kalerkantho


‘আমি আসলে একটা ফাঁদ তৈরি করি’

টিভিতে তিনি বাঘা বাঘা তারকার ‘সেন্স’ ও ‘হিউমার’ পরীক্ষা করেন। এবার সেই শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সেন্স ও হিউমারের পরীক্ষা নিয়েছেন দাউদ হোসাইন রনি

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘আমি আসলে একটা ফাঁদ তৈরি করি’

ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

পছন্দমতো অভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছিলেন না বলেই নাকি উপস্থাপনায় এসেছেন?

একেবারে সত্যি। গত চার-পাঁচ বছর নিজের পরিচালনার বাইরে খুব কম নাটকেই ডাক পেয়েছি। সত্যি কথা।

কী বলছেন! ২০০২-০৪ সালের সর্বাধিক ঈদের নাটকের অভিনেতা আপনি। চিত্রটা এভাবে বদলে গেল কিভাবে?

আমি যখন ফিল্ম করতে গেলাম, তখনই আমি নাট্য-পলিটিকসের শিকার হয়েছি। শুধু আমি না, অনেকেই এই পলিটিকসের বলি হয়ে ক্যারিয়ার খুইয়েছেন।

ফিল্মে গিয়ে কেউ ব্যর্থ হলে সে আর নাটকে ফিরতে পারে না—এটাই বোঝাচ্ছেন?

সফলতা-ব্যর্থতার বিষয় না। সুপারহিট ফিল্ম আমার ছিল—‘গ্রামগঞ্জের পিরিতি’, ‘এই যে দুনিয়া’। এরপর মান্না ভাই মারা গেলেন, শুরু হলো শাকিব খানের একনায়কতন্ত্র। নতুন লগ্নিকারক কমে গেল। শুরু হলো একই ধাঁচের ছবির নির্মাণ। তখন আমার জন্য ওভাবে দুয়ার খোলা ছিল না। আমাকে কাজে লাগানো হলে চলচ্চিত্র একজন ভালো অভিনেতা পেত। আমি তো পরীক্ষিত ছিলাম। সিনেমা থেকে নাটকে ফেরার পর আমার কাজ কমতে থাকে। আমারও দোষ ছিল। যখন ফিল্মে কাজ শুরু করি, তখন নাটকের শিডিউল মেইনটেইন করতাম না। ইমম্যাচিওরড ছিলাম। একটা সিন্ডিকেট আমাকে সহ্য করতে পারছিল না। মোহাম্মদ আলী বশির, টেলিহোমের মালিক—মূল ষড়যন্ত্রকারী সে-ই। আমি বাদ পড়তে থাকি। একসময় আমার কাজ একেবারেই থাকে না। তখন আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন ফরিদুর রেজা সাগর, ইবনে হাসান খান, ড. মাহফুজুর রহমান, সৈয়দ আশিক রহমানের মতো মানুষরা, যাঁরা আসলেই মানুষ হিসেবে উন্নত। তাঁদের ছায়ায় থেকে ‘প্রার্থনা’ বানালাম। ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডও পেলাম। ‘অর্পিতা’র কাজ শেষ করলাম। একটা ছবি তো এক বা দুই বছরের কাজ। কিন্তু এর বাইরে সারা বছর আমি কী করব? তখন একটা শূন্যতা ও গ্যাপ তৈরি হয়।

এইমাত্র কয়েকজন ব্যক্তির নাম নিয়েছেন। নামগুলো ছাপা হলে সমস্যা নেই তো!

কী যে বলেন! অবশ্যই ছাপবেন।

‘সেন্স অব হিউমার’-এর আইডিয়া পেলেন কিভাবে?

আমার মাথায় আসেনি। একটা ধারাবাহিক করতেই গিয়েছিলাম এটিএন বাংলায়। চেয়ারম্যান সাহেব বললেন—নাটক না, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান করেন। ম্যাগাজিন করতে গেলাম, পারিনি। তখন আমি বলি—ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান করব না, ইন্টারভিউ শো করব। প্রথম তিন পর্ব প্রচারের পর চ্যানেল থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হলো, মানহীন এই অনুষ্ঠান যেন শিগগিরই বন্ধ করা হয়। চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি অনুষ্ঠান বিভাগকে বললেন, ওকে তিন মাস সময় দিন। ভালো না হলে বাদ দিন। পরের গল্প তো সবার জানা।

কপিল শর্মা কি আপনার বিশেষ পছন্দ?

কপিল শর্মা শোর একটা পর্ব কখনো পুরোটা দেখিনি। এখন বিচ্ছিন্নভাবে চোখ পড়লেও এড়িয়ে যাই, যাতে এর প্রভাব না পড়ে।

প্রভাব তো পড়েছে...শোতে যত নারী অতিথি আসেন, সবার প্রতি প্রেমকাতর কপিল। গানের সঙ্গে নাচে, প্রেম নিবেদন করে—এই কাজটা কিন্তু আপনিও করেন।

হা হা হা। কপিলকে ফলো করি, নাকি আমাকে ফলো করে কপিল, সন্দেহ আছে।

সাবেক কলিগদের শোতে এনে আপনি যেভাবে নাজেহাল করেন! এখন নিশ্চয়ই কলিগরা আপনাকে ভয় পান?

এ কথা সবাই বলে, কিন্তু আমার শোতে সবাই আসতে চায়। আমি তো তিনটা শো করি। বাংলাদেশের শোবিজে সুপারস্টার তো ২৫ জন হবেন না। তবু দেখেন আমি বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গেস্ট করেছি ডন ও নাসরিনকে, পর্বটা কিন্তু হিট।

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় তুলে আনতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত তথ্যও কিন্তু ফাঁস করে দিচ্ছেন।

আমার তো হারানোর কিছুই নেই। হারিয়েই তো গিয়েছিলাম। আপনি শাবনূরের প্রেমে মজেছিলেন। ‘সেন্স অব হিউমার’-এ এসে পপি বললেন, শাবনূরই তাঁকে এই তথ্য দিয়েছেন...

এ কথা তো আমি আবার শাবনূরকেও জিজ্ঞেস করেছি শোতে, যে পপি এই কথা বলেছে।

কথা হচ্ছে, এই সব দেখার পর বাড়িতে গেলে স্ত্রী কিছু বলে না আপনাকে?

বলে, চালায়া যাও। তুমি সুপারহিট।

অতিথি বাছাই করেন কী হিসাব করে?

গবেষণা করে ঠিক করি। আমার একান্ত সিদ্ধান্ত। এই শনিবারের পর্বের অতিথি সোহেল রানা আর ফারুক। পর্বটা দেখলে হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খাবেন। ববিতাকে নিয়ে তাঁরা দুজন রীতিমতো ঝগড়া করেছেন। শেষে তাঁরা ববিতাকে নিয়ে পৃথক প্রেমবাণী দিয়েছেন যে দুজন আসলেই ববিতাকে ভালোবাসতেন।

মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে তাঁরই চ্যানেলে শো করছেন এবং তাঁকে একবিন্দু ছাড় দেননি। এটা তো দারুণ নজির। প্রচারিত হওয়ার পর আপনাকে কেউ কিছু বলেনি?

অনেকেই ভেবেছিল পর্বটা প্রচারিত হওয়ার পর শো বন্ধ হয়ে যাবে। আমার বিরুদ্ধে বিরাট ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্টো যা হয়েছে, এটিএনের দরজা থেকে শুরু করে চেয়ারম্যানের রুমের দরজা পর্যন্ত সবাই স্যালুট করে আমাকে। অনেকে মনে করে, আমি বোধ হয় এটিএনের পার্টনার। তিনি একজন ভালো এবং দুঃসাহসী মানুষ।

অতিথিদের বেশির ভাগই আপনার সহকর্মী, এ কারণেই কি বিতর্কিত প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে আপনি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন?

অবশ্যই। সে কারণেই তো সুবিধাটা নিই। এবার এটিএন বাংলা সেরা উপস্থাপক পুরস্কার পেলাম। ইমদাদুল হক মিলন ভাই পুরস্কার দেওয়ার সময় বললেন, ‘জয় অত্যন্ত সুন্দর করে সবাইকে বিরক্ত করে। কিন্তু সব শেষে সে মূল্যবান কিছু তথ্য বের করে আনে, যা দর্শকের কাছে অসাধারণ কিছু।’

ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অনেক তারকাই সেটা মানতে পারেন না। অথচ আপনি নিজে তারকা হয়েও সহকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আসছেন পর্দায়...

এটা আমার স্পেশালিটি...আমি আসলে একটা ফাঁদ তৈরি করি। অনেক প্রশংসা করি, হুট করে একটা বিব্রতকর প্রশ্ন করি এবং সেখান থেকে আরেকটা লিংক বের করি। বিষয়টা আমি ঠিকঠাক করতে পারছি বলেই অনুষ্ঠানটা এত জনপ্রিয়।

‘সেন্স অব হিউমার’, ‘কমন সেন্স’, ‘উইথ নাজিম জয়’ ও ‘লাভ অ্যান্ড সরো’—কোনটা আপনার বেশি পছন্দ?

আমার বিশ বছরের ক্যারিয়ারে ‘সেন্স অব হিউমার’-এর চেয়ে বড় আর কিছু নেই। যত নাটক, যত সিনেমা করেছি, সব বিছুর যোগফল ‘সেন্স অব হিউমার’-এর দুটি পর্বের সমানও না।

৩০ পর্ব প্রচারিত হলো। আপনার নিজের কাছে বেশি ভালো লেগেছে কোন পর্বটা?

মৌসুমী-ওমর সানীর পর্বটা।

‘সেন্স অব হিউমার’ চালাবেন আর কত দিন?

১০০ পর্বের বেশি না। মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে শোতে অতিথি হিসেবে চাই। চ্যানেল থেকে সেভাবেই এগোনো হচ্ছে। তিনি হিউমারাস একজন ব্যক্তিত্ব। আমি যদি তাঁর সঙ্গে গল্প করতে পারি, বাংলাদেশের মানুষ অনেক আনন্দ পাবে এবং এটাই হবে শেষ পর্ব।

পরিচালনার কী খবর?

নতুন ছবি ‘অর্পিতা’র কাজ শেষ। পুরস্কার পাওয়ার মতো একটা ছবি হয়েছে। আশা করছি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পুরস্কারে ছবিটি অনেক দূর এগিয়ে থাকবে।

আর অভিনয়?

উপস্থাপনায় তো এসেছি ‘হাইপ’ তোলার জন্য। হাইপ তোলা শেষে আসল জায়গায় ফিরে যাব। অভিনয়টাই তো করতে চাই। মাসের ১৫ দিন শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই। ধরে নিলাম, উপস্থাপনায় এখন আমার রাজত্ব চলছে। কিন্তু রাজা কত বছরের জন্য আসেন? দুই, তিন বা পাঁচ বছর! নতুন একটা ছবি সাইন করেছি এই রবিবার—বুলবুল জিলানির ‘রৌদ্রছায়া’।


 


মন্তব্য