kalerkantho


ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছে সংসদীয় কমিটি

রোহিঙ্গাদের কারণে এ পর্যন্ত দেড় শ কোটি টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:৫৮



রোহিঙ্গাদের কারণে এ পর্যন্ত দেড় শ কোটি টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস

অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে এ পর্যন্ত ১৫০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।

পাহাড়, জলাশয়, সুমুদ্র সৈকতসহ পরিবেশের অন্যান্য খাতের বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ। বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ, মো. গোলাম রাব্বানী, মো. ইয়াহইয়া চৌধুরী, টিপু সুলতান ও মো. ইয়াসিন আলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ জানান, মানবিক কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণও যাচ্ছে। কিন্তু তাদের জ্বালানির কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রাকৃতিক বন থেকে তারা জ্বালানি সংগ্রহ করছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

টেকনাফ রুটের গাছগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত শুধুমাত্র বনের ক্ষতি দেড় শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পরিবেশের ক্ষতির হিসাব অনেক বেশি বলে তিনি জানান।

রোহিঙ্গাদের কারণে আগামীতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যটকদের যাওয়ার পরিবেশ নেই। পাহাড়-জলাশয় নষ্ট হচ্ছে। যা উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে। বনের পাশাপাশি পরিবেশের অন্যান্য খাতে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে আগামী বৈঠকে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে আলোচনা শেষে বনের ক্ষতি কমাতে জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের জন্য বায়োগ্যাস প্লান্ট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বনের ক্ষতি ৫০ শতাংশ কমে আসবে বলে জানান কমিটির সদস্য টিপু সুলতান। তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার পর যেসব এলাকা ফাঁকা হচ্ছে, সেখানে নতুন করে বনায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও সেন্টমার্টিন এলাকার পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত জলবায়ু ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি এবং ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য