kalerkantho


চিনে নিন তাকে, যিনি চাইলে মুহূর্তেই বন্ধ হবে রোহিঙ্গা নিধন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:৫৮



চিনে নিন তাকে, যিনি চাইলে মুহূর্তেই বন্ধ হবে রোহিঙ্গা নিধন

তিনিই মিন অং হাইং, যার অঙ্গুলি হেলনেই থেমে যেতে পারে গণহত্যা

এই মানুষটিকে চিনে নিন। নাম তার মিন অং হাইং।

তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ। গোটা মিয়ানমারে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি রাখাইন রাজ্যে চলমান নৃশংস 'এথনিক ক্লিনজিং' চাইলেই থামিয়ে দিতে পারেন। এভাবেই রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান গণহত্যার কারিগর মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এই একজন ব্যক্তিকেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা। কারণ তিনিই ওই ভূখণ্ডের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তিনি এতটাই ক্ষমতাধর, এমনকি চীন বা আমেরিকাও নাকি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করতে নারাজ।  

অন্যান্য কিছু সংবাদমাধ্যমেও অং হাইংয়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেউ যদি রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলমানদের চলমান নিষ্ঠুর গণহত্যা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে পারেন, তবে তিনি সিনিয়র জেনারেল মিন অং। ইতিমধ্যে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। এই ৬১ বছর বয়সী মিলিটারি চিফ চাইলেই 'এথনিক ক্লিনজিং' থামিয়ে দিতে পারেন যখন তখন।

অবশ্য গোটা সেনাবাহিনী অপারেশনের অজুহাতে গণহত্যার মাধ্যমে মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার ব্যাপারে এখনো বদ্ধপরিকর বলেই মনে হচ্ছে, জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।  
 
বিশ্বাবাসী চায় মিন অং তার সেনাবাহিনীকে এই দুঃস্বপ্নের অপারেশন বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করুক। 'এথনিং ক্লিনজিং' রোহিঙ্গা নিধন করেই চলেছে। ৫ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে পালিয়েছে। মিয়ানমার ছাড়ার সময়ও মারা পড়ছে নারী-শিশু। যারা এখনো সেখানে আছেন, তাদের জীবনের ইতি যেকোনো সময় ঘটতে পারে।  

এই অমানবিক হিংস্রতা থামাতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে অং হাইংকে। আর এ উদ্দেশ্যে কমান্ডার-ইন-চিফ বরাবর একটি পিটিশন দাখিলের ব্যবস্থা করেছে অ্যামনেস্টি। সেখানে যেকোনো মানুষ তার নাম, দেশের নাম এবং ইমেইল ঠিকানা প্রদানের মাধ্যমে পিটিশনের পক্ষে মত দিতে পারেন। এই পিটিশন সরাসরি মিন অং হাইংকে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাবে। এই মুহূর্তের জন্যে দাবি মাত্র দুটো- 

১. গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই মিলিটারি ক্যাম্পেইন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে।  

২. মানবাধিকারকর্মী, জাতিসংঘ এবং সাংবাদিকদের শর্তহীনভাবে রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করা এবং তাদের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।  

একের পর এক মানুষ মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেলের কাছে তার দাবির কথা তুলে ধরছেন।

https://www.amnesty.org/en/get-involved/take-action/help-stop-the-violence-in-myanmar/?gclid=EAIaIQobChMIjI6rmZPe1gIV1QMqCh1_3wjbEAAYAiAAEgIgMfD_BwE 

এই লিঙ্কে গিয়ে ডানপাশের ঘরে তথ্যগুলো দিয়ে 'টেক অ্যাকশন নাউ' বোতামে চাপ দিলেই রোহিঙ্গা নিধন বন্ধের পক্ষে আপনার মতামত চলে যাবে এই গণহত্যার কুশীলব জেনারেলের কাছে।
সূত্র : অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল


মন্তব্য