kalerkantho


আলোচনায় কাসেম বিন আবুবাকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ এপ্রিল, ২০১৭ ১৮:০০



আলোচনায় কাসেম বিন আবুবাকার

শহুরে অনেক মানুষই কাসেম বিন আবুবাকার নামে সাহিত্যিককে চেনেন না। যদিও দেশের এ বিশিষ্ট সাহিত্যিকের অসংখ্য বই বিক্রি হয় বড় লাইব্রেরির পাশাপাশি রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও ফুটপাথের হকারদের হাতে হাতে।

আর এ কারণে তার বইয়ের পাঠক ছড়িয়ে রয়েছে সারা দেশে। মূলত সারা দেশের সাধারণ মানুষই তার বইয়ের পাঠক। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এএফপিও কাসেম বিন আবুবাকারকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে।
কাসেম বিন আবুবাকার লেখালেখি শুরু করেন ৭০ দশকে। তিনি জানান, সে সময় বইয়ের দোকানগুলোতে যেসব বই পাওয়া যায় তার সবই ছিল আধুনিক জীবনযাপনকারী ব্যক্তিদের কথা। এ সময়ে তিনি গ্রামের ধর্মভীরু ও সাধারণ মানুষের জন্য লেখা ধর্ম অনুপ্রাণিত উপন্যাস লেখা শুরু করেন। তার বইতে উঠে আসে ইসলাম ধর্মের নানা মূল্যবোধ ও বিশ্বাস। বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মাবলম্বী বহু মানুষেরাই তার বই যেন লুফে নেয়। তার চরিত্রেরা ধর্মের কথা বলে। নারীরা বোরখা পরে। পালন করে বহু ধর্মীয় আচার-আচরণ।
তবে ধর্ম অনুপ্রাণিত এ ধরনের উপন্যাস প্রকাশ করা সহজ ছিল না। কাসেম বিন আবুবাকার জানান, বই প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথমেই হোচট খেতে হয় তাকে। তার উপন্যাস যেন ‘মোল্লাদের উপন্যাস’। আর এ কারণে প্রথম যখন তিনি বই প্রকাশ করতে যান তখন অনেকেই বলেছিলেন, এ বই বিক্রি হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত যখন তার বই প্রকাশিত হয় তখন সবাই নতুন করে যেন তার দিকে ফিরে তাকায়। এরপর বই প্রকাশ করে যথেষ্ট অর্থও কামাতে থাকেন তিনি।
বাস কিংবা ট্রেনযাত্রী, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র, গ্রামের সাধারণ মানুষ ও তরুণ-তরুণী সবাই যেন কাসেম বিন আবুবাকারের বই পড়তে থাকে। তার কোনো কোনো বই ৩০বার পর্যন্ত পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়।



কাসেম বিন আবুবাকারের উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্র নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় অধিকাংশ সময়েই মনে রাখে। আর তাদের আচার-আচরণেও প্রায়ই উঠে আসে সে পরিচয়। এ বিষয়টিকে তিনি স্বীকার করেছেন তার প্রথম বই ফুটন্ত গোলাপের ভূমিকায়। তিনি সেখানে লিখেছেন, ‘বর্তমান সমাজের চরম অবনতি উপলব্ধি করে এই কাহিনী লেখার প্রেরণা পেয়েছি। আমার মনে হয়েছে এভঅবে যদি দিন দিন আমার প্রগতি ও নারী স্বাধীনতার নাম দিয়ে চলতে থাকি, তা হলে ইসলাম থেকে সমাজের মানুষ বহুদূরে চলে যাবে। শুধু মুখে ,কেতাবে ও মুষ্টিমেয় লোকের কাছে ছাড়া অন্য কোথাও ইসলামের নাম গন্ধ থাকবে না। ’
তিনি লিখেছেন, ‘যদি এই বাস্তবধর্মী উপন্যাসটি পড়ে বর্তমান যুব সমাজ সামান্যতমও জ্ঞান লাভ করে সেইমতো চলার প্রেরণা পায়, তবে নিজেকে ধন্য মনে করব। ’
অনলাইনে কাসেম বিন আবুবাকারের শতাধিক বই রয়েছে বিক্রির জন্য। এগুলোর মধ্যে ফুটন্ত গোলাপ, বিদায় বেলায়, প্রেম যেন এক সোনার হরিণ, মেঘলা আকাশ, বিকেলে ভোরের ফুল, জানি তুমি আসবে, স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটি, তোমার প্রত্যাশায়, স্বর্ণ তুমি, শরিফা, সংসার সুখের হয় রমনীর গুণি, ফুলের কাঁটা, শরীফা, শ্রাবণী, বহুরূপিনী, মনের মতো মন, কালো মেয়ে, অবশেষে মিলন, রাগ-অনুরাগ, কেউ ভোলে কেউ ভোলে না, ধনীর দুলালী, তোমারই জন্য, হৃদয়ে আঁকা ছবি, কে ডাকে তোমায়, আগুনের মানব, বিদেশী মেম, ভালোবাসি তোমাকেই, বাসর রাত, সংসার, আমিও মানুষ, সে কোন বনের হরিণ, যেখানে কেউ নেই, প্রেমের পরশ, অমর প্রেম, ফেরারি প্রেমিকা, কামিনী কাঞ্চন, পলাতকা, প্রেম, বড় কে, ভালোবাসার নিমন্ত্রণ, প্রেম ও স্বপ্ন, জোনাকির আলো, ক্ষমা, চাওয়া পাওয়া, একদিন অপরাহ্নে, শেষ উপহার, একটি ভ্রমর পাঁচটি ফুল উল্লেখযোগ্য।
১৯৮৬ সালে কাসেম বিন আবুবাকারের প্রথম উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। এরপর তার বহু বই প্রকাশিত হয়েছে। বেশ কিছু বই বহুবার পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে। তার এমন এক পাঠকশ্রেণী গড়ে উঠেছে, যাদের অস্তিত্ব অন্য কেউ টের পাননি।


মন্তব্য