kalerkantho

Reporterer Diary

চিত্রনায়িকা ববিতার মমতা

ওমর ফারুক   

২ মে, ২০১৭ ১৮:৪৩



চিত্রনায়িকা ববিতার মমতা

সালটা ২০০২ কি ২০০৩। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর থেকে অন্য একটি অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার জন্য বিমানে যাত্রী হয়েছিলেন বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা ববিতা। সেই বিমানটি উড্ডয়নের সঙ্গে সঙ্গে চাকা ফেটে গিয়েছিল। পরে পাইলটের বুদ্ধিমত্তায় বিমানটি অক্ষত অবস্থায় ল্যান্ড করতে সক্ষম হয়।  

ঘটনার পর মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়। সেখানে যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের সুপারস্টার নায়িকা ববিতার কথাও উল্লেখ করা হয়। পরে সেই সংবাদ বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। আমি তখন দৈনিক মানবজমিন-এ চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা করি। পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ভাই আমাকে ডেকে বললেন- ‘ববিতা দেশে ফিরলে একটি ইন্টারভিউ করতে হবে। ’ প্রথম ইন্টারভিউটি যেন মানবজমিন পায় সে রকম একটি ইঙ্গিত তিনি দিয়েছিলেন। ওই সময় থেকেই আমি অপেক্ষায় ববিতা আপা কখন দেশে ফিরবেন।

যে কোন মূল্যে তার ইন্টারভিউ আমাকে করতেই হবে। আমার শুভাকাঙ্খী ক’জন চিত্র পরিচালক ও প্রযোজককে বলে রেখেছিলাম তিনি দেশে ফিরলে যেন আমাকে জানান।

৪-৫ দিন পর এক সন্ধ্যায় এক পরিচালক ফোনে জানালেন, ববিতা গত রাতে দেশে ফিরেছেন এবং  শুটিং করতে এফডিসিতে এসেছেন। আমি ফোন পেয়েই চলে গেলাম এফডিসিতে। গিয়ে দেখি ববিতা আপা শুটিং করছেন ২ নম্বর ফ্লোরে। শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে তিনি চেয়ারে এসে বসলেও তার কাছে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। তাকে ঘিরে ছিলেন কয়েকজন পরিচালক, নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবুসহ আরো অনেকে। আমার মিশন তার ইন্টারভিউ। তিনি চাকা ফাটা বিমানে কেমন ছিলেন তা জানা এবং পাঠককে জানানো। ঘণ্টা দুয়েক চেষ্টা করেও তার কাছ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ মিলেনি। এর মধ্যেই রাত সাড়ে ৯ টার মতো বেজে গেল। শুটিং শেষ হলেই তিনি চলে যাবেন। আমি ব্যর্থ হবো। যেভাবেই হোক তার কাছ পর্যন্ত যেতে হবে। যেইভাবা সেই কাজ। ববিতা আপা ক্যামেরার সামনে থেকে এসে চেয়ারে বসলেন।  

আমি দ্রুত কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে পরিচয় দিলাম। জানালাম আমার উদ্দেশ্যে। তিনি হেসে বললেন- ‘আরে বাবা কি ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে ছিলাম। মনে পড়লে গা শিউরে উঠে। শোন, তুমি থাক শুটিং শেষে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলবো। ’ আমি মহাখুশি। ববিতা আপা চলে গেলেন ক্যামেরার সামনে। আমি অপেক্ষা করছি। রাত সাড়ে ১০ টার মতো বাজে। শুটিং শেষ। ববিতা আপা ফোর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তাকে ঘিরে হাটছেন সেই লোকগুলোই। আমি একবার চেষ্টা করলাম ববিতা আপার সামনে যাওয়ার। কিন্তু আটকে দিলেন আমির হোসেন বাবু।  

তিনি বললেন, ‘তিনি (ববিতা) দীর্ঘ জার্নি করে এসেছেন। ডিস্টার্ব করবেন না যান। ’ বাবুর সঙ্গে আরো দু’তিনজন সুর মেলালেন। ববিতা আপা হেটে গিয়ে পরিচালক সমিতির সামনে রাখা গাড়িতে উঠে বসলেন। আমি নাছোর বান্দা। ইন্টারভিউ আমাকে করতেই হবে। আমি গিয়ে ঠিক গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গেলাম। চালক হর্ন দিচ্ছে আমি সরছি না। বিষয়টা চোখে পড়লো ববিতা আপার। তিনি নিজেই গাড়ির দরজা খুলে আমাকে ডাকলেন। তার ডাকটি ছিল বেশ মমতা জড়ানো। বুঝলাম তিনি শুটিংয়ের কারণে আমাকে দেওয়া কথা ভুলে গিয়েছিলেন।  

আমি কাছে যেতেই সরে গিয়ে বসতে দিলেন গাড়িতে। ববিতা আপা বললেন- ‘তুমিতো সাংঘাতিক ছেলে। ’ আমি বললাম, ‘আজ প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আপনার ইন্টারভিউ না নিয়ে যাবো না। ’ এর পর ববিতা আপা আমার সঙ্গে আধাঘণ্টার মতো কথা বললেন। ‘চাকা ফাটা বিমানে ববিতা যা ভাবছিলেন’ শিরোনাম দিয়ে সেই রিপোর্টটি খুব গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছিল দৈনিক মানবজমিন-এ।

লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক কালের কণ্ঠ


মন্তব্য