। 

শ্যামলী ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হবো এমন সময় চোখে পড়ল ওভারব্রিজের নিচে প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে দুই জন বাচ্চা লেখাপড়া করছে। তাদের গায়ে স্কুল ড্রেস। বাচ্চা দুটো দেখতে বেশ সুন্দর। পাশ দিয়ে অসংখ্য লোকজন হেঁটে যাচ্ছে কিন্ত তাদের লেখাপড়ার কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। পাশে অসুস্থ এক ভদ্র মহিলা মাথায় কাপড় দিয়ে বসে আছেন। বাচ্চারা খাতায় লিখে ওই মহিলাকে দেখাচ্ছে, আর তিনি দেখছেন। আবার দেখলাম কেউ কেউ ওই মহিলাকে টাকাও দিচ্ছেন।

সাকিব ও তামিম দুই ভাই। যমজ হলেও তাদের দুজনের চেহারায় কোনো মিল নেই। দুই জনই ঢাকার শ্যামলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। আদাবরের ১০ নম্বর বেকারি মোড়ের একটি বস্তিতে ২৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে মাকে নিয়ে থাকে তারা।

তাদের বাবা ইমরুল কায়েস পেশায় মাইক্রোবাসের ডাইভার ছিলেন। ভালোই চলছিল দুই সন্তানের জননী মা গৃহিনী সাথী আক্তারের ছোট্ট সংসার। সাকিব-তামিমের বয়স যখন ১ বছর তখন তাদের বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায় সুখের সংসার। ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার সাধুগড়া গ্রামের সাকিম-তামিমদের বাড়ি।

বাবা হারা দুই সন্তানকে বাঁচাতে সাথি আক্তার অন্যের বাসায় কাজ শুরু করেন। কিছু দিন কাজ করার পর পেটে টিউমার ধরা পড়ে। অপারেশন করান তিনি কিন্তু হারিয়ে ফেলেন কাজ করার ক্ষমতা। কথায় আছে 'অভাগা যেদিকে যায় ভরপুর সাগর শুকিয়ে যায়।' কোনো উপায়ন্তর না দেখে ছেলেদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা নেওয়া শুরু করেন। এখন সাকিব-তামিমদের বয়স ৬। খাবারের খরচ যোগানোর পাশাপাশি যোগ হয় লেখাপড়ার খরচ।

সাকিব-তামিম জানায়, তারা প্রতিদিন সকাল ৭টায় স্কুলে যায়। ১০টায় স্কুল ছুটি হলে সরাসরি চলে আসে ওভারব্রিজের নিচে। এখানের এসে প্রতিদিনের হোম ওয়ার্ক শেষ করে। আবার ৩টা বাজলে মা আমাদের সাথে করে প্রাইভেট পড়তে নিয়ে যায়। এটুকু সময় মা আমাদের পড়াশোনায় সাহায্য করেন। বড় হয়ে সাকিব আর্মি অফিসার এবং তামিম ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হতে চায়।

সাথি আক্তার জানান, অসুখের কারণে বাসা-বাড়িতে কাজ করতে পারেন না। তাই ওদের লেখা পড়ার খরচ যোগাতে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে এখানে চলে আসে এবং দুপুর হলে অদেরকে নিয়ে প্রাইভেট টিচারের কাছে যান। বাসায় ফিরতে রাত হয়ে যায়। এভাবেই চলছে তাদের প্রতিদিন। তিনি সাকিব-তামিমকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান।

যদি সরকারসহ আপনারা সবাই আমার সাকিব-তামিমের পাশে দাঁড়ান তাইলে পারবে ওরা লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হতে। আসুন সবাই মিলে এই দুটো এতিম শিশুর পাশে দাড়াঁই।

মামুন বিশ্বাসের ফেসবুক থেকে


মন্তব্য