kalerkantho


‘পুত্র’ লাজিম

৫ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে সরকারি অনুদানের শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘পুত্র’। এতে অটিস্টিক শিশুর ভূমিকায় প্রশংসিত হয়েছে ফাহিম মুহ্তাসিম ফারুক লাজিম। তাকে নিয়ে লিখেছেন আতিফ আতাউর। ছবি তুলেছেন শুভ্র কান্তি দাশ

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘পুত্র’ লাজিম

লাজিমের মা হাসনা আরা আকতারের স্বপ্ন ছিল অভিনয় করার। কিন্তু তাঁর মা কিছুতেই চাননি মেয়ে অভিনয় করুক। মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বড় ছেলে লাজিমের মধ্যেই নিজের অধরা স্বপ্নটা লালনের চেষ্টা। সেই চেষ্টার ফসল ‘পুত্র’। ছবিতে লাজিম অটিস্টিক শিশু, যে গান শুনতে ভীষণ ভালোবাসে। যা-ই করুক না কেন, গান শুনতে দিলে একেবারেই শান্ত।

এটাই লাজিমের প্রথম ছবি। এর আগে কুড়িটির বেশি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গার ফ্রিজ, গ্রামীণফোন, প্রাণ নুডুলস, প্রাণ জুস, ডুডুলস স্টিক নুডুলস, সিমসিম বিস্কুট, আরএফএল বাথরুম ফিটিংস। শোবিজে আসার গল্পটা বলল লাজিম নিজেই, ‘এক মিডিয়া এজেন্সিতে কাজ করেন আমার এক চাচ্চু। সেখানে ছবি জমা দিই। এরপর প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই সিঙ্গারের বিলবোর্ড বিজ্ঞাপনে। আর টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্রে প্রথম কাজ করি প্রাণের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে।’

বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় সিনেমাটোগ্রাফার নাভীদ খান চৌধুরীর সঙ্গে। তিনিই লাজিমকে ‘পুত্র’তে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। ‘পুত্র’র সিনেমাটোগ্রাফারও তিনি। নাভীদ খান বলেন, ‘পরিচালক সাইফুল ইসলাম মান্নু যখন ছবির জন্য শিশুশিল্পী খুঁজছিলেন, তখন লাজিমকে সাজেস্ট করি। কারণ এই চরিত্রে দরকার ধীরস্থির এক শিশুশিল্পী, যেটা লাজিমের মধ্যে আছে। ও অনেক পরিশ্রম করেছে ছবিটার জন্য।’

তা কেমন পরিশ্রম করলে, লাজিম? “শুটিংয়ের আগে চরিত্রটা ঠিকমতো বুঝতে গিয়েছিলাম অটিস্টিক শিশুদের স্কুল ‘স্কুল ফর গিফটেড চিলড্রেন’-এ। ওদের সঙ্গে এক দিন থেকেছি। ওদের সঙ্গে মিশেছি। ওদের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ওরা কখনোই আই কন্টাক্ট করে না। এ জন্য হঠাত্ করে ওদের বুঝে ওঠা যায় না। স্কুলের অধ্যক্ষ মারুফা ম্যাডাম আমাকে সাহায্য করেন।”

ধানমণ্ডির সিদ্দিকিস ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে লাজিম। ছবির জন্য সাহায্য করেছে তারাও, ‘ছবির জন্য চুল বড় রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের স্কুলে বড় চুল রাখার নিয়ম নেই। আমার অভিনয়ের কথা জেনে চুল বড় রাখার অনুমতি দিয়েছেন শিক্ষকরা। শুটিংয়ের জন্য ছুটিও দিয়েছেন।’

ছবিতে লাজিমের সঙ্গে অভিনয় করেছে ছোট ভাই ফাইয়াদ মুহ্তাসিম ফারুক তাসিনও। এতে নাকি বেশ ভালোই হয়েছে, ‘আমি অটিস্টিক শিশু হলেও ছবিতে তাসিন স্বাভাবিক শিশু। ও থাকায় অভিনয়ে অনেক ভরসা পেয়েছি।’

বাবা ওমর ফারুক থাকেন আমেরিকায়। ছেলের ছবি মুক্তির খবরে দারুণ উত্তেজিত তিনি। মুক্তির পর প্রতিদিন খোঁজ নিয়েছেন। উত্সাহ দিয়েছেন আরো ভালো করার।

অভিনয়ে কোনো বিশেষ লক্ষ্য নেই লাজিমের। পড়াশোনার পাশাপাশি যতখানি অভিনয় করা যায়। বাকিটা পরে দেখা যাবে। পড়াশোনা শেষে মায়ের স্বপ্নপূরণের জোর চেষ্টা চালাবে বলেও জানাল।


মন্তব্য