kalerkantho

কালো জাদু

বৈচিত্র্যময় সব ওয়েব সিরিজ এনে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে ‘নেটফ্লিক্স’। তাদের নতুন উপহার ‘ডার্ক’-এ মজে আছে সারা দুনিয়ার তরুণরা। তা দেখে নিজের মুগ্ধতার কথা লিখেছেন হাসিবুল হোসেন শান্ত

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কালো জাদু

কোথা থেকে শুরু করব? ১৯৫৩? ১৯৮৬? নাকি ২০১৯? নাম শুনে কিংবা পোস্টার দেখে হরর হরর একটা গন্ধ লাগলেও আসলে এটা তা নয়। হ্যাঁ, বাচ্চা হারিয়ে যায়, কিন্তু এটা ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ টাইপও না। ‘ডার্ক’ দেখতে গিয়ে আপনি মুগ্ধ হবেন না আসলে, এটা আক্ষরিক অর্থে আপনার মগজটাকে নাড়িয়ে দেবে। একবার ভাবুন তো, আপনি আপনার মা-বাবার ছোটবেলায় গেছেন। দেখতে পাচ্ছেন তাঁদের কিভাবে প্রেম হয়! আপনি চাইলে সেখানে বাধাও দিতে পারেন। না, ‘ইনসেপশন’-এর মতো স্বপ্ন বা কল্পনা নয়। সত্যি সত্যি এটা হচ্ছে। শুরু হয় জার্মানির একটা শহর উইন্ডেনকে ঘিরে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে।

১৯৮৬ সালে দুটি ছেলে হারিয়ে যায়। এটা ছাড়া গত ৩৩ বছরে এই শহরে অদ্ভুত কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব কিছু স্বাভাবিক, এমন সময় ঠিক ৩৩ বছর পরে একই দিনে ঘটনা দুটির পুনরাবৃত্তি হয়। দুই দিনে দুটি ছেলে উধাও। এদিকে একটা লোক আত্মহত্যা করে, আর একটা চিঠি রেখে যায়। খামে লেখা ‘ডু নট ওপেন বিফোর ৪ নভেম্বর, ১০ : ১৩’। সত্যি বলতে, এখান থেকেই গল্পের শুরু। গল্প না আসলে, ঘোরের শুরু। প্রশ্ন ‘কিভাবে’ বা ‘কোথায়’ নয়, প্রশ্নটা হলো ‘কখন’? আরো একটু বললে, নোয়া চরিত্রটা আসলে কে? বাকিটা দেখলেই বুঝে যাবেন। দশ পর্বের এই সিরিজটি এককথায় দুর্দান্ত। শুরু করলেন তো দশ ঘণ্টা চলে গেল! সিরিজটির সবচেয়ে ভালো দিক? টাইম ট্রাভেলটা এত অসাধারণভাবে দেখানো হয়েছে যে সপ্তম পর্ব দেখার পর রীতিমতো ব্ল্যাক হোল থিওরি আর টাইম ট্রাভেলের খুঁটিনাটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম। গল্পটায় অনেক বেশি নতুনত্ব, কোনো চরিত্রের খুঁত ধরা যাচ্ছিল না। কাস্টিংটা একেবারে পারফেক্ট। একটা খারাপ দিকও আছে। খারাপ মানে ভয়ংকর খারাপ। এত বেশি চরিত্র যে মাঝে পজ করে আঙুল নেড়ে নেড়ে সমীকরণ মেলাতে হয়েছে—ও আচ্ছা, এটা তাহলে এর বউ, ও তাহলে অমুকের প্রেমিকা।

সিনেমাটোগ্রাফি আর সাউন্ডট্র্যাকটা নিয়ে একটা কথা না বললেই নয়। প্রতিটি দৃশ্য, বিশ্বাস করুন, সাউন্ডট্র্যাকগুলো এতটাই দুর্দান্ত যে বেশির ভাগ পর্বের এন্ড ক্রেডিটে পর্যন্ত তাকিয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, যতক্ষণ মিউজিকটা চলবে ততক্ষণ ঘোরও চলবে। আরেকটা ব্যাপার, ভাষা যেহেতু জার্মান, পারফেক্ট ফিলটা পাওয়ার জন্য অনেকে হয়তো সাবটাইটেল দিয়ে মূল ভাষায়ই দেখতে বসবেন। আমি দুটি দিয়েই চেষ্টা করেছি। ইংরেজিটা ডাব হলেও সাউন্ডট্র্যাকে একটুও খুঁত পাবেন না, কিংবা খারাপ লাগবে না। বরং ইংরেজিতে সংলাপগুলো শুনতেই বেশি ভালো লাগবে। এটা ব্যক্তিগত অভিমত। যার যার অভ্যাস অনুযায়ী দেখাটাই ভালো। সব শেষে একবাক্যে বললে, দিস সিরিজ মেইড মাই উইন্টার! আমি চাই এটার সেকেন্ড সিজন না হোক। এক সিজনেই যা করল, এখান থেকে বের হতে সময় লাগবে।

লেখকের ফেসবুক থেকে

ফ্যাক্টস
* নেটফ্লিক্সের প্রথম জার্মান সিরিজ।

* বেশির ভাগ আউটডোর শুটিং হয়েছে বার্লিনের কাছের একটি জায়গায়, যা আগে ছিল জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক সেনাবাহিনীর মহড়া এলাকা।

* ২০ ডিসেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের ঘোষণা দিয়েছে নেটফ্লিক্স।


মন্তব্য